যশোরের বাঘারপাড়ার মাওঃ শরিফুল হত্যাকান্ড –
দুই বছর অতিবাহিত হলেও উদঘাটন হয়নি রহস্য?
সাঈদ ইবনে হানিফ
দুই বছর অতিবাহিত হলেও ওলামালীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার আগড়া গ্রামের ঈমান আলীর পুত্র মাওঃ শারিফুল ইসলাম (বাকী) ৩৮ হত্যা কান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি ফলে এই হত্যা কান্ডের সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ার আশাঙ্খায় ভুগছেন তার পরিবার। এ বিষয়ে দৈনিক গণতদন্ত প্রতিবেদক সাঈদ ইবনে হানিফ, সম্প্রতি নিহতের বাড়িতে খোজ নিতে গেলে ঘটে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা সাংবাদিক দেখে অঝোর ঝরায় কেঁদে কেঁদে বিলাপ করতে থাকেন। দেখা যায় ছোট বেড়ার ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করার দৃশ্য। অভাবের সংসারে একমাত্র উপার্জন করার ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা নির্মম ভাবে অকালে হত্যা কান্ডের শিকার হওয়ায় ৫ শিশু সন্তান নিয়ে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন স্ত্রী সুফিয়া বেগম। নিহতের বৃদ্ধ মা এখনো আহাজারী করে বলছেন আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৩০) এখনো স্বামীর চিন্তায় কেঁদে বিভোর, তার ছোট্ট সন্তানেরা এখানো পথ পানে চেয়ে থাকে পিতা বাড়িতে ফিরে আসবে এই আশায় কিন্তু অবুঝ শিশুরা এখনো জানেই না তার পিতা আর কখনো ফিরবে না ঘরে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানায়, তার পারিবারিক কোন শত্র“ ছিলো না। কিন্তু অল্প দিনে রাজনীতিতে জন প্রিয় হওয়ায় তার রাজনৈতিক শত্র“ সৃষ্টি হয়েছিল এজন্য তিনি কোন বিশেষ রাজনৈতিক নেতার ইশারায় খুন হতে পারেন বলে তার পরিবারের পক্ষথেকে দাবী করা হয়। উল্লেখ্য গত ২০শে অক্টোবর ২০১৪ সালে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটের দিকে দুস্কৃতিকারীরা মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী মাঠে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। পরদিন ২১শে অক্টোবর নিহতের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে একই গ্রামের লতিফ মোল্যার পুত্র লিয়াকত, গোলম বিশ্বাসের পুত্র লিটু, আবু বক্কার সর্দারের পুত্র আলাল, আতিয়ার বিশ্বাসের পুত্র রিজাউল সহ ৯জনকে আসামী করে বাঘারপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং ০৮/২০১৪। এই হত্যা কান্ডের ঘটনা জামায়াত কর্মীদের উপর চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু তাতে ন্যায় বিচার বিঘিœত হতে পারে বলে বাদী নিহতের ভাই জাকির হোসেন সংশয় প্রকাশ করে বলেন আমার ভাইয়ের হত্যাকারীরা নির্বিঘেœ দলের ভিতরেই আছে। তিনি আরো বলেন, দলের ভিতরের একটি মহল ইর্ষা পরানিত হয়ে আমার ভাইকে হত্যা করে থাকতে পারে।
কারণ তিনি অতি অল্প দিনে রাজনীতিতে অনেক বড় বড় নেতাদের টপকিয়ে কেন্দ্রের শীর্ষপদ দখল করে চলছিলেন। স্থানীয় আগড়া বাজারের একাধিক ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানাযায় মাওঃ শরিফুল খুব ভাল মানুষ ছিলেন। অর্থ সম্পদ না থাকলেও সর্বদা মানুষের উপকার করার চেষ্টা করতেন। অনেকে আক্ষেপ করে বলেন অল্প বয়সী এবং একজন গরীব মানুষ এত বড় মাপের নেতা ছিলেন আমরা তা কখনও জানতাম না। এই মামলার হাল হকিকত সম্পর্কে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, মামলাটি তদন্তধীন অবস্থায় আছে কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার সুরাহা না হওয়ায় বাদীপক্ষ রয়েছে আসামীদের হুমকীর মুখে। নিতান্ত গরীব হওয়ায় মামলা পরিচালনা করা তাদের পক্ষে কতদুর সম্ভব হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। ফলে পরিবারটি আদৌ তাদের স্বজন হত্যার বিচার পাবে কি না এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক সচেতন ব্যক্তি। মাওঃ শরিফুলের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ঃ ১৯৭৫ সালে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের আগড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ ইমান আলী ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। আর মাতা একজন গৃহিনী। ৪ ভাই ৪ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সকলের ছোট। স্থানীয় আগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করেন। তার পর সংসারের অস্বচ্ছলতার কারণে পিতার সহযোগিতায় উপজেলার দয়রামপুর মাদ্রাসার অধীনে চলে যান। যেখান থেকে দাখিল, আলিম এবং পর্যায় ক্রমে ফাজিল পাশ করেন।
এরপর আর্থিক দৈন্যতা ঘোচানোর জন্য চলে যান ঢাকায়। ভাল বক্তা হওয়ায় তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে সহজেই ঢাকার কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতাদের সানিধ্য পেয়ে যান। এরই মধ্যে তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ইসলামী মুভমেন্টের যুগ্ম মহা সচিবের দায়িত্ব পান। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মসলিশের রিকসা প্রতিক নিয়ে যশোর -৪ আসনে মনোনয়ন পান। নির্বাচনের পর তিনি উক্ত দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠণ ওলামালীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিয়ে করেন যশোর বারো বাজার এলাকার সৈয়দ পুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কন্যা সুফিয়া বেগমকে সাংসারিক জীবনে তিনি ৩ কন্যা ও ২ শিশু পুত্রের জনক ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুর কারণে শিশু সন্তানদের নিয়ে অত্যান্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন স্ত্রী সুফিয়া বেগম।
স/মা

