ইকবাল কবির : গত কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি করলেও পাট চাষের জন্য তা অশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। সময়মত বৃষ্টি হওয়াতে পাটের উৎপাদন ব্যয় যেমন কমেছে তেমনি পাট নিয়ে কৃষকের দুঃশ্চিন্তাও অনেকটা মন থেকে সরেগেছে।
যে মাঠে এক মাস আগেও রবি ফসলের সমারোহ ছিল সেখানে আজ বাতাসে দুলছে পাটের বাড়ন্ত সবুজ লকলকে ডগা । ঘন সবুজ মাঠে প্রতিটা জমির পাট দেখতে একই রকম মনে হচ্ছে। বাঘারপাড়া কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ধলগ্রাম ইউনিয়নের মানিকদহ গ্রামের কৃষক হরিচাঁদ বিশ্বাস। তিনি এ বছর দুই একর জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, গত মৌসুমে এমন সময় বোরো ঘরে তোলার জন্য যেমন ব্যস্ত ছিলাম তেমনি পাটের জমিতে সেচ ও কীট নাশক ছিটাতে হিমসিম খেতে হয়েছে। সারাদিন ব্যস্ত থেকেছি বোরো নিয়ে। আর সন্ধ্যার পর ব্যস্ত থাকতে হয়েছে পাটের জমিতে সেচ দেওয়া ও কীট নাশক ছিটাতে। এ বছর পাটের জমিতে সেচ দেওয়া লাগেনি। সময়মত পাটের জমি বৃষ্টির পানি পেয়েছে। এতে করে পাট দ্রুত বেড়ে উঠছে। ফলে আগাছা পাট গাছের নীচে তেমন একটা বাড়তে পারছে না। পোকা মাকড়ের আক্রমনও এবার কম। একই গ্রামের কৃষক সুজিত বিশ্বাস হরিচাঁদের সাথে সুর মিলিয়ে বলেন, পাটের এখন যে অবস্থা তাতে আগাছা পরিস্কারের আর প্রয়োজন হবে না। আগাছা যা হবে তা পাট বাচকের সময় পরিস্কার করলেই চলবে। খরচ বলতে এক থেকে দু’বার ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলেই হয়ে যাবে।
বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম বলেছেন, ‘চলতি আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে। পাট চাষে বৃষ্টি কার্যকর ভূমিকা রাখে। বৃষ্টির কারণে মাইট পোকার (মাকড়) আক্রমণ কমে যায়। একইসাথে পাট গাছের দ্রুত বর্ধনে পোকার আক্রমনেও তেমন ক্ষতি হয়না। তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্য বলেন, বৃষ্টির অভাব দেখা দিলে কেউ যেন তপ্ত রোদে জমিতে সেচ না দেয়। আর পাট গাছের বয়স ৩০/৩৫ দিন বয়স হলেই অবশ্যই পরিমাণমত ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে। তাহলে পাট গাছ সঠিক মাত্রায় বেড়ে উঠবে। ঘোড়া পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন এ কর্মকর্তা।
স/এষ্

