বৃদ্ধা মাকে ভাত দেয়না ছেলে পাশে দাড়ালো ইউএনও
মোঃ কামরুল ইসলাম খান ফুলপুর থেকে– ময়মনসিংহের ফুলপুরে বৃদ্ধা মাকে নিজ ছেলে ভাত না দেওয়ায় বৃদ্ধার পাশে দাড়ালো ইউএনও।
ফুলপুর উপজেলার ৬নং পয়ারী ইউনিয়নের পশ্চিম সাহাপুর গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৭০)। মরহুম সুরুজ আলীর এক ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে এবং স্ত্রী রেখে মৃত্যু বরণ করেন।
১৮ ই মার্চ বৃহস্পতিবার বিকালে মরহুম সুরুজ আলীর বয়োবৃদ্ধা স্ত্রী ফাতেমা খাতুন (৭০) শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে অনেক কষ্টে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শীতেষ চন্দ্র সরকার এর কার্যালয়ে আসেন এবং কান্নাজড়িত কন্ঠে উনার ছেলের বিরুদ্ধে তাকে ভাত না দেওয়া ও প্রতারণা করে তার নামের জমি ছেলের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ করেন।
ইউএনও প্রথমেই বৃদ্ধা ফাতেমা খাতুনকে দুপুরের খাবার খেয়েছেন কিনা তা জিগ্যেস করেন এবং তাৎক্ষণিক হোটেল থেকে বৃদ্ধার জন্যে খাবারের ব্যবস্থা করেন। অতঃপর তিনি বৃদ্ধার মুখে করুণ কাহিনী শুনে তাৎক্ষণিক বৃদ্ধাকে নিজ গাড়িতে করে বৃদ্ধার বাড়িতে যান এবং উক্ত বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে বৃদ্ধার ছেলেকে ডাকেন।
তারপর তিনি স্থানীয়দের উপস্থিতি ও সাক্ষীর প্রেক্ষিতে বৃদ্ধার ছেলে মিরাজ আলীকে (৫০) নিজ মাকে ভাত না দেওয়া ও ঠিকমত দেখাশোনা না করার জন্যে কঠোরভাবে সতর্ক করেন এবং ভবিষ্যতে মায়ের সাথে এ ধরনের অমানবিক ও বেয়াদবিমূলক কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন।
তবে যদি সত্যিকার দরিদ্রতার জন্যে বৃদ্ধা মা ভাত খেতে না পায় তাহলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে তাকে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া তিনি পয়ারী ইউপি চেয়ারম্যানকে স্থানীয়দের নিয়ে ও জমির কাগজপত্র নিয়ে বৃদ্ধার জমি লিখে নেওয়ার বিষয়ে একটি স্থানীয় সালিশের জন্যে আহবান জানান।
উক্ত সালিশে প্রয়োজনে ইউএনও নিজেও উপস্থিত থাকবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাশার ভূইয়া, উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ, ফুলপুর উপজেলা শাখার যুব রেড ক্রিসেন্টের যুব প্রধান তাসফিক হক নাফিও,অত্র ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী রুবেল ফকিরসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
স/বি

