মাগুরার আলোচিত ‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়েজিদ অার নেই
মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বল, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি ॥
দেশে বিদেশে আলোচিত মাগুরার মহম্মদপুরের খালিয়া গ্রামের সেই ‘বৃদ্ধ শিশু’ বায়েজিদ (৬) দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থাকার পর অবশেষে চিকিৎসাধীন আবস্থায় মারা গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি……….রাজিউন)।
৬ বছরের বৃদ্ধ শিশু বায়েজিদ কে নিয়ে ২০১৬ সালের ২২ মে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডট কমে ‘মায়ের কোলে বৃদ্ধ শিশু’ শিরোনামে সর্বপ্রথম বায়েজিদকে নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর দেশে বিদেশে প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচিত হলে সরকার বায়েজিদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহন করেন। গত এক বছর ধরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলে। বেশ কিছুদিন সুস্থ্য থাকার পর সে সম্প্রতি গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
বায়েজিদের বাবা লাভলু শেখ জানান, তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। প্রথম সন্তান বায়েজিদ তাদের ঘর আলোকিত করে পৃথীবিতে এসেছিলেন। ২০১২ সালের মে মাসে মাগুরার মাতৃসদন হাসপাতালে তার স্ত্রী তৃপ্তি খাতুন বায়েজিদের জন্ম দেন। বায়েজিদের প্র¯্রাবে বাধাগ্রস্ততাসহ সর্দি কাশি এবং প্রচন্ড শ^াস-কষ্টসহ নানা ধরণের জটিলতায় ভূগছিল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। জন্মের তিন মাসের মধ্যে বায়েজিদের দাঁত ওঠে। সেই সাথে ছোট্ট এই শরীরকে ঘীরে বাড়ে অসুখের প্রকোপ। জন্মের পর বিভিন্ন স্থানে চিকিৎকদের স্মরণাপন্ন হলেও স্বাভাবিক চেহারায় ফিরে অসেনি শিশুটি।
গত বছর ২৯ মে মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জানায় বিরল রোগ প্রজেরিয়া-য় আক্রন্ত বায়েজিদ। মেডিকেল বোর্ডের স্বীদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা করানোর পর কোন ফল না পেয়ে দরিদ্র লাবলু শিকদার ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
মাগুরার আলোচিত বৃদ্ধের মত চেহারার জন্য খ্যাত বায়েজিদ আবারো গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। রবিবার রাতে বায়েজিদ বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বায়েজিদ মারা যান। বায়েজিদের লাশ মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামে মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ দেবাশীষ বিশ^াস জানান, প্রজেরিয়া রোগ বিরল জেনেটিক অসঙ্গতি। এক কোটি শিশুর মধ্যে একজনের শরীরে এর অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। পৃথীবিতে এই পর্যন্ত প্রজেরিয়া রোগে আক্রন্ত ১০০ টির মতো রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স/মা

