মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সাথে বন্ধুক যুদ্ধে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বাবা আরিফ নিহত হওয়ার পর এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে স্ব:স্থি ফিরে এসেছে । কিন্তু নিহত আরিফ কার লোক? সেকি যুবদল নাকি যুবলীগ নেতা এ নিয়ে সর্ব মহলে আলোচনা- সমালোচনা ঝড় বাইতে শুরু করেছে। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানাযায়, মুক্তাপুরের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন আহম্মেদ @ ভাই মহিউদ্দিনের ছত্রছায়ায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হয়ে ওঠে আরিফ ।
স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র জানায়, একসময় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসারের মুক্তারপুর ফেরিঘাটে বাবা জুলহাস বেপারীরর সাথে পানি ও ডিম বিক্রি করতো নিহত আরিফ। এসব বিক্রির ফাঁকে বিএনপির এলাকা হিসাবে পরিচিত মুক্তারপুরে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ নিত আরিফ। এক সময় আরিফ দলের জন্য সক্রিয় ভুমিকা রাখে। দ্রুত আরিফ মহিউদ্দিনের আস্থাভাজন হয়ে যায়। জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হাই এর ছোট ভাই মহিউদ্দিনের ঘরানার লোক হয়ে তার আদেশে বিএনপির দলীয় সকল কর্মসূচী পালন করতে শুরু করে । তে শুরকরিতো । তার এসব কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের ফলে একসময় স্থানীয় বিএনপির র্শীষস্থানীয় নেতা ভাই মহিউদ্দিনের সংস্পর্শে আসে। এসেই তাদের ব্যাক্তিগত সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করে আরিফ। অল্পদিনেই আরিফ ভাই মহিউদ্দিনের একান্ত কর্মীর খেতাব পান। এরপর থেকে বিএনপির জনসভা, মিছিল, মিটিং, শত শত লোক নিয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে নিয়মিত কর্মসুচী পালন করে। এই নেতাদের সংস্পর্শে থাকার সময়ই আরিফ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরে। নেতা মহিউদ্দিনের ছত্রছায়ায় অল্প দিনেই মাদক বিক্রির স¤্রাজ্য গড়ে তুলে আরিফ । একসময়ের মুক্তারপুর ফেরিঘাটের এই ফেরিওয়ালা হয়ে যান শীর্ষ মাদক ব্যসায়ী। তার মাদক বিক্রির স¤্রাজ্য ছড়িয়ে পরে পঞ্চসার, চরমুক্তারপুর, রিকাবীবাজার, নয়াগাও, হাটলক্ষ্মিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ শহর সহ আশেপাশের প্রায় সব জায়গায়। জেলায় হয়ে উঠে মাদকের এক র্শীষ ব্যবসায়ী।
বাবা আরিফের সকল অপরাধ অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। কারন হলো আরিফ ছিলো মহিউদ্দিনের ঘরানার লোক। এছাড়াও এলাকার স্থানীয় বিএনপির নেতাসহ সাধারন মানুষ আরিফের বিরুদ্ধে ভাই মহিউদ্দিনের কাছে নালিশ দিলেও কোন সুফল পায়নি অভিযোগকারীরা । প্রথম ধাপে আ”লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আরিফ মহিউদ্দিনেরই লোক ছিলো । এই আরিফকে কেন্দ্র করেই বিএনপির শত শত নেতাকর্মী দলবিমুখ হয়ে পড়ে। পরে ২০১৫ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ২য় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা নিজের কারেন্টজাল ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে আরিফকে দল পাল্টাতে পরামর্শ দেন। আরিফ রাতারাতি দল পাল্টে আওয়ামীলীগের কর্মকান্ডে জড়িত হয়। এসময় স্থানীয় আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আ’লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তাকে ১ম সাঁড়িতে উপস্থিত হতে দেখা যায়। পরবর্তীতে জনসাধারনের মাঝে ঐ বিএনপি নেতা আ’লীগ কর্মী হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে চেষ্টা চালায়। আরিফ আ”লীগের কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে বাড়তি সুবিধা নিতো। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও সাধারন মানুষ মনে করে আরিফ বিএনপির যুবদলের কর্মী। বিভিন্ন সময়ে আ”লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ নেতা পরিচয়ে শুরু করেন ভয়ংকর মাদক ইয়াবা ব্যবসা। ইয়াবা ব্যবসার কারনে স্থানীয় মহলে ইয়াবা আরিফ ও পরে বাবা আরিফ নামে পরিচিত হয়ে উঠে সে। ইয়াবা ব্যবসার কারণে বিগত সময় একাধিকবার বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আরিফ। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বারবারই পুলিশের কাছ হতে ছাড়া পেয়ে যেতো আরিফ। সর্বশেষ গত ২৬-০৪-১৮ ইং তারিখ বুধবার পুলিশের হাতে ১১০পিস ইয়াবাসহ ধরা পরে এই ইয়াবা স¤্রাট বাবা আরিফ। পরে আরিফকে নিয়ে পুলিশ মাদক এবং অস্ত্র উদ্ধারে বের হলে আরিফের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি করে । এসময় আরিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় ।
রাজনৈতিক সমালোচনা
এদিকে আরিফ নিহত হওয়ার পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় এক শীর্ষ নেতার পাশে দাঁড়ানো ও আ’লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার সাথেও আরিফে ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় ও বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যুবলীগের বানারে আ”লীগের বর্তমান এমপি এ্যড. মৃনালকান্তি সমর্থদের মিছিলে বিভিন্ন সময়ে আরিফকে প্রথম সাঁড়িতে দেখা গেছে। তাছাড়া আরিফ স্থানীয় সাংসদ মৃনালকান্তি দাসকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে এমন ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এঘটনায় স্থানীয় মহলে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা আরিফকে বিএনপি যুবদল কর্মী আবার কেউ কেউ আওয়ামলীগ কর্মী বলে দাবি করছে । তবে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আরিফের যোগযোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও সে প্রকৃত বিএনপির লোক বলেই পরিচিত । এ ব্যপারে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সাথে কথা হলে তারা সবাই আরিফ তাদের কর্মী নয় বলে জানিয়েছে।
আরো কিছু অপরাধ
নিহত আরিফের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ছাড়াও অস্ত্র, হত্যা, ডাকাতি, নারী কেলেঙ্কারী সহ বিভিন্ন অপকর্মে ১২টি মামলা রয়েছে। পঞ্চসারে কারেন্টজাল কারখানা হতে বিভিন্ন সময় চাদাঁবাজি ও মাসিক মাসোয়ারা নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় মহল নিশ্চিত করেছে। বিগত কয়েকমাস পূর্বে কারেন্ট জালের কারখানায় অস্ত্র দেখিয়ে ক্ষমতা বিস্তারের সময় স্থানীয় জনগনে হাতে ধরা পরে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে পিটিয়ে আহত করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এছাড়াও নয়গাঁও এলাকায় বেড়িবাদে অবৈধ ইটবালুর ব্যবসা ও বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের কাছ হতে চাদাঁবাজির অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকান্ডে স্থানীয় মহলে রীতিমত ত্রাসে পরিনিত হয় উঠে অরিফ। এমন কোন অপরাধ নেই যা তার ধারা সংঘঠিত হয়নি। অপকর্মের টাকায় অল্প দিনেই কোটিপতি বনে যায় আরিফ, অবৈধ এসব টাকায় অবৈধ কারেন্ট জালের কারখানা, সন্ত্রাসী বাহিনী গাড়ি বাড়ি সহ গড়ে তুলেন বহু প্রতিষ্ঠান। মাদকের মামলায় আরিফরে স্ত্রী রুনু আক্তার (২২) বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
এ ব্যাপরে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা যুবলীগের সভাপতি মো: বাদল রহমান বলেন, আমার জানামতে আরিফ যুবলীগের কোন ইউনিটের সদস্য নয় । কোন নেতার সাথে ছবি তুলে সেটা ফেসবুকে দিলে কিংবা বিশেষ কোন নেতার সাথে মিছিলে আসলেই যুবলীগ হতে পারেনা । প্রকৃত পক্ষে আরিফ বিএনপিরই লোক । সেটা মুন্সীগঞ্জবাসী সকলেরই জানা ।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার বিএনপির সভাপতি মো: মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আরিফ যখন ছোট ছিল তখন থেকে আমার বাসায় যাওয়া আসা করিত। ঘরের হাট বাজার করে দিতো । আমার নাম বিক্রি করে উল্টা পাল্টা করিত এমন অভিযোগ শোনাযেতো । ওয়ান ইলেভেনের সময় আমি জেলে চলে যাই। জেল থেকে বের হয়ে আমি ওর নানা অপকর্মের জন্য কথা জানতে পারি। আমি আরিফকে বের করে দেই। পরে আরিফ দল পাল্টিয়ে মাদক বিক্রি শুরু করে। ১০ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতায় নেই। এই আমলে বিএনপির ছত্রছায়ায় মাদক বিক্রি সম্ভব নয়। আরিফ আওয়ামিলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মাদক বিক্রি করিত।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, মাদকের সাথে জড়িত ব্যক্তি যেই হোক তাদেরকে কোন ছাড় দেয়া হবেনা । মাদক বিক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সহযোগীতাকারীদের কোন ছাড় দেয়া হবে না ।
স/এষ্

