ঢাকাবুধবার , ৩ এপ্রিল ২০১৯
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে শিক্ষক সংকটে এক কক্ষে ৬ শ্রেনীর পাঠদান, ক্লাস নেন দপ্তরি


এপ্রিল ৩, ২০১৯ ৮:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের দূর্গম একটি এলাকা চরবেহেরপাড়া। পদ্মার শাখা নদী পাড় হয়ে সেখানকার মানুষগুলোর একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম মোটর সাইকেল বা পায়ে হেঁটে ৫কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া। এটা তাদের দৈনন্দিন একটা রুটিনে পরিনত হয়েছে। কাঁচা সড়ক থাকলেও চলে না কোন যানবাহন। যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন না হওয়ার কারনে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে চর এলাকার মানুষগুলো। শিক্ষা ব্যবস্থারও নেই কোন উন্নয়ন। বার বার নদী ভাঙ্গনের শিকার লোকগুলোর সমস্যার কোন অন্ত নেই। সেখানে রয়েছে শিলই ইউনিয়নের চরবেহেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকটে এক কক্ষে চলছে ৬ শ্রেণীর পাঠদান। ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে কাগজে কলমে আছেন মাত্র দুজন। শিক্ষক সংকটের কারণে দপ্তরি দিয়ে চলে পাঠদান। বর্তমানে যে টিনের ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে সেটিও জরাজীর্ন। এতে চরম ভাবে ব্যবহত হচ্ছে চর অঞ্চলের এ বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরদের পাঠদান। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় শিক্ষকরাও এখানে আসতে চায় না।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেখানে শিশু থেকে পঞ্চম পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিতে ২৩৭ শিক্ষার্থী আছে। ৬টি শ্রেণির পাঠদানের জন্য দরকার ৮ জন শিক্ষক। সেখানে মাত্র দুইজন শিক্ষক আছে। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে দুই পালায় পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। ১৯৬৮ সালে এ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারি হয়। সে সময় বিদ্যালয়টির আধাপাকা স্থাপনাটি সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দি ছিলো। ১৯৯৬ ও ২০০৪ সালে দু”দফা নদীভাঙনের ফলে পদ্মায় বিদ্যালয়টি বিলীন হয়ে যায়। ১৯৯৮ সালে চরবেহের পাড়ায় একটি টিনের ঘরের মাধ্যেমে আবারও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের বিদ্যালয়টির সামনের মাঠে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা খেলা-ধুলা করছে। টিনের ঘরটি পিছনের দিকে কিছুটা হেলে পড়েছে। সামনে এগুতেই চোখে পড়লো বিদ্যালয়ের ভাঙা দড়জা,জানালা চিত্র। চারপাশের বেড়া ও টিনের চালায় ও ফুটা । শিক্ষক এবং ছাত্র ছাত্রীদের জন্য নেই কোন শৌচাগার । জরাজির্ণ ওই কক্ষের ভিতরে শিক্ষার্থীদের তিনটি অংশে ভাগকরে চলছে পাঠদান । একপাশে বিদ্যালয়টির একমাত্র সহকারি শিক্ষিকা ও অন্য পাশে দপ্তরি ক্লাস নিচ্ছে। চিৎকার চেচা-মেচির কারণে কি পড়ানো হচ্ছে বোঝার কোন সুযোগ নেই। শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন দপ্তরি শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন এই অবস্থায় ক্লাস করে তারা। ক্লাসে একটু দেরি করে এলে বসার জায়গা পাওয়া যায় না। দুজনের বেঞ্চে কখনো গাদাগাদি করে চারজনকে বসতে হয়। কখনো জায়গার অভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এদিকে এক কক্ষে তিনটি ক্লাস হওয়ায় চেঁচামেচিতে কী পড়ানো হয়, তা–ও ঠিকমতো বোঝা যায় না। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, এই সময়টি আলু উত্তোলনের মৌসুম হওয়া ওই এলাকার মানুষ আলু তোলা নিয়ে ব্যস্ত। চর এলাকার এ বিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীরাও আলু উত্তোলন করতে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অনেক কম ছিলো।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শ্রেণিকক্ষে বসার জায়গা কম। অল্প জায়গাতেই শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। তাই দপ্তরি বাচ্চাদের ক্লাস নেয়। এক কক্ষে তিনটি ক্লাস নিচ্ছেন ঠিকই; কিন্তু পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই। দুর্গম চরের বিদ্যালয়টির কেউ কোন খবর রাখে না। জরাজির্ণ এ বিদ্যালয়টির যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। এমন অবস্থায় শিশুদের লেখা-পড়া হুমকিতে আছে। টিনের ঘর ভেঙে পড়লে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা সানজিদা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি শুণ্য। তাই সব দায়িত্ব তাকেই পালন করতে হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে আরো একজন শিক্ষ আছেন। এ দিন তিনি ছুটিতে ছিলেন। শিক্ষিকা জানান, গত বছর এ বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপণী পক্ষিায় ২৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সব শিক্ষর্থী ভালো ফলাফল করে। শিক্ষিকা আরো বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। চেষ্টা থাকলেও ভালোভাবে ক্লাস নেওয়া যাচ্ছেনা। জরাজীর্ণ টিনের বিদ্যালয়টিও ভাঙা। বৃষ্টিতে টিনের ঘরে পানি পড়ে। টিনের ঘরটি ভাঙা হওয়ায় যখন তখন কুকুর বিড়াল ডুকে পড়ে। গত তিন মাস আগে বিদ্যালয়ে বিদ্যুতও ছিলোনা। কিছুদিন আগে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কোন শৌচগার নেই। শৌচারগারের জন্য মানুষের বাড়িতে যেতে হয়। তুফান আসলে জরাজির্ণ টিনের বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে এত খারাপ অবস্থায় ভাষায় প্রকাশ করার মত না। এসব সমস্যর দ্রুত সমাধান না হলে এ এলাকার শিশুদের পড়াশোনা পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জমিদাতা বাদশা মিয়া ঢালী জানান, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের অবস্থা ভালো না। যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যালয়ের অবস্থা ভালো না হওয়ায়, কোন শিক্ষক ১ থেকে ২ মাসের বেশি এখানে থাকেন না। ফলে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আশাকরি চরঅঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিক্ষর্থীদের সামনে এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ খুব শিঘ্রই শিক্ষক নিয়োগ ও ভবন তৈরির ব্যাপারে একটা উদ্যোগ নিবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসিমা খানম বলেন, ‘বিদ্যালয়টির অবস্থা সমন্ধে জেনেছি। সরেজমিনেও দেখেছি। নতুন ভবন ও শিক্ষক সংকটের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছি। আশা করি, শিগগিরই সমস্যা গুলোর সমাধান হবে।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী বলেন, ‘বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রম-৪ এর মাধ্যমে দেশে প্রায় ৪০ হাজার শ্রেণিকক্ষ করা হবে। সেখানেও একটি তালিকা পাঠিয়েছি। আমাদের তালিকার এক নাম্বারে বিদ্যালয়টি রাখা হয়েছে। তিনি শিক্ষকের বিষয়ে বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হবে,তখন শিক্ষকের অভাবও পূরণ হয়ে যাবে।
স/রর