মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গলদা চিড়িংর রেণুসহ ভূয়া কোষ্টগার্ড সদস্যসহ ৩ ব্যক্তিকে আটক করেছে মাওয়া কোষ্টগার্ড। শিমুলিয়া ফেরি ঘাট হতে শুক্রবার ভোর রাত ৪টার দিকে ৭৩টি ড্রামে ১৫ লাখ পিছ রেনুসহ তাদের আটক করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৭৫ লাখ টাকা।
কোষ্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাওয়া কোষ্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার আব্দুল জলিলের নের্তত্বে কোষ্টগার্ডের একটি দল শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে ওৎ ফেতে থাকে। ভোর চারটার দিকে ৩ নং ফেরি ঘাটের কাছে দক্ষিনবঙ্গগামী একটি ট্রাকে ৭৩টি ড্রাম ভর্তি নিষিদ্ধ গলদা চিড়িংর রেণু আটক করে। এ সময় দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার অপসাংবাদিক মো. রুবেল ইসলাম (৩১) নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কোষ্টগার্ডের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দিতে বলে। সাদা পোশাকে থাকা কোষ্টগার্ড সদস্যদের পরিচয় জানতে পেরে রুবেল ইসলাম তাহমিদ কথা ঘুরিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দিতে বলে বার বার। এ সময় কোষ্টগার্ড সদস্যরা তাকে আটক করে। একই সাথে ট্রাকের চালক মো. রাশেদ (২৫) ও শ্রমিক আমজাদ হোসেন (৫৫)- কেও আটক করা হয়।
কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আব্দুল জলিল জানান, রুবেল রেনু পোনা পাচার চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তাছাড়া তার কাছ হতে দু’টি জাতীয় পরিচয় পত্র, বেশ কয়েকটি ন্যশনাল পত্রিকার প্রেস কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া নাম্বার প্লেট ও কাগজপত্র বিহীন একটি মোটর সাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। পাচার কাজে ব্যবহারের জন্য ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। মো. রুবেল ইসলামের বিরুদ্ধে লৌহজং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসানের উপস্থিতিতে গলদা চিড়িং রেণুগুলো শিমুলিয়া ঘাটের কাছের পদ্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য মো. রুবেল ইসলাম লৌহজংয়ের দক্ষিন মেদিনী মন্ডল গ্রামের মৃত কলিমুদ্দিন রাঢ়ীর পুত্র। সে দীর্ঘদিন যাবৎ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিমুলিয়া ফেরি ঘাট ও মাওয়া মৎস্য আড়তসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজী করে আসছিল। কোষ্টগার্ডের পরিচয়েও মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট থেকেও চাদাবাজী করছিল। স্থানীয় সাংবাদিকরা তার এ রকম আচরনে বিব্রত ছিল। রুবেলের আটকের খবরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে শস্তি ফিরে এসেছে।
স/এষ্

