এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে উচু জমিতে রোপনকৃত আলু উত্তোলন শুরু করে দিয়েছে কৃষকরা। ফলন ভালো আর বেশী দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাঁসি ফুঁটেছে । প্রতিবছর লোকসান গুনতে গুনতে দিশেহারা অবস্থায় ছিল কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগের কবলে না পড়লে আর সুষ্টভাবে বাজারজাতসহ ন্যায্যমুল্য পেলে গত বছরের লোকসান কিছুটা পুঁষিয়ে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নুরাইতলী, দক্ষিন চরমশুরা, জাজিরা, বকচর, চর আব্দুল্লাহ, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে আগাম আলু রোপন করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,আলুর উৎপাদনে বিখ্যাত মুন্সীগঞ্জ জেলায় এ বছর ৩৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। এ বছর আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৩ লক্ষ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। রোপন মৌসমে টানা তিনদিন নি¤œচাপ আর বৃষ্টির কবলে পড়ে রোপনকৃত ১১ শত হেক্টর জমির আলু। বৃষ্টির পর কৃষকদের শংকা ছিল আলুর জমিতে পানি জমেছে হয়তো সব নষ্ট হয়ে যাবে কিন্তু রোপনকৃত আলুর তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তবে বৃষ্টির কারনে ১৪ হাজার ৪শত হেক্টর জমির আলু রোপন পিছিয়ে যায়। আর বৃষ্টির আগে রোপন করা আলুর জমিতে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের আর আলুর জমিতে পানি দিতে হয়নি। বৃষ্টি পেয়ে রোপনকৃত আলুর জমিতে গাছ দ্রত বেড়ে ওঠে।
সরেজমিনে মহাখালী ইউনিয়নের নুরাইতলী এলাকার ফসলী জমিতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক হারুন তার জমিতে আগাম আলু উত্তোলন করে মেপে মেপে বস্তায় ভর্তি করছেন। তিনি জানান, ২৮ শতক জমিতে আগাম আলু রোপন করেছেন এবং তিনি শতক প্রতি প্রায় আড়াই মন আলু পেয়েছেন। আলুগুলোতেও কোন ধরনের স্পট নেই। ্আলুগুলো জমিতেই ১৮ টাকা কেজি ধরে বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, গত বছর লোকসানে পরেছিলাম । আগাম আলু বিক্রি করে একটু লাভবান হলাম । ১ পর মধ্য এবং নি¤œাঞ্চলের জমির আলু উত্তোলন করে বাজারজাত এবং কোল্ড স্টোরে মজুদ করবো। যদি প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগের কবলে না পড়ি এ বছর ভালো আলু ঘরে তুলতে পারবো।
অপরদিকে মুন্সীগঞ্জের পাইকারী বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, জমি থেকে ১৮ টাকা ধরে কেনা আলু মধ্যস্তভোগী ব্যবসায়ীরা ২৫-২৮ টাকা দরে খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করছেন । আর গত বছরের পুরানো আলু বিক্রি করছেন ২০ টাকা কেজিতে। পাইকারী বাজারের কয়েক গজ দূরে খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে নতুন আলু। কোল্ডস্টোরে থাকা গতবছরের পুরানো আলুর দাম নিচ্ছেন কেজি প্রতি ২০ টাকা।
মুন্সীগঞ্জ বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, মুন্সীগঞ্জ বাজারের পাশে ভোর বেলা সব ধরনের সবজির পাইকারী বিক্রি করা হয় । এক ধরনের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা নিজেরাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে ফেলে কাঁচা সবজির । বাজারে খুচরা দোকানগুলোতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন প্রয়োগ না থাকায় ক্রেতারা সব সময় বেশী দামে তরকারী কিনছেন। সরকারীভাবে বাজার মনিটরিং না করায় আমরা সাধারন মানুষ চওড়া দামে সবজি কিনে খাচ্ছি ।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ উপ- পরিচালক মো: হুমায়ূন কবীর জানান, এ বছর ্আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে । ্আলুর জমিতে কোন ধরনের রোগ বালাই নেই। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে না পড়লে কৃষক এবার লাভের মুখ দেখবে।
স/এষ্

