(যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের বসুন্দিয়া মোড়ে অবস্থিত এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠান আলফা টোব্যাকো ম্যানু: কোং লিঃ দীর্ঘ ১ যুগ পর সচল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দীর্ঘ সময় এ প্রতিষ্ঠানটির কার্য্যক্রম থাকায় ভিতরের পরিবেশ এক প্রকার ভুতুড়ে অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। যা এখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ফিরিয়ে আনার কার্য্যক্রম চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে কি ধরনের উৎপাদন কার্য্যক্রম চালানো হবে তা জানা যায়নি।
সূত্র জানায়, বিগত দিনে এই প্রতিষ্ঠানটিতে আলফা টোব্যাকো ম্যানু: কোং লিঃ নামে পরিচালিত ছিল। সেখানে চাকুরীরত প্রায় ৬ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিল। পূর্বের সেই সকল শ্রমিক কর্মচারীদের সপদে ফিরিয়ে আনা হবে কিনা তাও জানা সম্ভব হয়নি। যশোরের বসুন্দিয়া মোড়ে অবসস্থিত এই সিগারেট কোম্পানীটি ১৯৬৩ সালে ১৫ বিঘা জমির উপর স্থাপিত হয়। কোম্পানীটির তৎকালীন মালিক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের এক সেনা কর্মকর্তা। সামান্য কিছু শেয়ার হিসেবে ছিলেন তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা কুষ্টিয়া জেলার আগা ইউসুফ আহমেদ। কোম্পানীটি উৎপাদন কার্য্যক্রম শুরু করে ১৯৬৭ সালে এবং সে আমলে মিলের উৎপাদিত সিগারেট মধ্যে উল্লেখযোগ্য ও রেঞ্জার, ব্রিগেট, পলাশ ও পূর্বানি সিগারেট ব্যাপক হারে সমগ্র দেশব্যাপী সুনামের সাথে বাজার দখল করে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর পাকিস্তানি মালিক পরিবর্তন হয়ে সম্পূর্ণ কোম্পানিটির মালিক হন আগা আহমেদ ইউসুফ। অতঃপর গোটা এশিয়া মহাদেশে সিগারেট মিলের মধ্যে অন্যতম লাভজনক শিল্প-প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে।
১৯৮০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মিলের উৎপাদিত নতুন নতুন ব্রান্ডের সিগারেট যেমন সিনার গোল্ড, ক্যানন, দি প্রেসিডেন্ট, রয়েল সহ আরো অনেক ব্রান্ডের সিগারেট ব্যাপক হারে মার্কেট দখল করে নেয়। পরবর্তীতে পারিবারিক কলহে আগা ইউসুফের ভাই আনোয়ার ইউসুফের মৃত্যু হয়। এ সময় ভাই আগা আহমেদ ইউসুফ আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তখন মিলটির পরবর্তি মালিক কে হবেন এই নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। পরে অবশ্য উক্ত মিলের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পান আগা আহমেদ ইউসুফের বড় পুত্র আহমেদ আগা ইউসুফ। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশ কয়েক বছর প্রতিষ্ঠানটি ভাল চললেও পরবর্তিতে কতিপয় ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে প্রতিষ্ঠানের এম.ডি বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। উক্ত নিয়োগের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মূল চেয়ারম্যান আহমেদ আগা ইউসুফ সঠিক ভাবে নিজ দায়িত্বে মিলটি পরিচালনা না করার কারণে ঐ সকল অদক্ষ ও অযোগ্য, দূর্ণীতি পরায়ণ লোকদের উপর সকল দায়-দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ায় মিলটি ২০০১ সাল থেকে ক্রমন্বয়ে সোনালী ব্যাংক, কাস্টম, বিদ্যুৎ ও তেল কোম্পানী সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় দায়-দেনার ভার বাড়তে থাকে। এবং উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী ও দূর্ণীতির সুযোগে মিলের কর্মরত কর্মকর্তারাও দূর্ণীতিতে জড়িয়ে পড়েন। যে কারণে ২০০৪ সালে মিলটি প্রচুর দেনা হয়ে অর্থনৈতিকভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে ২০০৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হয় অনিয়মিত লে-আপ। এভাবে চলতে চলতে ২০০৫ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি মিলটি অনির্দিষ্ট কালের জন্য লে-আপ ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে দীর্ঘ ১২বছর ধরে মিলটি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। একই সাথে মিলের প্রায় ৬ শতাধিক শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তা অসহায় কর্মহীন বেকার জীবনে পতিত হয়ে আছে।
স/শা

