ঢাকামঙ্গলবার , ১৪ আগস্ট ২০১৮
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জের বিএনপির ক্যাডার নারায়নগঞ্জে প্রতারনা ও চাঁদাবাজি করে কোটিপতি


আগস্ট ১৪, ২০১৮ ৯:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের আসলির চর গ্রামের বিএনপির অস্ত্রধারী ক্যাডার ঢাকা – নারায়নগঞ্জের শীর্ষ স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারনা,জমি দখল ও চাঁদাবাজি করে কোটিপতি বনে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকারবাসী এবং ভুক্তভোগী নুরুজ্জামান দেয়া তথ্য সুত্রে জানাগেছে, আসলির চর গ্রামের অলি আহম্মেদ নামের বিএনপির নেতা একসময় এলাকায় নৌ পথে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির সাথে জড়িত ছিলো । সেই সময় থেকেই ঢাকার পল্টন থানা যুবদলের সক্রিয় সদস্য হিসাবে কাজ করে। তার অচ্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে পদ্মা পাড়ের সাধারন মানুষ। বিএনপি সরকার ক্ষমতা হারানোর পর কয়েকমাস ঢাকা থাকেন অলি । এরপর চলে আসেন নারায়নগঞ্জের কাশিপুর এলাকার শান্তি নগরে বসবাস শুরু করে। এখানে এসেই তিনি বিএনপি নেতা খন্দকার তৈমুর আলীর ছোট ভাই পরিচয়ে দিতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতারক অলি আহম্মেদ আওয়ামীলীগের অংগসংগঠন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের নাম ভাংগিয়ে ভিপি বাদল,ফতুল্লা থানার ওসি,শাহ নিজাম ও অন্যান্য নেতার সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে নিজে শক্তিশালী আওয়ামিলীগ নেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়ে নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। কখনও এমপি শামীম ওসমান কখনও হেলাল কখনও শাহ নিজাম ও ভিপি বাদলের লোক পরিচয়ে প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ আতœসাৎ, চাঁদাবাজী ও হুমকি ধামকি দিয়ে নিরীহ মানুষের জমি দখলের মত নানা অপরাধ অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে এই বিএনপি নেতা। দীর্ঘ ৯ বছরে বিএনপির এই নেতা ঋন দেওয়ার নাম করে শত শত মানুষকে ধোঁকা দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। অনেকে নিরীহ লোকের জমি স্টাম্প আটকে রেখেও পরে টাকা রেখে ফেরত দিয়েছে । আবার কারো কারো পুরো জমিটাই নিয়েছে দখল করে। নারায়নগঞ্জ সদরে তিনি একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র এবং সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন।
কাশিপুর ও ভোলাইল এলাকার সাধারন মানুষের অভিযোগ, একটি পরিপক্ক ধূরন্দর প্রতারক দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর- ভোলাইল, শান্তিনগর ও পঞ্চবটি এলাকায় অসহায় নিরীহদের সহজ আয়ের পথ দেখানোর নামে চুক্তিপত্রে উল্লেখিত টাকা না দিয়েই বাড়ীর দলিল হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী দিয়ে কখনও এমপি শামীম ওসমান কখনও হেলাল ও কখনও আওয়ামী নেতা শাহ নিজামের নাম ভাঙ্গিয়ে জোর করে আদায় করছে লাখ লাখ টাকা। এর সাথে আছে আবার এলাকার মেম্বারাও। এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা হিসাবে রয়েছে অলি। আওয়ামিলীগ নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে এই অলি বাহিনীর প্রতারক সদস্যরা এলাকার সাধারন মানুষকে বিষিয়ে তোলছেন। ভয়ে ভুক্তভোগীরা ভয়ে এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। আগামী নির্বাচনের আগে এই ধরনের আওয়ামিলীগ নামধারী প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জাতীয় নির্বাচনে এর একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

আরো জানাগেছে, এনায়েতনগর এলাকার মুসলিম নগরে বসবাসকারী আব্দুল করিমের ছেলে আল আমিন ও উত্তর কাশিপুর শান্তি নগরের আব্দুর রহিমের ছেলে অলি আহমেদ টিটু তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন প্রকার প্রতারনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। নিরীহ মানুষদের ব্যাংক লোন,সমিতি থেকে লোন তুলে দেবার নাম করে বাড়ীর দলিল বাগিয়ে নিয়েই ষ্ট্যাম্পে সই নিয়ে টাকা না দিয়েই উল্লেখিত টাকা পরিশোধ করতে বলে নইলে বাড়ীর দলিল পাবে না এবং জমি দখলের হুমকী দেয়। সম্প্রতি অলি গংদের ফাঁদে পা দেয় ঐ একই এলাকার মোঃ আনিস মোল্লার ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান । নুরুজ্জামান অল্প শিক্ষিত। ব্যাবসায় লস করায় দিশেহারা তাই পূর্ব থেকে জানা প্রতারক অলি গং তাকে ব্যাবসার জন্য খুব সহজেই সমিতি বা ব্যাংক থেকে লোন তুলে দিবে বলে বার বার ফুঁসলাতে থাকে তবে বাড়ীর দলিল একদিনের জন্য লাগবে বলে জানায়। চিন্তিত নূরউজ্জামান দলিল দিতে পারবেনা বলে জানালে প্রতারক চক্রের আলআমিন ও অলি তাকে নিয়ে দলিল চুরি করে । নুরুজ্জামানের বড় ভাই নুর মোহাম্মদকে ঋণ গ্রহিতা করে একটি জাল রেজিষ্টার ঋন চুক্তিপত্র করে তিন লক্ষ আটাত্তুর হাজার টাকা দাবি করছে নারায়ণগঞ্জ সদরের দেওভোগ ইসদাইরের সন্ত্রাসীদের দিয়ে। এদিকে নুর মোহাম্মদের নামে সৃজিত জাল দলিল করা ও তার বাড়ীর আসল দলিল চুরি হওয়ায় ঘটনায় ভেংগে পড়েন এবং দলিল উদ্ধারের মামলা আদালতে করেন । উক্ত সন্ত্রাসীরা টাকা পরিশোধ না করলে মেরে ফেলা হবে বাড়ী ঘর দখল করা হবে বলে নানান হুমকী ধামকী দিতে থাকে । ঐ সন্ত্রাসীদের সাথে স্থানীয় মেম্বারও টাকা চাইতে থাকে বলে অভিযোগ আছে।। প্রতারকটক্র , এমপি শামীম ওসমানের লোক বলে পরিচয় দেয় কখনও হেলাল আবার কখনও আওয়ামীনেতা শাহ নিজাম ও বাদলের পরিচয় দেয়। প্রতারক চক্রের একজন মোবাইল নাম্বার ০১৬২৫৬৩৭৮৫০ থেকে নিজেকে সিয়েরা লিওনের নৌবাহিনীর সদস্য এবং শাহ নিজামের আত্মীয় বলে পরিচয় দেয় আবার কখনও নারায়নগঞ্জ জেলা ক্রীড়া পরিষদের অর্থ সম্পাদক আবার কখনও নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উজ্জাপন কমিটির পরশ চৌধুরী নামে মোবাইল নং ০১৬৮৭৭১৪৪৯৭ থেকেও ফোন দেয় এবং আওয়ামী নেতা হেলাল, কখনও শামীম ওসমান,কখনও শাহ নিজাম কখনও ভিপি বাদলের নাম ভাঙ্গিয়ে বাদি নুর মোহাম্মদ ও তার এক নিকটাতœীয়কে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভূক্তভোগীর বাড়িতে তালাও মেরে দেয়।একদিন দুইদিন করে দলিল ফেরত না দিয়ে উল্টো নুর মোহাম্মদকে ঘর ছাড়ারও প্রানে মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে। প্রতারক চক্র অলি গংদের থেকে বাঁচতে নুরমোহাম্মদ নারায়ণগঞ্জ কোর্টে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন যার নং- ১৪৩,স্মারক নং১৪৫,১৫/৫/২০১৮।বাদী অভিযোগের সুরে বলেন মামলা করার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেল আজও ফতুল্লা থানা পুলিশ তদন্তে এলোনা রহস্যজনক কারনে। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে ৯৯৯ এ কল করেও পুলিশের কাছে তেমন সাড়া পাননি ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে প্রতারকচক্র জামিন নিয়ে বাদিকে বিভিন্ন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এখনো ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে বিএনপি নেতা অলি আহম্মেদকে ফোন করিলে তিনি বলেন, বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা গোলাম মর্তুজা আমার দাদা হয়। এরা মামলা করছে করুক আমরা তাদেরকে কোন হুমকি ধামকি দেইনি। আমি বিএনপি করিনা । আমি বঙ্গবন্ধু সৈনিক দলের আছি । আমি যদি প্রতারনা করে থাকি তাহলে আইন আমার বিচার করবে । অনেকেই আমার বিরুদ্ধে নানা কিছু বলে বেড়ায় । এটা যদি আপনারা পেপারে লিখেন আপনাদের হাত আমি আটকে রাখতে পারবোনা। আপনি তো বিএনপির ক্যাডার ছিলেন? আপনার দল ক্ষমতা হারানোর পর পর আপনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। এমন প্রশ্নের জবাবে অলি বলেন, আমি মর্জুজা সাহেবের সাথে কথা বলে আপনাকে ফোন দিচ্ছি এই বলে ফোন কেটে দেন অলি আহম্মেদ। পরে তাকে একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

অলি আহম্মেদের বিষয়ে জানতে চেয়ে আওয়ামীলীগ নেতা শাহ নিজামকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স/রহ