এ.কে.আজাদ (জেলা প্রতিনিধি) লক্ষ্মীপুর :
প্রথমবার দেখেই হতবাক হয়ে যাবেন যে কেউ। মনে করবেন, নিশ্চয়ই ছেলেটা মজা করে রিকশা চালাচ্ছে। ইস্ত্রি করা শার্ট, তার সঙ্গে মানানসই প্যান্ট, চকচকে পালিশ করা সু-টাই আর চশমা ও বাদ যায়নি। এভাবেই একদম সাহেব হয়ে লক্ষ্মীপুরের রাস্তায় রিকশা চালান মো. ফারুক (৩০)। স্থানীয়দের দৃষ্টিতে তিনি ‘স্মার্ট’ রিকশাচালক। ফ্যাশনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি শুদ্ধ বাংলায় কথা বলার চেষ্টাও করেন। তার বুদ্ধিমত্তা ও আচরণে মুগ্ধ হন সবাই। তাই অধিকাংশ যাত্রীর কাছ থেকেই পান বাড়তি ভাড়া। ফারুক লক্ষ্মীপুরের পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়-লেখাা করেছেন বলে জানা গেছে। এরপর অভাবের কারণে তার আর লেখাপড়া করা হয়নি। বর্তমানে বাবা-মা, স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। ফারুক জানান, বহুদিন একটি অফিসে সামান্য বেতনের চাকরি করেছেন। এরপর গত এক বছর ধরে লক্ষ্মীপুর শহর ও এর পাশ্ববর্তী এলাকায় রিকশা চালান তিনি। স্মার্ট হয়ে রিকশা চালানোতে তিনি সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই শখ করে আমার রিকশায় ঘুরে বেড়ায়, আমার সাথে সেলফি তোলে, চা খাওয়ায়। আমার বেশ ভালো লাগে। এছাড়া অনেকেই আমার আচরণে খুশি হয়ে ২০টাকার ভাড়া ৫০০ টাকাও দিয়ে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমার আটটা প্যান্ট, আটটা শার্ট, তিন জোড়া জুতো, তিনটি টাই আর শীতে ব্যবহারের জন্য দুটো ব্লেজার আছে। এসব আমি রিকশা চালিয়ে রোজগারের টাকা দিয়েই কিনেছি।’ স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্র শাকিল ও জামাল জানান, ফারুক বাড়তি টাকার জন্য কখনও কাউকে চাপ দেন না। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই তাকে নিজে থেকে বেশি ভাড়া দেন। ফারুক বলেন, ‘মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুন্দর করে সাজানো হয়। একইভাবে আমিও দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পরিপাটি হয়ে রিকশা চালাতে বের হই। এতে করে একই সাথে দুটো লাভ হয়, প্রথমত যাত্রী ও ভাড়া বেশি পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত মন ও শরীরও ভালো থাকে। লক্ষ্মীপুর শহরের স্মাট ড্রাইভার ফারুকের রিকশা চলে কিস্তিতে। এক বছরের কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা মূল্যে রিকশাটি ক্রয় করেন তিনি। নগদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৪০ হাজারের জন্য প্রতিমাসের কিস্তির নিদিষ্ট পরিমান টাকা পরিশোধ করতে হয় তাকে। এছাড়াও ফ্লাট বাড়ীর ভাড়া ৫ হাজার টাকা, সংসার খরচ, হাত খরচ, গ্যাস, পানি, বিদুৎ বিলসহ প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যায় করতে হয় ফারুককে। স্থানীয়রা জানায়, ফারুকের রিকশা চালানোর ধরন দেখে সবাই বিস্মিত, সে দৈনিক ৫/৬ ঘন্টা রিকশা চালায়। প্রথমে এলাকাবাসী তাকে নিয়ে হাস্যরস করতো। তবে স্মাট রিকশা চালকের বাড়তি আয় দেখে এখন সবাই খুশি।
স/এষ্

