মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বল, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি :
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজে অফিস সহকারী পদে নিয়োগের জন্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে গোপনে নিয়োগ প্রদান চলছে এমন সংবাদ পেয়ে প্রতিবাদ মিছিল, কলেজ ভাংচুর, শ্রেনীকক্ষে তালা ও অধ্যক্ষকে ধাওয়া দিয়েছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বাবুখালী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ রবিউল আলম তার কলেজে একজন অফিস সহকারী পদে লোক নিয়োগের জন্য একই এলাকার মোঃ সেলিম রেজা, মোঃ লিয়াকত, মোঃ আকিদুল মোঃ লালমিয়া,মাজারুল খাঁন, সোহাগ মৃধা, পরানমিয়া, মোহন মিয়া, নিশান্ত কুমার, মোঃ কোবাদশেখ সহ ১০-১৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ৮-১০ লাখ করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেবার পরও দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত পদে কাউকে নিয়োগ প্রদান করেনি। শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের কাউকে কিছু না জানিয়ে বেশি টাকা পেয়ে অন্য একজন প্রার্থীকে ওই পদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছিল। এমন সংবাদ জানতে পেরে এলাকার সর্বস্বহারা টাকা প্রদানকারীরা স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের অবৈধ নিয়োগ বানিজ্য বন্ধ এবং অধ্যক্ষের অপসারণ চেয়ে এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা কলেজের শ্রেণীকক্ষ ভাংচুর করে প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং কলেজ অধ্যক্ষকে ধাওয়া দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়। পরে নিয়োগ বন্ধ করার দাবিতে ও অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে স্থানীয়রা পুনরায় আলোচনাসভা করে কলেজ মাঠে। আলোচনা সভায় স্থানীয়রা অধ্যক্ষের অপসারন ও নিয়োগ বানিজ্য বন্ধের দাবি করে।
বাবুখালী এলাকার চালিমিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী মাজহারুল খাঁন জানান, তাকে ওই পদে নিয়োগের কথা বলে অধ্যক্ষ এক বছর আগে ১০ লক্ষ টাকা নিয়েও নিয়োগ দিচ্ছেনা। এ সময় আরো কয়েকজন ভূক্তভোগী লিয়াকত, আকিদুল, লালমিয়া, সোহাগ, পরানমিয়া, মোহন মিয়া, নিশান্ত কুমার,সকোবাদ জানান তারাও ৮-৯ মাস আগে অধ্যক্ষের চাহিদামত টাকা দিয়েও নিয়োগের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তারা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাগুরা জেলা পরিষদের সদস্য আলী আহম্মেদ মিঞ্জু বলেন, অফিস সহকারী পদে নিয়োগ নেবার জন্য অধ্যক্ষ সৈয়দ রবিউল আলমের চাহিদামত ঘুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেকে পৈতৃক ভিটামাটি বিক্রয় করে টাকা দিয়েছে। তারপর ও নিয়োগ পায়নি। এমন ঘুষখোর অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত অধ্যক্ষের অপসারণ ও নিয়োগ বন্ধ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিদ্যালয় পর্যালোচনা পরিষদের সভাপতি শ্রী-বীমলেন্দু শিকদার বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ একাধিক লোকের নিকট থেকে টাকা নিয়েছে বিষয়টি তিনি জানতে পেরে অধ্যক্ষকে কয়েক দফায় বারন করেও কোন ফল পায়নি । তাই তিনি নিয়োগের দিনে বোর্ডে হাজির হয়নি এছাড়া অধ্যক্ষ তাকে নিয়োগের ব্যাপারে কোন কিছুই জানায়নি।
কলেজ অধ্যক্ষ সৈয়দ রবিউল আলমের নিকট বিষয়টি জানতে গেলে তিনি এ ব্যাপারে কোন বক্তব্যই দিতে রাজি হয়নি।
বাবুখালী পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বরত এসআই রিয়াদুল ইসলাম জানান, সকালে কলেজ ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তেজিত থাকলেও পরে পরিবেশ ঠিক হয়। এ সময় কলেজ অধ্যক্ষকে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেনা তবে ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

স/এষ্

