ঢাকাসোমবার , ২২ মে ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

‘সাংবাদিক নির্যাতনের বৈধতা দিতে’ উপজেলার চেয়ারম্যান কিবরিয়ার কান্ড

admin
মে ২২, ২০১৭ ৮:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফলোআপ

খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: কিছুতেই থামছেনা ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি বিএইচ হারুনের মদদপুষ্ট ও কাঁঠালিয়াবাসীর কাছ মূর্তিমান আতংক উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার ও তার বাহিনীর স্বন্ত্রাসী কার্যক্রম। বিগত দিনে বড়ভাই মরহুম উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুখ সিকদারের ছোটভাই হিসাবে এই গোলাম কিবরিয়া সিকদার তার প্রধান সিপাহসালারের ভূমিকা পালন করলেও এখোন নিজেই উপজেলা চেয়ারম্যানের গদিতে বসে সকল দন্ডমন্ডের কর্তা হয়ে বসেছে। সম্প্রতি তার অনুগত একদল চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী-চাদাবাজ ও ভূমিদস্যুরা স্থানীয় নিরীহ সাংবাদিক এইচ এম বাদলেকে কাঠালিয়া বাজার থেকে ধরে উপজেলা পরিষদের মধ্যে আনলে সি নিজে ও তার দলবল লোহার রড-লাঠি দিয়ে নির্মম নির্যাতন করে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে কিবরিয়া সিকদার তার এ ‘সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে বৈধতা দিতে’ নেপথ্যে থেকে চাপ সৃষ্টি করে কাঠালিয়ার প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহলকে দিয়ে নির্যাতিত সাংবাদিক বাদলের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, মানব বন্ধন, বিবৃতি, স্মারকলিপি ও লিফলেট বিতরনে বাধ্য করছে বলে গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে কাঠালিয়ার সাংবাদিক এইচএম বাদলসহ ৪জনের বিরুদ্ধে মামলা থেরাপী চালানোর জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান কিবরিয়া চাপ সৃষ্টি করে সরকারি বিধি লংঘন করে ২৫টি সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দুটি মাদ্রাসা সুপারকে দিয়ে চাঁদাবাজীর অভিযোগ লিখিয়ে ও স্বাক্ষর করিয়ে নিজের হাতে রেখেছেন বলে অভিযোগে জানাগেছে।

কাঠালিয়া আওয়ামীলীগের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, বিনাভোটে নির্বাচিত কাঠালিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদারের একমাত্র কাজই হচ্ছে সন্ত্রাসী ও মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনাসহ সেবনে নিমগ্ন থাকা। বিগত ১০ বছরে আ’লীগের ক্ষমতার সাইনবোর্ড লাগিয়ে ও স্থানীয় এমপি বিএইচ হারুনসহ মরহুম বড়ভাই ফারুখ সিকদারের সর্বরকম সহযোগীতায় কাঠালিয়া উপজেলায় জুড়ে ফারুখ-কবির-কিবরিয়ার সিকদারের অপরাধের অভয়ারন্য গড়ে তোলে। মাদক বানিজ্য, পেশাদার অপরাধী, ভূমিদস্যুতা, নদীতে অবৈধ বালু উত্তেলনের চাঁদাবাজী, বিভিন্ন বেসরকারী স্কুল- কলেজের নিয়োগ বানিজ্যসহ রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শক্তিশালী এ সিন্ডিকেটকে একক ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

এ গুনধর উপজেলার চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদারের এসব কির্তিকলাপের সাথে কাঠালিয়ার তৃনমূল পর্যায় ও প্রকৃত আ’লীগের কোন সম্পর্ক নেই বা তার এহেন কুকর্মের সাথে দলের নেতাকর্মীদের কোন সম্পর্ক নেই। ইয়াবা ব্যবসায়ী জামাই মনির, হত্যা মামলার আসামী শহিদুল, ইয়াবা ব্যবসায়ী সেলিম হাং, ডাকাত পরিবারের সদস্য টেম্পু আনেচ, মনির খাঁ ওরফে গাজা মনির, ইয়াবার পাইকার এনাম কাজীসহ অর্ধশত দূর্বৃত্ত্ব সার্বক্ষনিক সহযোগী। এ সিন্ডিকেট ভূক্ত কিছু প্রাঃ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, চুরি-ডাকাতী, ছিনতাই সহ বহু মামলায় এজাহারসহ গ্রেপ্তারকৃত বিতর্কিত লোক ও কয়েক ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সাংবাদিক বাদলের বিরুদ্ধে মানব বন্ধন ও লিফলেট বিতরন সহ নানা কর্মসূচী পালন করাচ্ছে কিবরিয়া সিকদার। এমন কি নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েও চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার সাংবাদিক এইচ এম বাদলের বিচারের দাবীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেয়া স্মারকলিপি নিজেই গ্রহন করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।

কাঠালিয়া আওয়ামীলীগের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, সার্বক্ষনিক অপকর্মের নিমজ্জিত এই বিনাভোটের উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার এক সময় জাতীয় পাট্টির সাথে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তার মরহুম বড়ভাই ফারুক সিকদারের স্বার্থে থেকে ডিগবাজী দিয়ে আ’লীগে আসে। সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের নেতা একিবরিয়া সিকদার মাত্র কয়েক বছর পূর্বেও দক্ষিন বাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক ও আ’লীগের প্রান পুরুষ শিল্পমন্ত্রী আলহাজ্ব আমির হোসেন আমুকে কাঠালিয়া উপজেলায় অবাঞ্চিত ঘোষনা করে রাজনৈতিক দৃষ্ঠতা প্রকাশ করেছিল। এখোন আবার স্বাধীনতা বিরোধী, সবদলের রাজনৈতিক খোলস পাল্টানো ও নব্য আ’লীগ বিএইচ হারুন এমপির পিঠে ভর করে পেশীমক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ দখল করে কাঠালিয়ায় সন্ত্রাসের রাজত্ত্ব কায়েম করেছে।

প্রসঙ্গত, বনানীর হোটেল রেইট্রি’র ঘটনায় ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন সহ তার পুত্র হোটেল পরিচালক মাহির হারুনকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলে সাংবাদিক এইচএম বাদল একটি সংবাদে লাইক (পছন্দ) করেন। সেই অপরাধে ১৬ মে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার তার বাহিনীর সদস্যদের পাঠিয়ে ধরিয়ে উপজেলা পরিষদে আনে। সেখানে চেয়ারম্যান কিবরিয়া নিজে এক দফা চর-থাপ্পরসহ লাত্থি মেরে চলে গেলে তার ছায়া সঙ্গী ইয়াবা ব্যবসায়ী জামাই মনির, হত্যা মামলার আসামী শহিদুল, ইয়াবা ব্যবসায়ী সেলিম হাং, ডাকাত পরিবারের সদস্য টেম্পু আনেচ, মনির খাঁ ওরফে গাজা মনির, ইয়াবার পাইকার এনাম কাজীসহ ২০/২৫ জন লোহার রড ও লাঠি দিয়ে নির্মম ভাবে পিটিয়ে আহত করে।

স/এষ্