শিরোপা দুয়ার খোলা আছে, আবার নেইও। রিয়াল মাদ্রিদ পা হড়কালেই না লা লিগা জয়ের ঝাপসা পথটা পরিষ্কার হবে বার্সেলোনার সামনে। পরশু রাতে লিগ ম্যাচে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকই সেরে রেখেছিল বার্সা। তবে পরের ম্যাচে গ্রানাদার মাঠে রিয়ালও জেতায় লা লিগা সাসপেন্স নতুন মোড় নেয়নি। দুই জায়ান্টেরই পয়েন্ট এখন সমান, তবে এক ম্যাচ হাতে বেশি থাকায় লা লিগায় ‘অ্যাডভান্টেজ’ রিয়াল বহাল রয়েছে এখনো।
ওদিকে তুরিন ডার্বির সেই রমরমা দিন আর নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালও সামনে। তাইতো জুভেন্টাস সাহস করল দ্বিতীয় একাদশ নামিয়ে দিতে! শনিবার খুব আলগোছেই হয়ে গেল তুরিন ডার্বি, যাতে একেবারে শেষ সময়ে গনসালো হিগুয়েইনের গোলে হার এড়াল জুভেন্টাস। বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ তো শিরোপা উৎসব করেই ফেলেছে, শনিবার ঠিক হয়ে গেল লিপজিগই হচ্ছে রানার্স-আপ। দুই রাউন্ড বাকি রেখেই তৃতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ৬ পয়েন্টের ব্যবধান দ্বিতীয় স্থানে থাকা আরবি লিপজিগের। সেটা কমানোর সুযোগ আর নেই ডর্টমুন্ডের, তাই লিপজিগই হচ্ছে রানার্স-আপ এবং সেই সুবাদে আগামী মৌসুমে তারাই হতে যাচ্ছে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন অতিথি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগটা ২-০তে জিতে এগিয়ে থেকেও তুরিন ডার্বিতে সেরা দল নামানোর ঝুঁকিটা নেননি ম্যাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি। গোলবারে জিয়ানলুইজি বুফনের বদলে নেতো, রক্ষণে বনুচ্চি থাকলেও কিয়েল্লিনি নেই। মোনাকোর বিপক্ষে দুটি গোলের কারিগর দানি আলভেসকে নামালেন না, আর গোলদাতা হিগুয়েইনকেও নামাননি শুরুতে। পরে অবশ্য একরকম বাধ্যই হয়েছেন! গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর অ্যাডাম লাইচের ৫২ মিনিটে করা গোলে এগিয়ে যায় তুরিনোই, এরপরই ৫৬ মিনিটে হিগুয়েইনকে নামান আলেগ্রি। এক মিনিট পরই ফাউল করে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তুরিনোর আফ্রেই অ্যাকোয়াহ। তাতে প্রতিপক্ষের একজন কমে গেলেও গোল বের করতে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় জুভেন্টাসকে। ইনজুরি সময়ে মিরালেম পিয়ানিকের অ্যাসিস্ট থেকে ডানপায়ের শটে গোল করেন হিগুয়েইন। তাতেই ১ পয়েন্ট মেলে জুভেন্টাসের। জিতলে শিরোপা উৎসবটাই সেরে ফেলতে পারত আলেগ্রির শিষ্যরা। তিন ম্যাচ হাতে রেখে সিরি ‘এ’তে শীর্ষে থাকা জুভেন্টাসের পয়েন্ট ৮৫, দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাপোলির ৭৭। শনিবার আর ২ পয়েন্ট পেলেই ব্যবধানটা হয়ে যেত ১০, সে ক্ষেত্রে নাপোলির আর সুযোগ থাকত না। ১ ম্যাচ কম খেলা রোমা কাল রাতে যদি এসি মিলানের কাছে পয়েন্ট হারিয়ে থাকে, তাহলে দুইয়ে থাকবে নাপোলিই।
লিস্টার সিটির মতো রূপকথার সমাপ্তি হয়তো হয়নি তবে আরবি লিপজিগের উত্থানের গল্পটাও কম রোমাঞ্চকর নয়! ২০০৯-১০ মৌসুমেও তারা ছিল জার্মান পেশাদার লিগ কাঠামোর পঞ্চম স্তরে। সেখান থেকে রেডবুল এনার্জি ড্রিংকের মালিকানায় যাওয়ার পর রীতিমতো আরব ঘোড়ার মতোই ছুটেছে তারা। পরের প্রতিটি ধাপেই শীর্ষস্থানে থেকে তারা জায়গা করে নিয়েছে ঘরোয়া সর্বোচ্চ স্তর বুন্দেসলিগায়। এখানেই শেষ নয়। বুন্দেসলিগায় রানার্স-আপ হয়ে লিপজিগ সামনের মৌসুমে খেলবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও। শনিবারের ম্যাচে লিপজিগ ৪-১ গোলে হারিয়েছে হার্থা বার্লিনকে। টিমো ওয়ার্নার ও ডেভি সেলকে, প্রত্যেকেই করেছেন জোড়া গোল। একই দিনে পিয়েরে এমেরিক অবেমেয়াং ও মার্কো রয়েসের গোলে ডর্টমুন্ডও জিতেছে হফেনহেইমের বিপক্ষে, ২-১ গোলে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখে গ্রানাদার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদও খেলায়নি পূর্ণশক্তির দল। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর না খেলার কথা আগেই জানা, তিনি দলের সঙ্গেই যাননি। একাদশেও মার্সেলো, মডরিচ, ইসকোদের কেউই ছিলেন না। তবু তলানিতে থাকা গ্রানাদার বিপক্ষে জিততে কষ্ট হয়নি রিয়ালের, প্রথমার্ধেই হামেস রোদ্রিগেস ও আলভারো মোরাতা জোড়া গোল করে ব্যবধানটা ৪-০ করে ফেলেন। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আর গোল পায়নি রিয়াল। তার আগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনা জিতেছে ৪-১ গোলে। গোল করেছেন ‘এমএসএন’ত্রয়ীর সবাই। মেসির জোড়া গোল, একটি করে গোল লুই সুয়ারেস ও নেইমারের। স্কাই, লাইভগোলস
স/নিপা

