সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে নারীসহ গ্রেফতার-৭
ফরিদপুর ব্যুরো: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে নারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
বুধবার (১৩ অক্টোবর) রাতে পৌরসভার বাকাইল এতিমখানা মাদরাসা এলাকা থেকে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাদের আটক করে।
এ সময় তাদের বহনকারী একটি নোয়া গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঢ-১৬-৩৪৫৭), ক্যামেরা, পাঁচটি মোবাইল ফোন, চার্জার, দৈনিক প্রথম বেলা, দৈনিক বিজয় বাংলা, দৈনিক নাগরিক ভাবনাসহ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার একাধিক ভূয়া পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) জব্দ করা হয়।
আটকরা হলেন- রাকিবুল হায়দার, রেজাউল করিম খান, আরাফাত হোসেন, শামীম হোসেন, গাড়ির ড্রাইভার আতাউর রহমান, জীবনী ও সোমা পারভিন।
তারা গাজীপুর, নোয়াখালী, জামালপুর ও শেরপুরের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে উপজেলার ইউসুবেরবাগ মাদরাসা ও এতিমখানায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে এমন অভিযোগ তোলেন।
এমন অভিযোগ নিয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষকে জানান যে তারা সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে অডিট করার জন্য এসেছেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়। ‘অডিট করার বিল’ বাবদ তারা নগদ তিন হাজার টাকাও নেন। আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন, যা দুই দিনের মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়।
একই কায়দায় উপজেলার পৌরসভার বাকাইল এতিমখানা মাদরাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ হাফেজ মো. ইদ্রিস আলীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে টাকা হাতানোর চেষ্টা করে। বিষয়টিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিক তারা স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের জানান। এ সময় তাদের আইডি কার্ড যাচাই করে দেখা যায় যে, সেগুলো ভুয়া।
তারা অবৈধ অর্থ লাভের উদ্দেশে ঢাকা থেকে আলফাডাঙ্গায় এসে বিভিন্ন মাদরাসায় প্রতারণা করে টাকা দাবি করছেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকরা পুলিশকে খবর দিলে রাতেই পুলিশ এসে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে ইউসুবেরবাগ গোরস্থান মাদরাসা ও এতিখানার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শরফুদ্দিন মোল্যা বাদী হয়ে আটকদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
স/এষ্

