রেজাউল ওয়াদুদঃ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে মুক্তিযোদ্ধা রাজা মিয়া কি অপরাধ করেছেন এ প্রশ্ন এখন সর্বত্র। গত ৩০/০৭/২০১৭ইং তারিখে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন। তাঁকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার, প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করেছে। কিন্তু এ-গার্ড অব অনার প্রদান তার গোটা পরিবার, এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের কাছে রীতিমত “ইয়ার্কী” করার নজির হিসেবে চিহ্নিত হলো।
যে মুক্তিযোদ্ধা জীবিত থাকা কালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার পাত্র ছিলেন। বেতন ভাতা তেকে তাকে নির্মম ভাবে বঞ্চিত করেছে, দুর্নীতির বিকারগ্রস্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী।
রোগ-শোক, অভাব-অনটন, দুঃখ-দারিদ্র ছিল তাঁর নিত্য সঙ্গী। অবশেষে বিনা চিকিৎসায় তিনি অনিদ্রায়, অনাহারে থেকে চলে গেলেন।
তার স্ত্রী মিসেস আমেনা খাতুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, সংশ্লিষ্ট সচিব এর কাছে লিখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, আমি গভীর দুঃখ বেদনার সাথে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় জানাচ্ছি, আমার স্বামী মোঃ রাজা মিয়া মহান মুক্তিযোদ্ধা বীর সৈনিক হিসেবে ২নং সেক্টরে মেজর হায়দারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। মেজর হায়দার তার মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাওর গনী ওসমানী (সনদ নং-৮৬৪১৬, মুক্তি বার্তা নং-০২০৪১২০৩৯৬, সবুজ বই নং-০২০৪১২০৩৯৬, গ্রাম-রাজাপুর, পোঃ জয়পুর, থানা-হোমনা, জেলা-কুমিল্লা, ওয়েব সাইট নং-৩০৩ এর সনদে) চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেছেন। তার যাচাই বাচাই ফরম নং-৭৪।
মিসেস আমানে খাতুন আরো বলেন, এ মহান মুক্তিযোদ্ধা গত ৩০/০৭/২০১৭ইং তারিখে ঢাকা জেলার উত্তরখান থানার চাঁনপাড়া এলাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে, বিনা চিকিৎসায় ইন্তেকাল করেন।
এই খবর পেয়ে নথি পত্র যাচাই করে সরকারি প্রশাসন ও বাংলাদেশ পুলিশ এসে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। অথচ জীবিত অবস্থায় তিনি কিছুই পেলেন না। স্বাধীন দেশের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে তার মূল্যায়ন হয়নি।
মিসেস আমেনা খাতুন আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা ও তারদের পরিবারের অভিভাবক। তিনি বলেন, আমার স্বামী একজন সৎ লোক ও সহজ সরল মানুষ ছিলেন। দেশের শান্তি সমৃদ্ধি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি জীবন দিয়ে গেলেন। কিন্তু অর্থ বিত্ত সম্পদ ভাতা তিনি কিছুই পেলেন না। আমি বর্তমানে আমার ০৫(পাঁচ) সন্তান নিয়ে বড়ই দুঃখ-কষ্টে তিন কাটাচ্ছি। আমার প্রশ্ন কেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীন দেশে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেন।
আমি আমার সন্তানদের জন্য আমার স্বামীর বকেয়া যাবতীয় প্রাপ্য ও ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করতে আপনাদের বরাবরে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। (মোবাইলঃ ০১৭৫৬৮৬৪৯৩৮)

