প্রিয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই ও বোনেরা,
শারদীয় শুভেচ্ছা জানবেন । শিশিরে মাখামাখি হয়ে ঝরে পড়া শিউলী ফুল কুড়াতে কুড়াতে শরতের স্নিগ্ধ হাওয়া গায়ে লাগতেই ‘দূর্গা পূজা’ এসে গেলো । আশাকরি বর্ষ পরিক্রমায় আপনাদের সবাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ন ও মূল্যবান ধর্মীয় অনুষ্ঠান “শারদীয় দূর্গা পূজা” উদযাপনে আপনাদের সাধ্যানুসারে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেছেন । নির্বিঘ্নে দূর্গতিনাশিনী মহামায়া “দূর্গা”র প্রতি সাড়ম্বরে আপনাদের সব ভালোবাসা মিশ্রিত অর্ঘ্য,প্রচলিত আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে অতীতের সকল ক্লেদাক্ত অধ্যায়ের শুদ্ধির প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নতুনভাবে অনাগত ভবিষ্যতের অনাবিল সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও শুভ কামনায় বিজয়ার পূণ্য স্রোতে অবগাহন করবেন,সেটাই আন্তরিকভাবে কামনা করি ।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীয্যের মাধ্যমে দেবীর আরাধনার সীমানা ছাড়িয়ে কালের বিবর্তনে “শারদীয় দূর্গোৎসব” অনেক আগেই সর্বজনীন হয়ে উঠেছে । সাম্য ও শান্তির বাণী নিয়ে যুগে যুগে মর্ত্যধামে আগমন অসুর বিনাশিনী শক্তিরুপে দেবী দূর্গার । দেবী বন্দনায় মূখরিত এখন সমগ্র বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস । অনুপম শিল্পকর্ম,পূরোহিতের পবিত্র মন্ত্র,ঢাক-কাসুরের সুর ঝংকার । মন্দিরে মন্দিরে চলছে সেই চিরায়ত সত্য-সুন্দর স্তোত্রপাঠ,যা দেবী সর্বভূতেষূ শক্তি রুপেন সংস্তিতা । “শক্তি” শব্দটি স্ত্রী-বাচক । শাস্ত্র ও পূরান মতে নারীমূর্তিকে মাতৃরুপে আরাধনা ও উপাসনা করা হয় । অনেকের ধারনা প্রকৃতপক্ষে তিনি নারী বা পুরুষ নন,মহাশক্তি । আর মহাশক্তির অংশ রুপিনী দেবী দূর্গা আপনাদের কাছে উমা,পার্বতী,চন্ডী,কাত্যয়নী সহ বিভিন্ন নামে আরাধ্য।
সনাতন ধর্মানুযায়ী দেবতা ও অসুরের দ্বন্দ সেই বিশ্ব সৃষ্টির শুরু থেকে এবং এখনো বিদ্যমান । দেবতা ও মানবকুলকে রক্ষা করতে মহাশক্তিময়ী দেবী “দূর্গা” পরাক্রমশালী অতি দানবীয় দৈত্যকূলকে একের পর এক নিধন করেছেন ।ব্রম্মার বরপ্রাপ্ত জুম্বাবুরের পুত্র মহিসাসুরকে বিনাশ করেছেন জগতের কল্যাণে । সে দেবীরই পূজায় নিবিষ্ট হিন্দু ধর্মানুসারীরা ।
অসুর নিধনের বিভিন্ন পর্যায়ে এক গভীর দার্শনিক তত্ব নিহিত রয়েছে । দেবী পূজা মাহাত্বে মধু কেটভ বধ পর্বে পরিলক্ষিত অতর্কিতে আসুরিক তৎপরতা,এটি তামসিক অহংকার । মহিষাসুর পর্বে উৎঘাটিত হচ্ছে প্রভূত্ব,আত্মম্ভরিতা ও পরাক্রম, এটা হলো রাজসিক অহংকার । শুম্ভ-নিশুম্ভ নিধন পর্বে আসরিক বৃত্তি-বুদ্ধি ও যুক্তি সম্মত রুপে প্রকাশিত । এভাবটা কিছুটা সংযত স্বাত্বিক অহংকার । আসরিক বৃত্তি গুলোকে সংযত করে নির্যাতিত- নিডীড়িত,শোষিত-বঞ্চিতদের রক্ষা করাই মূখ্যত: দূর্গা পূজার তাৎ পর্য ।
দূগা পুজা ও অন্যান্য পুজার দিনগুলোতে সরকারের তরফে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার জন্য যথেষ্ট তৎপরতা দেখানো হয় । বিভিন্ন মন্ত্রনালয়,বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা,জেলা-উপজেলা প্রশাসন নড়ে চড়ে বসে,যেন কোন দূস্কৃতিকারী বিন্দুমাত্র উৎপাত
না করতে পারে কিন্ত বছরের বাকী সময়ে ? তখন শত্রু বা অর্পিত সম্পত্তি আইনের উৎপীড়ন থেকে শুরু করে কত রকম যে ঝামেলা, তার শেষ নেই ।
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক,যৌক্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন । নানা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প নষ্ট করেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং উৎসবের আনন্দ । ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির তান্ডব দেখা গেছে । সাম্প্রদায়িক শক্তি আবারও সংগঠিত হচ্ছে । আর দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে । দ্রব্য মূল্যের উদ্ধগতি সাধারন মানুষের জন্য অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে । ক্ষমতাসীন শাসক ও ক্ষমতাচ্যুত শাসকের দ্বন্দে উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনীতি । চাঁদাবাজি,সন্ত্রাস টেন্ডারবাজি,ক্ষমতার অপব্যবহার কখনো কখনো অসুরদের নির্মমতাকেও হার মানিয়েছে।
তাই,এবারের “দূর্গা পূঁজা” হোক সাম্প্রদায়িক অপশক্তির রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক শেকড় উচ্ছেদ এবং গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মানের প্রেরনা
স/মা

