দীর্ঘ ৪৩ বছর পর আজ শনিবার পরীক্ষামূলকভাবে খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত চলাচলকারী ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস-২’ ট্রেন সার্ভিস চালু হচ্ছে। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে।
শনিবার বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে দুপুর ১২টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই ট্রেনের উদ্বোধন করবেন ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
খুলনা ও কলকাতা রেলস্টেশনে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর যাবতীয় অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে। বেনাপোল এবং পেট্রাপোলে নতুন করে অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও রেল পুলিশের জন্য কক্ষ নির্মাণ কাজও শেষ হয়েছে।
গত ১১ জানুয়ারি নড়াইলে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের কথা জানান।
এর আগে বেনাপোল রেলস্টেশন ভবনে কাস্টমস, বন্দর ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমানও একই কথা জানিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক ট্রান্স-এশিয়ান রেলরুটে অন্তর্ভুক্ত হবে বাংলাদেশ। এতে রেলপথে পণ্য আমদানি-রফতানির সুবিধাসহ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বৃদ্ধি পাবে।
এর আগে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকা-কলকাতা রুটে প্রথমবারের মতো মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের আগে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ও ভারতের মধ্যে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালু ছিল। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কয়েকদিনের জন্য এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার চালু হলেও ১৯৭৪ সালে লোকসানের কারণে রুটটিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
স/নিপা

