রাজশাহী প্রতিনিধি : আদিবাসী ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৯ আগস্ট আদিবাসী দিবস ২০১৯ উপলক্ষে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে আজ শুক্রবার সকাল ১০.০০টায় রাজশাহীর আলুপট্টিতে মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি সুমিলা টুডু‘র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী বরজাহান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ রাজশাহী জেলা সভাপতি রঘুনাথ রবিদাস, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় সদস্য বিভূতী ভূষণ মাহাতো, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা, সহ-সভাপতি সাবিত্রী হেমব্রম প্রমূখ।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, জাতিসংঘ কর্তৃক এবারের প্রতিপাদ্য “আদিবাসী ভাষা”। পৃথিবীতে দুই হাজার ভাষা সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ টি ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। জাতিসত্তা হিসেবে আদিবাসীদের রাষ্ট্রের কাছে গর্বের সাথে পরিচিত হতে চাই নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে।
আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি, পালা-পার্বণ, রীতিনীতি যদি হারিয়ে যায় তাহলে আদিবাসীরা একদিন হারিয়ে যাবে। আদিবাসীদের ভাষাগুলো রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এজন্য রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আদিবাসীরে বাদ দিয়ে বা পিছনে ফেলে এসডিজি বাস্তবায়ন কখনই হবেনা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সংবিধান রচনার সময় সকল জাতিগোষ্ঠীকে বাঙ্গালি হয়ে যেতে বলা হয় তা মোটেও ঠিক হয়নি। আদিবাসীদের বিভাজন করার পেছনেও কারণ আছে। যদি তাদের কোনোভাবে বিভাজন করে বিতারিত করা যায় তাহলে আদিবাসীদের বিশাল সম্পত্তি ভোগদখল করা যাবে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস বলেন, আন্তর্জাতিক মাতুভাষা ইনস্টিটিউট এর সমীক্ষায় বলা হচ্ছে- বাংলাদেশে ৪১ ভাষায় মানুষ কথা বলে। তারমধ্যে ১৪টি ভাষা সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
আদিবাসীদের ভাষা সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আদিবাসী ভাষা ও সাংস্কৃতিক একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা জরুরী।
আলোচনা সভায় বক্তারা, ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন, আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের উচ্ছেদ, দেশত্যাগ সহ সকল প্রকার নির্যাতন বন্ধ করার দাবি জানান।
এছাড়াও কডা, কাদর, নুনিয়া, রাউতিয়া, রবিদাস সহ বাদপড়া আদিবাসীদের গেজেটে অন্তভূক্ত করার দাবি জানান বক্তারা।
আদিবাসীদের দাবি সমূহঃ
আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।
সকল আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রদান করতে হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে আদিবাসী কোটা পুনর্বহাল করতে হবে।
বাদপড়া আদিবাসীদের গেজেটে অন্তভূক্ত করতে হবে।
আদিবাসীদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন, উচ্ছেদ, জবর দখল, ধর্ষণও হত্যা বন্ধ করতে হবে।
স/এন

