এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে অবাদে চলছে গ্যাস সিলিন্ডর বিক্রির ব্যবসা । রড, সিমেন্ট, কোকারিজ, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের দোকানে প্রকাশ্যে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে । সরেজমিনে জেলার ৬টি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার গিয়ে অবাধে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে দেখা গেছে । কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে সাজিয়ে রেখেছে ব্যবসায়ীরা । অনেকে লাইসেন্স লাইসেন্স নিয়েছে আবার অনেক দোকানী গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে লাইসেন্স নিতে হয় সে বিষয়টিও তারা জানেনা। বেশীর ভাগ দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির লাইসেন্স তো দূরের কথা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও নেই । জেলার ছোট বড় প্রায় ৭০টি হাট বাজারের প্রায় সবগুলোতেই রয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ব্যবসা । জানাগেছে, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ৮টিরও কম গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে লাইসেন্স প্রয়োজন নেই । এমন আইনের সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । তাছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ৮ টি সিলিন্ডার মজুদ রাখতে হলেও অধিকতর নিরাপত্তার জন্য অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক । কিন্তু কোনমতে তা মানছেনা ব্যবসায়ীরা ।
সচেতন মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন কোম্পানির ডিলাররা নেপথ্যে থেকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে এই খুচরা বিক্রেতাদের । তারা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ট্রাক, নসিমনে করে গ্যাস সিলিন্ডার সর্বরাহ করেছে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে । সংশ্লিষ্টদের তদারকির অভাবে এ ব্যবসা ঝুঁকিপূর্ন জেনেও নির্দিধায় এ ব্যবসা চালানো হচ্ছে । ব্যবসায়ীরা অনেকে দোকানের সামনে ৮ টি সিলিন্ডার দোকানে সামনে রেখে বাকীগুলো দোকানের ভিতরে কিংবা অন্যখানে মজুদ করে রাখে। ফলে এসব দাহ্য পদার্থ যেকোন সময় বড় ধরনের বিস্ফোরন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।
এ ব্যাপারে একাধিক দোকানির সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা কোম্পানির ডিলারদের কাছ থেকে কিনে এনে বিক্রি করি । তারা তাদের নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে সিলিন্ডার দোকানে সর্বরাহ করে। লাইসেন্স বা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখতে হয় এই বিষয়টি আমাদের জানা নেই ।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো: মোস্তফা মহসিন জানান, একটি গ্যাস সিলিন্ডারকে একটি বোমা মনে করতে হবে । তিনি আরো বলেন, অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন ২০০৩ এর ৪ ধারা মোতাবেক সরকার ঘোষিত ফায়ার সার্ভিসের কোন জ্বালানি নিয়ে কেই ব্যবসা করলে । তাকে মজুদ প্রক্রিয়াকরন অ্যাক্ট অনুয়ায়ী লাইসেন্স নিতে হবে । অন্যথায় উক্ত আইনের ১৭ ও ১৮ ধারা মোতাবেক তিন বছরের কারাদন্ড এবং দোকান বা স্থানের মালামাল বাজেয়াপ্ত হবে । যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজও লাইসেন্স নেয়নি তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ বলেন, আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাঠানো হবে। এই বিষয়টি যদি আমাদের মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত হয় তাহলে আমরা অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।
স/রহ

