ঢাকাসোমবার , ২৯ আগস্ট ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

সংবিধান স্বাক্ষরকারী ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
আগস্ট ২৯, ২০২২ ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবিধান স্বাক্ষরকারী ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

পিয়াস আহমদ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, গণপরিষদ সদস্য ও সংবিধান স্বাক্ষরকারী ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে স্থাপিত ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করেছে।

 

বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ট্রাস্ট কার্যালয় থেকে একটি শোক র ্যালি বের হয়ে ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর ২য় ছেলে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান ও নাতি ক্যাপ্টেন আহমেদ সাদাব, নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ ফয়েজ আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বারহাট্টা সার্কেল মোহনগঞ্জ মোঃ সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সকাল ৯ টায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কার্যালয়ে ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে একটি শোক র ্যালি মোহনগঞ্জ কবরস্থানে শায়িত ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর কবরে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ মোনাজাত করেন।

এরপর মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কার্যালয়ে ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রেজোয়ান খান আর্নিকের সঞ্চালনায় ও ট্রাস্টের সভাপতি মীর্জা আঃ গণির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাজ্জাদুল হাসান।

এছাড়াও জেলার বিভিন্ন 

 

ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধাগণ, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বাবু প্রশান্ত কুমার রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর খান মিঠু, মোহনগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ লতিফুর রহমান রতন, নেত্রকোনা সদর, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, মদন, খালিয়াজুড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, মৎস্যজীবি লীগ ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দগণ, মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ এঁর বর্ণাঢ্য জীবন (১৯২৬-২০১২)ঃ

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধানে স্বাক্ষরকারী ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ ১৯২৬ সালের ১৫ অক্টোবর মোহনগঞ্জ থানার হাটনাইয়া (ছয়াশি) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- আহমেদ হোসাইন তালুকদার ছিলেন এলাকার একজন সম্ভ্রান্ত মানুষ। তিনি ঋণ সালিশী বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনামলে ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ স্কুল জীবনে পড়াশোনা করেছিলেন নেত্রকোনার আঞ্জুমান স্কুল ও ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুলে।

ইন্টারমিডিয়েট করেন আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহে। তিনি ডাক্তারী কোর্স এলএমএফ ময়মনসিংহ লিটন মেডিকেল স্কুলে শুরু করলেও পাশ করেন ঢাকার মিটফোর্ড মেডিকেল স্কুল থেকে। পরে তিনি MBBS Course সমাপ্ত করেন। তিনি স্কুল জীবনে থাকতেই ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধিকার আদায়ের অপরাপর আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়েন। তিনি ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত মেডিকেল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকুরি করেন তারপর চাকুরি ছেড়ে যুক্ত হন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে 

 

তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মোহনগঞ্জ-বারহাট্টা নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সাথে সাথেই তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অন্তর্গত তুরা জেলার অধীন মহেশখলা ইয়ুথ ক্যাম্পে যোগদান করেন। সেখানে ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ প্রথম দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের রিক্রটিং এর দায়িত্ব পালন করেন এবং স্মরণার্থীদের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল টিমের নেতৃত্ব দেন।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে মহেশখলা ইয়ুথ ক্যাম্পের ইনচার্জ ছিলেন ধর্মপাশা থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য আব্দুল হেকিম চৌধুরী পরে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরে দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ ছিলেন ইন-চার্জ। তিনি দীর্ঘসময় নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি সেনা নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন। মোহনগঞ্জে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচারে র আয়োজন করেছিলেন। তিনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও সাহিত্যপ্রেমী মানুষ। রবীন্দ্রনাথকে ভালবাসতেন এবং তিনি ডঃ শৈলজারঞ্জন মজুমদারকেও শ্রদ্ধা করতেন ।

 

সন্তানদের তিনি আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র মাননীয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান (শাহীন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, আপীল বিভাগে কর্মরত।
আরেক সু-সন্তান সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে সাঈদ হাসান সোহেল গ্রামীণ ফোনের জিএম। নাতিরাও ব্যারিস্টার, সামরিক অফিসার হিসেবে সুনামের সাথে কর্মরত। বাংলাদেশ সংবিধানে স্বাক্ষরকারী, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ও অনুকরণীয় এ মানুষটি ২০১২ সালের ২৮ আগস্ট ইন্তেকাল করেন।

তথ্যসূত্রঃ ভাষা আন্দোলনে নেত্রকোণাঃ জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটঃ 

স/বি