হাইকোর্টের নির্দেশ থাকার পরও এক শিক্ষার্থীকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। মঙ্গলবার ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।
সারোয়ার জাহান নামের ওই শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০১৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পান। কিন্তু বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেননি প্রয়োজনীয় নম্বর না থাকার কারণে। এ জন্য ২০১৭ সালে তিনি মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছেন।
সারোয়ার আরো জানান, শিক্ষাবোর্ডে মানোন্নয়ন পরীক্ষার জন্য তিনি যোগাযোগ করলে বোর্ড জানায়, ‘যেহেতু তিনি সর্বোচ্চ ফল (এ প্লাস) পেয়েছেন সেহেতু তিনি আর মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারবেন না।’ বোর্ডের বিরুদ্ধে সারোয়ার তখন হাইকোর্টে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি রিট করেন।
২৪ জানুয়ারি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাবোর্ডের পূর্বের নীতিমালা স্থগিত করে দিয়ে তাকে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য হাইকোর্টের বেঞ্চ আদেশ প্রদান করেন।
সারোয়ারের অভিযোগ, তিনি রিটের আদেশের কপি নিয়ে শিক্ষাবোর্ডে বারবার ধর্না দিলেও বোর্ড তাকে পরীক্ষার সুযোগ না দিয়ে টালবাহানা করছে। এদিকে তার পরীক্ষার সময়ও এগিয়ে আসছে। আগামী ২ এপ্রিল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু বোর্ড এখনো তাকে অনুমতি না দেয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় হাইকোর্টের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, এটি একটি অভিনব ঘটনা। এর আগে দেশে এমন ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে রাজশাহী বোর্ড এককভাবে সিন্ধান্ত নিতে পারবে না। এ জন্য আন্তঃবোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে কিছুটা সময় ব্যয় হবে। তাছাড়া হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বোর্ড।
স/শা

