অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। যদিও শারীরিক দুর্বলতা কিছুটা রয়েছে। অবশ্য সাকিব আল হাসান অসুস্থতার কারণে আলোচনায় আসেননি। হঠাৎ করেই তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন! বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার একেবারেই যে টেস্ট খেলবেন না, তা কিন্তু নয়। ৬ মাসের জন্য তিনি লংর্গার ভার্সন থেকে দূরে থাকতে চান। তবে এই সময়টা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলা চালিয়ে যাবেন। সাকিবের এই টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার সংবাদ শোনার পর থেকেই চায়ের টেবিলে ঝড় উঠেছে। হঠাৎ করে তিনি কেন বিশ্রাম চাইছেনÑ সমর্থকদের মনে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এমনকি সাকিবের এই বিশ্রাম চাওয়ার পেছনে কেউ কেউ ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধও খুঁজে পাচ্ছেন!সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ। গতকাল প্রথম দুই টেস্টের জন্য বাংলাদেশের ১৫ সদস্যর দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। আগেই নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে, টেস্ট দলে থাকছেন না সাকিব। প্রত্যাশিতভাবেই তাই মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ঘোষিত দলে ছিলেন না তিনি। তবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের জন্য দরজা খোলা রেখেছেন নির্বাচকরা। যদি সাকিব চান তা হলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেই ফিরতে পারবেন তিনি। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেন, ‘আমরা একটা অপশন রাখছি। যদি ও (সাকিব) চায়, তা হলে দ্বিতীয় টেস্টের দলে ফিরতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে স্কোয়াডে যোগ হবে। তার পর যা করণীয় তা আমরা করব।’
১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে উড়াল দেবেন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। যেহেতু টেস্টের দলে নেই, তাই সাকিব যাচ্ছেন না মুশফিক-তামিমদের সঙ্গে। মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘না, টেস্ট দলের সঙ্গে ও (সাকিব) যাচ্ছে না।’ প্রধান নির্বাচক এটিও বলছেন যে, সাকিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি দলে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে। কেননা তিনি তো একাই দুজন খেলোয়াড়ের কাজ করেন! ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই দলে অবদান রাখেন। মিনহাজুল আবেদীন বলেন, ‘সাকিব ছুটি চেয়েছে। বোর্ড তা মঞ্জুর করেছে। আমি মনে করি, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ওকে না পাওয়ায় টিম ব্যাকফুটে থাকবে।’বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের নাম। টেস্টে বাংলাদেশের দুই স্মরণীয় জয়ের নায়কও তিনি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের হাত ধরেই টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া প্রথম টেস্ট জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সাকিবের অনুপস্থিতি দল ভালোই টের পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে! তবে প্রধান নির্বাচক কিছুটা আশাবাদীও। তাই তো তার ধারণা সাকিব হয়তো তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও করতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট দিয়েই ‘স্বেচ্ছা নির্বাসন’ থেকে ফিরতে পারেন। আর সে ভাবনা থেকেই তার জন্য সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দরজা খোলা রাখা হয়েছে, ‘সাকিব চাইলে যে কোনো সময় দলে ইন করতে পারবে।’ বলেছেন প্রধান নির্বাচক।টেস্ট ক্রিকেট থেকে সাকিব ৬ মাসের বিশ্রাম চেয়েছেন। গত শনিবার রাত থেকেই এমন সংবাদ চাউর হয়। ঘটনার সত্যতা জানতে রবিবার বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সাকিব নিজেও তার ফোন রিসিভ করেননি। গতকাল আকরাম খান সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেন। তিনি বলেন, ‘সাকিব গতকাল (রবিবার) সিইওকে চিঠি দিয়েছে। সে টেস্ট থেকে ৬ মাসের ছুটি চায়। আজ (গতকাল) প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ছোট একটা মিটিং হয়েছে। ওর ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। সে কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ঘোষিত দলে ওকে রাখা হচ্ছে না। তবে সে চাইলে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে পারবে।’হঠাৎ করেই সাকিবের এই বিশ্রাম চাওয়ার পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কিনাÑ এমন প্রশ্নে আকরাম খান অবশ্য বলছেন, ‘না’। তার মতে, সাকিব মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত। আর এই ক্লান্তি দূর করতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাকিব ৬ মাসের জন্য ছুটি চেয়েছেন। এ সময়ে সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ মোট চারটি টেস্ট খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি। ডিসেম্বরে শ্রীলকার বাংলাদেশ সফরে দুটি। আকরাম খান বলেন, ‘এটি তো সত্যি, ও অনেক বেশি ক্রিকেট খেলছে। সে কারণে একটা বিশ্রাম পেয়েছে। ওর চাওয়া অনুযায়ী ৬ মাসের নয়, আপাতত দুই টেস্টের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সাকিবের চিঠির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’সাকিবের অভিষেকের পর একবারই (২০০৮) দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গেছে বাংলাদেশ দল। সে সিরিজ থেকে দলের প্রাপ্তি না থাকলেও ব্যক্তিগত সুখস্মৃতি রয়েছে সাকিবের। বল হাতে গড়েছিলেন কীর্তি। দুই টেস্টে পর পর দুই ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫ ও ৬ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকায় শেন ওয়ার্ন ও অনিল কুম্বলের মতো স্পিনারেরও টানা দুই ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার এই কীর্তি নেই। শ্রীলংকার মুত্তিয়া মুরালিধরনের আছে মাত্র একবার। ৯ বছর পর আবারও দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। তবে এবার সে দলে (টেস্ট) থাকছেন না ‘ভিনগ্রহের’ ক্রিকেটার!প্রসঙ্গত, ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ২০০৭ সালে টেস্ট অভিষেক হয় সাকিবের। তার অভিষেকের পর বাংলাদেশ যে ৫৮ টেস্ট খেলেছে তার ৫১টিতেই ছিলেন সাকিব। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের (২০০৮) দুই সিরিজের ৩টি টেস্টে বাদ পড়েছিলেন। এর পর পারফরম্যান্সের কারণে আর কখনো দল থেকে বাদ পড়েননি। পায়ের চোটের কারণে ২০১৩ সালে শ্রীলংকা সফরে যেতে পারেননি। ‘অসদাচরণে’র জন্য ৬ মাস নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে পরের বছর যাওয়া হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
স/এষ্