মুন্সীগঞ্জে নার্সারি ব্যবসায় স্বাবলম্বী অনেকেই
এম এম রহমান: মুন্সীগঞ্জে বিভিন্ন ফলদ, বনজ, ফুল ও কাঠের গাছের চারার নার্সারী করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে। ওইসব নার্সারীর মালিকরা নিজেরা আর্থিকভাবে লাভের পাশাপাশি একদিকে তৈরি করছেন অন্যের কর্মসংস্থান।
পাশাপাশি তাদের এই উদ্যোগ এলাকায় বনায়নসহ জলবায়ু পরির্বতনের কুপ্রভাব থেকে দেশকে মুক্ত করায় রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। নার্সারী উদ্যোক্তাদের এই কাজকে উৎসাহিত করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং কৃষিবিভাগও গ্রহণ করছে নানা উদ্যোগ।
সরেজমিনে পঞ্চসার ইউনিয়নের নতুন গাঁও, মানিকপুর দূর্গাবাড়ী, মিরকাদিম হাতিমারাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক বিভিন্ন ফলদ, বনজ, ফুল ও কাঠের চারার নার্সারী। অল্পপুঁজিতে নিজস্ব এবং ভাড়া নেওয়া জমিতে ওইসব নার্সারী করে সফল হয়েছেন উদ্যোক্তারা।
স্বচ্ছলতা এনেছেন নিজেদের সংসারে। তাদের সফলতা দেখে এলাকার আরো নতুন নতুন লোক নার্সারী ব্যবসায় নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। ওইসব নার্সারীতে উৎপাদিত হচ্ছে লাখ লাখ গাছের চারা। প্রকারভেদে ওইসব নার্সারীতে মাসে ৫০ থেকে দুই লাখ টাকার চারা বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আর হাতের কাছে উৎপাদিত হওয়ায় এলাকার লোকজন চারা রোপনে উৎসাহিত হচ্ছেন।
দূর্গাবাড়ী এলাকার নার্সারীর মালিক মো: মনির হোসেন জানান, ফলজ, বনজ, ফুল ও কাঠের গাছের চারা বিক্রি করে কর্মচারিসহ সব খরচ দিয়েও মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করছি। এই টাকা দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলে যাচ্ছে। শহর এবং গ্রামে নতুন নতুন বাড়ি নির্মাণে অনেকে ছাদে, বাড়ির উঠোনে সৌন্দর্য বর্ধন বিভিন্ন গাছের চারা রোপন করছেন। ফলে চাহিদা বেড়েছে গাছের চারার।
এখানে কলমের প্রতিটা চারার দাম ১০০ টাকা থেকে শরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে। এরমধ্যে আপেল, মাল্টা, কমলা, আম, নারিকেল, বড়ই, পেয়ারা, ডালিম এবং সবজির মধ্যে আছে পেঁপে, মরিচ, বেগুনসহ অন্যান্য চারা। এছাড়াও সব ধরনের ফুলের চারাও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক ও মানুষ সৃষ্ট কারণে প্রতিবছরই কিছু গাছ নষ্ট হয়। সেই গাছের শূণ্যতা পূরণে নতুন গাছের চারা রোপন করা প্রয়োজন হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: শাহ আলম বলেন, দেশের বনায়ন বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনের তাপমাত্রা বৃদ্ধিরোধে এ নার্সারীগুলোতে উৎপাদিত চারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানকার বিভিন্ন গাছের চারা নিজেদের বাড়িতে রোপন করতে এই নার্সারীগুলো সহায়তা করছে বলেও তার মতো অনেকের অভিমত।
বর্তমানে ৫০টির মতো ছোট-বড় বিভিন্ন নার্সারীতে মালিকসহ বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নার্সারীগুলোকে পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ এবং তাদের উৎসাহিত করতে বৃক্ষ মেলার আয়োজনসহ পুরস্কার প্রদান অব্যাহত আছে।
স/এন

