বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে কয়েকজন খেলোয়াড়কে ছেঁটে ফেলা হবে, সেই আভাস পাওয়া গিয়েছিল আগেভাগেই। তবে একসঙ্গে ছয় ক্রিকেটারের চুক্তি থেকে বাদ পড়ার খবরটি একটু অপ্রত্যাশিতই।
বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়া ছয় ক্রিকেটার হলেন- সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, কামরুল ইসলাম রাব্বি, ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ এবং সাব্বির রহমান।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভবিষ্যত মনে করা হয় এই ছয় ক্রিকেটারকে। বাদ পড়ার পর নিঃসন্দেহে বড় ধরণের মানসিক ধাক্কা খেয়েছেন তারা। বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও মনে করছেন, তারা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত। এমন কঠিন সময়ে সৌম্য-সাব্বিরদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিই ব্যক্ত করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।
বৃহস্পতিবার (১৯ এপ্রিল) নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আইপিডিসির চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের সতীর্থদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন মাশরাফি। তাদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে টাইগার দলপতি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের সত্যিকারের ভবিষ্যৎ। তাদের সমর্থন করা আমাদের প্রত্যেকের এখন দায়িত্ব। আমার জায়গা থেকে আমি পিছু পা হব না। যতপ্রকার সমর্থন দেওয়ার তাদের আমি দেব। জানি যে বাংলাদেশের এত বেশি বিকল্প খেলোয়াড় নেই। আজ যে তিন চারজনের নাম বলছেন, এরাই বাংলাদেশের সত্যিকারের ভবিষ্যৎ। তারা নিজেদের ছোট ক্যারিয়ারে সেটি প্রমাণ করেছে। আমার বিশ্বাস ধারাবাহিকতা বাড়িয়ে যদি ফর্মে ফিরে আসে দীর্ঘদিন বাংলাদেশকে সার্ভিস দিতে পারবে।’
সাব্বির-মোসাদ্দেক-সৌম্যদের অফফর্মের দিকে না তাকিয়ে তাদের বয়সটাও গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সবার বিবেচনায় আনা উচিত, মনে করছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘এক সময় সাকিব-তামিম-আমরা এমনই ছিলাম। বলতে পারেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই লেভেলের না থাকায় আমরা টিকে গেছি। ক্রিকেট খেলাটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। ছোটখাটো বিষয় বেশি সমালোচনার ওপর চলে আসে। ২২-২৩ বছর বয়সে এত সমালোচনা নিয়ে মাঠে যেয়ে ধারাবাহিক ভালো খেলা তাদের জন্য কঠিন।’
তবে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়লেই একজন খেলোয়াড়ের সব শেষ হয়ে গেল, মনে করছেন না মাশরাফি। বিসিবির সিদ্ধান্তকেও অসম্মান করছেন না তিনি, ‘বেতনটা একটা খেলোয়াড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, একই সময়ে একজন খেলোয়াড়কে ততটুকু প্যাশনেট হয়ে খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস সবাই সেভাবে খেলছে। এখন পারফরম্যান্স সব সময়ই একই গ্রাফে চলে না। কারও কখনো ভালো যায়, কারও কখনো খারাপ। বেতনের বিষয়টা নির্ভর করে পারফরম্যান্সের ওপর, এটাও সত্য কথা। সবকিছু সম্পর্কিত। এখন বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত।’
স/এষ্

