রেভেন কিটনাশক ফ্যাক্টরির বালাই দমন বিষ খোলা প্যাকেটজাতের কারণে বিষক্রিয়ায় ভারি নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের বাতাস। ফ্যাক্টরির আশপাশের বসবাসকারী অসহায় মানুষ ও শিশু-কিশোর দীর্ঘদিন ধরে ভুগছে স্বাস্থ্যহানীসহ নানা রোগে।
ফ্যাক্টরির খুব কাছে রয়েছে পাচঁটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে সরকারি এমপিও ভুক্ত আনন্দলোক হাইস্কুল রয়েছে। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা সাত হাজার। এছাড়া ফ্যাক্টরির কোল ঘেঁষেই রয়েছে মারকাযুল কোরআন বাংলাদেশ মাদ্রাসাটি। সেখানেও শিশু-কিশোর ৩০০ জন। এছাড়া ও আলহেরা স্কুল, মৌচাক আইডিয়াল স্কুল ও অক্সফোর্ড হাই-স্কুলে রয়েছে দুই হাজার ছাত্র-ছাত্রী। মৌচাক আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এম আর রাজু বলেন, আমরা এই ফ্যাক্টরির করালগ্রাস থেকে বাঁচতে চাই। ঐ ফ্যাক্টরিটির পাশে আরেকটি মশার কয়েল ফ্যাক্টরি রয়েছে। ক্যামিক্যালের ঝাঁঝালো গন্ধে শিশু-কিশোরদের ক্লাস করতে কষ্ট হয়। বিষয়টির সমাধান প্রয়োজন।
এসব শিশু-কিশোররা স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছে। আর সামাধানের পথ খুঁজছে অভিভাবকরা। স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন বলেন, মাঝে মাঝে ঝাঁঝালো গ্যাস নাকে আসে। ২০০৯ সালে চালুর পর আমরা প্রথম শুনেছি ফ্যাক্টরিটিতে হোমিও ঔষধ তৈরি হয়। পরে স্থানীয় মেম্বার ও আনন্দলোক স্কুলের সভাপতি রহিমসহ ভেতরে ঢোকে কি তৈরি হচ্ছে তা দেখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। সিকিউরিটি গার্ডরা কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না। ফ্যাক্টরির মালিকের ভয়ে পরবর্তীতে কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলেনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ক্যানেল পাড় এলাকায় রাভেন কিটনাশক উৎপাদন শুরু করে কোম্পানিটি। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে পণ্য কিটনাশক ও বালাই দমন বিষ খোলামেলাভাবে উৎপাদন করে আসছে। প্যাকেটজাত করার সময় মাস্ক ও হাতের গ্লাভস ছাড়া শ্রমিকরা কাজ করছে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে শ্রমিকদের। এছাড়া ফ্যাক্টরিতে ক্যামিস্ট নেই বলেও জানান ফ্যাক্টরির ডিষ্টিবিউশন ম্যানেজার আসাদুজ্জামান । তিনি নিজেকে মালিক পক্ষের আত্মীয় বলে পরিচয় দেন।
স্থানীয় কাউন্সিলর ইকবাল বলেন, আমি ফ্যাক্টরিটির বিষয়ে শুনেছি। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ফ্যাক্টরি থাকা ঠিক না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসলে আমরাও প্রতিহত করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আছি। বিশেষত স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যহীনতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ প্রসঙ্গে কোম্পানির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নতুন সময়কে বলেন, আমরা শিগগিরই ফ্যাক্টরিটি স্থানান্তার করব।
ফ্যাক্টরির সামনে কোন প্রকার সাইনবোর্ড ও নেমপ্লেট না থাকায় কোম্পানির নামও এলাকাবাসীর অজানা। শুধু ভুতুড়ে ক্ষমতার কথা লোকমুখে শোনা যায়। এলাকাবাসী উক্ত করালগ্রাস থেকে বের হয়ে আসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছে।

