মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকী । এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ ২ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামিলীগের কে হচ্ছেন যোগ্য প্রার্থী। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্ব মহলে বইছে আলোচনার ঝঁড়। কে পাচ্ছেন নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন । চুলছেড়া বিশ্লেষন চলছে কে সেই যোগ্য প্রার্থী যার হাতে উঠবে নৌকার টিকেট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনটি হারায় বিএনপি। আসনটি পূনরুদ্ধারে মরিহা হয়ে উঠতে পারে বিএনপিও । সে লক্ষে বিএনপিও গুরুত্ব দিচ্ছে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির সাথে জোর প্রতিত্বন্ধীতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রহনযোগ্য প্রার্থী দিলে এ আসনে আওয়ামিলীগের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লষকরা। তবে সাধারন ভোটারদের অভিযোগ বিগত দিনে যাদেরকে সাধারন মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল তারা জনগনের কল্যানে কাজ করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সাধারন মানুষ নির্বাচনের পরে আর সেই নির্বাচিত ব্যক্তিকে কাছে পায়নি। নির্বাচনী এলাকার একাধিক ভোটার জানান,বিপদে আপদে কখনও তাদের কাছে পাইনি। নির্বাচনের আগে তাদের দেখা মিলে পাশ করার পরে তাদের আর দেখা মিলেনা। আগামী নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চায় সাধারন মানুষ। নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নীতিনিধারক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সাধারন ভোটারদের জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা । মুন্সীগঞ্জ ২ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে এরা হলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ,অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, জেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ মো: লুৎফর রহমান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ ও জেলা আওয়ামিলীগের যুগ্ন সম্পাদক এডভোকেট সোহানা তাহমিনা। অপরদিকে এই আসনে বিএনপি থেকে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাদক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা একক প্রার্থী হিসাবে আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
স্থানীয় আওয়ামিলীগের একাধিক সুত্র জানায়, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি তিন দফা এমপি হয়ে লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ীতে দলের একাধিক নেতার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একক নেতৃত্ব প্রতিষ্টার চেষ্টা করায় এখনও দুই উপজেলার একাধিক আওয়ামিলীগ নেতার সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। তাছাড়া ২টি উপজেলার স্থানীয় আওয়ামিলীগের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ও গোপনে তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এ কারনে এবার টঙ্গিবাড়ী থেকে জেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ মো: লুৎফর রহমান ও কাজী ওয়াহিদও অপ্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২ উপজেলার একাধিক সাধারন ভোটার জানান,দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারন ভোটারদের কাছ থেকে অনেকটা দূরে ছিলেন সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। নির্বাচনী এলাকার অনেক গ্রামে দীর্ঘদিনেও তার দেখা পায়নি এমন অভিযোগ গ্রামবাসীদের।এতে করে ভোটারদের সাথে তার একটি দূরত্ব সৃস্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিপদে আপদে এমপিকে কাছে পাওয়া যেন ভোটারদের কাছে এখন সোনার হরিনের মত। এনটাই জানা গেছে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভোটারদের কাছে আর না যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বর্তমান সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ফোনালাপকালে বলেন, ,দীর্ঘ আট বছরে ভোটারদের কাছে আমার যাওয়া হয়নি। খুবই দূর্ভাগ্য দীর্ঘদিন লৌহজং এবং টঙ্গিবাড়ীর ভোটারদের কাছে একদিনও যেতে পারিনি । এটা আমার ভুল হয়েছে। আমি ভুল করেছি এবং সেটা আমি পরবর্র্তীতে সংশোধন করে নেয়ার চেষ্টা করব। লৌহজং এবং টঙ্গিবাড়ীতে আওয়ামিলীগের নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন বিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, দুটি উপজেলার আওয়ামিলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। থানা আওয়ামিলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে এক সাথে কাজ করে যাচ্ছি।
অপরদিকে এই আসটিতে হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী নতুন মুখ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম । তারমত সফল অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশে দ্বিতীয় আর নেই। পর পর দুই বারের মত অত্যান্ত দক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শুধু তাই নয় শত বাঁধা আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ,বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারসহ রাষ্ট্রের সকল রাষ্ট্রীয় মামলার বিচার কার্য সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি অনেক আগে থেকেই শীতবস্ত্র বিতরন, ঈদ সামগ্রী বিতরনসহ নানান জনকল্যানমূলক কাজের মাধ্যমে সাধারন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার অধিকাংশ স্কুল , কলেজ ও মাদ্রাসার লাইব্রেরীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আতœজীবনী বই এবং মুক্তিযুদ্ধের ১৫ খন্ডের দলিল বিতরন করেন। পাশাপাশি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র/ ছাত্রীদের বঙ্গবন্ধুর আতœজীবনী বই ও মুক্তিযুদ্ধের ১৫ খন্ডের দলিল পড়ার পরামর্শ প্রদান করেন। এতে করে নতুন প্রজন্মের কোমলমতি ছাত্র/ ছাত্রীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারন করে বেড়ে উঠবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলের বই বিতরনের এই মহান উদ্যোগকে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্ব স্থরের মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। তাছাড়া তিনি নির্বাচনী এলাকার একাধিক মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়নে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদানও দিয়েছেন। এর মধ্যে লৌহজংয়ের তরুন রাজীবের দুটি কিডনি নষ্ট হওয়ার খবর শুনে ছুটে যান ঢাকার লালবাগের রাজিবের বাসায় । সেখানে গিয়ে তার খোঁজ খবর নেয় এবং রাজিবের চিকিৎসার জন্য নগদ ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসাবে বলিষ্ট ভূমিকা রাখায় সারাদেশের পাশাপাশি নির্বাচিনী এলাকাও তিনি একজন অত্যান্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন কর্মতৎপরতা অব্যাহত রাখার কারনে তার একটি বিপুল জনপ্রিয়তার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি অনেকটা অন্যান্য সকল সম্ভাব্য প্রার্থীর মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে । ইতিমধ্যে এতো দ্রুত সময়ের মধ্যে তার জনপ্রিয়তার কারনে অনেক আওয়ামিলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ঈষান্বিত হয়ে উঠেছেন। তাছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সবার সিনিয়রও বটে। রাষ্ট্রের একটি গরুত্বপূর্ন স্থানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাদা মনের মানুষটি যদি এমপি নির্বাচিত হয় । তাহলে এ আসনের আওয়ামিলীগের অবস্থান মজবুতসহ পার্লামেন্টে তাকে মন্ত্রী হিসাবেও দেখা যেতে পারে বলে আশাবাদী ব্যক্ত করেছেন তৃনমূলের একাধিক আওয়ামিলীগের নেতাকর্মী,সাধারন ভোটারা ও সমর্থকরা।
স/ম

