♦ মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার যোগনীঘাট এলাকায় জাল দলিলের মাধ্যমে একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট সম্পত্তির মালিকানা দাবির পায়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রে জানা যায়,যোগনীঘাট এলাকার ইয়াছিন গং একটি ভূমি দস্যু ডিন্ডিকেটের ইন্দনে সাগর আলীর আদলে নাগর আলীর ওয়ারিশ বলে মালিকানা দাবি করেন ।ভুমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ১৯৪৩ সালের ২৬ নভেম্বরে তারিখ উল্লেখ করে ১২৮১৫ নং- দলিলটিতে গ্রহীতা নাগর আলীর নাম ব্যবহার করে হুবুহু একটি জাল তৈরী করেন। প্রকৃত মালিকের দলিলে গ্রহিতার নাম ছিল সাগর আলী বেপারী । কিন্তু প্রতারকরা দলিলে সাগর আলীর নাম বাদ দিয়ে সেখানে নাগর আলীর নাম বসিয়ে জাল দলিল সৃষ্টি করেন। উক্ত দলিল দেখিয়ে জমিটি দখলের পায়তারা শুরু করেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিচার শালিশ হলেও বিষয়টি আমলে নেয়নি ইয়াছিন গং। দলিলটি নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ভলিউম বইয়ের ইনডেক্সে এ ইংরেজীতে সাগর আলী লিখা আছে। সাগর আলী আর নাগর আলী একই পিতার সন্তান এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অসাধু চক্র সাগর আলীর নামের স্থানে নাগর আলী লিখে জাল দলিলের নকল সংগ্রহ করে। কিন্তু একই ভলিউমে ইনডেক্স কলামে সাগর আলীর নামই রয়ে গেছে। যুগ্ন জেলা জজ ১ম আদালত কর্তৃক ০৩-০৪-২০১৩ ইং তারিখের আদালতের আদেশের মাধ্যমে ভলিউম তলব করা হয়। ভলিউম তলবের রিপোর্টে তৎকালীন যুগ্ন জেলা জজ ১ম আদালতের বিচারক জনাব মো: আশরাফুল ইসলাম খাঁন একটি আদেশ জারি করেন। আদেশে লিখা আছে ১২৮১৫ নং দলিলের ভলিউম নং- ১০৬ পৃষ্ঠা ২০৬- ২০৭ এ যাহার গ্রহীতা সাগর আলী, দাতা ছায়েদ আলী লিপিবদ্ধ আছে। খতিয়ান নং- সিএস ২০০ দাগ নং- সিএস ৫৬৪ ও ৫৮৫ জমির পরিমান ৫৩ শতাংশ উক্ত সম্পত্তি ১৯৪৩ সালের ২৬ নভেম্বর ছায়েদ আলী থেকে সাগর আলী ক্রয় করে মালিক ও দখলদার বিদ্ধমান হয়ে একই দিনে ১৯৪৩ সালের ২৬ নভেম্বর সাগর আলী ১২৮১৬ নং- দলিলে ফেরত কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করেন। যাহার দাতা সাগর আলী গ্রহিতা ছায়েদ আলী। অতপর ২৩-০৮-১৯৪৪ ইং তারিখে ৪১৬৪ নং- সাব কবলা দলিল মূলে বর্নীত দাতাগন ১.সাগর আলী , ২.ছায়েদ আলী ও দুদ মেহের ৫৬৪ ও ৫৮৫নং দাগ হইতে ৫৬ শতাংশ জমি বর্তমান ভোগ দখলদার হাজী মো: রফিকুল ইসলামের পিতা ফৈজুদ্দিন বেপারীর নিকট বিক্রি করেন। এই সম্পত্তি পৈত্রিক ও ক্রয় সুত্রে দীর্ঘ ৭৬ বছর ধরে ভোগ দখলে রয়েছেন হাজী মো: রফিকুল ইসলাম। পরে এই সম্পত্তি এসএ ও আর এস খতিয়ানে হাজী মো: রফিকুল ইসলাম ও তার বোনদের নামে রেকর্ডে হয়। সম্পত্তির ভোগ দখলদার হাজী মো: রফিকুল ইসলামের ছেলে মো: মোতাহার হোসেন মাহী বলেন, উক্ত সম্পত্তি আমাদের দখলে ৭৬ বছর ধরে ভোগ দখলে আছি।এই সম্পত্তির বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ যুগ্ন জেলা জজ ১ম আদালতে আমারা দে: মো: ১২৫/১২ দায়ের করি এবং উক্ত মামলায় আমাদের পক্ষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। এবং বিবাদি পক্ষ বানোয়াট যে জাল দলিলটি সংগ্রহ করেছে সেটার বিরুদ্ধেও আরো একটি দে: মো: চলমান আছে যাহার দেওয়ানি মোক্দ্দামা নং- ৪৩৫/১২। উক্ত সম্পত্তি আর এস সহ সব ধরনের যেমন, এসএ, আর এস,রেকর্ডে হাজী মো: রফিকুল ইসলাম গংদের নামে নামজারি ও খাজনা পরিশোধ রয়েছে। কিন্তু ইয়াছিণ গং কিছু ভুমি দস্যু সিন্ডিকেটের সহায়তায় জায়গাটিতে মিথ্যা মালিকানা দাবি করে নানা ধরনের হুমকি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপ- প্রচার চালাচ্ছে। প্রতিনিয়ত মুন্সীগঞ্জ সাব রেজিস্টার অফিসে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে শুনতেছি।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর কাউন্সিলর ও স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির মুরুব্বিরা জানান, বিষয়টি মিমাংসার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছিলাম। নাম নিয়ে একটা জটিলতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু জমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে হাজী মো: রফিকুল ইসলাম ভোগ দখলে আছে।
বিষয় জানতে চেয়ে ভূমি সিন্ডকেটের অন্যতম সদস্য ছায়েদ আলীর ছেলে মোকলেছ জানান, দলিলটা কিভাবে হয়েছে সেটার আমার জানা নেই । কিন্তু দলিলে আমার পিতার নাম আছে দেখে এই সম্পত্তি দাবি করি।
স/এষ্

