শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তাকে বরখাস্ত করে নতুন মন্ত্রী নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সাংসদ জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি জানান জাতীয় পার্টির সাবেক এ মহাসচিব।
জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলুর বক্তব্যের শেষে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিয়ই বিষয়টি শুনেছেন, তার বিবেক-বিচেনায় জাতির স্বার্থে যা করার দরকার তিনি অবশ্যই করবেন।
জিয়া উদ্দিন বাবলু বলেন, প্রশ্নফাঁস মহামারী আকার ধারণ করছে। নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছিল_প্রশ্নফাঁসকারীকে ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। অথচ আজ তুষার শুব্র নামে একটা সাইডে বলা হয়েছে ইংরেজি প্রশ্ন আছে, সংগ্রহ করতে এত টাকা লাগবে?
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনেক উন্নয়ন হয়েছে হচ্ছে। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। মাত্র কয়েক বছরে আমাদের অনেক অর্জন হয়েছে। কিন্তু আগামী প্রজন্মকে সত্যিকার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে, শুধু সনদ বিক্রির জন্য যদি শিক্ষিত করি তাহলে তো কিছুই শেখবে না। এ শিক্ষা অর্থহীন। আমরা আগামীতে কাদের হাতে দেশ দিয়ে যাব। শিক্ষিত সমাজ ছাড়া সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। আমরা চাই সত্যিকার শিক্ষা। প্রধানমন্ত্রী চান জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, আমরাও চাই জ্ঞানভিত্তিক সমাজ।
বাবলু বলেন, কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা অধিদফতরের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন আপনারা ঘুষ খান সহনীয় পর্যায়ে। আমিও ঘুষ খাই, অন্য মন্ত্রীরাও ঘুষ খান। এটা বলার পরে উনি মন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারেন? আর একজন মন্ত্রী একথা বলতে পারেন? এটা যখন ছাত্ররা শুনবে মন্ত্রী বলছেন সহনীয় পর্যায়ে ঘুষ খেতে, তাহলে প্রশ্নফাঁস ঠেকাবেন কীভাবে। উনার উচিত ছিল সেদিনই পদত্যাগ করা। প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করছি।
স/এষ্

