ঢাকামঙ্গলবার , ৮ আগস্ট ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়ায় বন্ধ হচ্ছে না শিশু শ্রম!

admin
আগস্ট ৮, ২০১৭ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সাঈদ ইবনে হানিফ॥ যশোরের বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া এলাকায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ এলাকায় কর্মরত বিভিন্ন এনজিও ও মানবাধিকার সংগঠন গুলোর শিশু শ্রম বন্ধের বিভিন্ন হাঁক-ডাক দেখালেও মূলত এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে শিশু কিশোরদের মানষিক বিকাশের জন্য যে অক্ষর বা শিক্ষার প্রয়োজন ছিল তা থেকে তারা ক্রমেই বঞ্চিত হচ্ছে। আর বঞ্চিত হওয়ার কারণ হিসেবে আর্থিক অসচ্ছলতা ও দরিদ্রতাকেই দায়ি করছেন সচেতন মহল। বেশির ভাগ অভিভাবকগণ এই ধরনের অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে হীণ মানষিকতা ও চরম অসচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে যার ফলে অকালে শিক্ষা বা অক্ষর জ্ঞাণ লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আগামি দিনের ভবিষ্যত বলে খ্যাত আমাদের আজকের দিনের শিশু কিশোররা। এমনই একজন আরফিন হোসেন, পিতা হাবিবুর রহমান গ্রাম সদুল্যাপুর দুই ভাই ৩ বোনের মধ্যে সে বড়। তার পিতা একজন ইট ভাটা শ্রমিক। সংসারে অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে সে ইঞ্জিন চালিত ভ্যান গাড়ি চালাচ্ছে। অপর জন জগন্নাথপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ই¯্রাফিল সেও তৃতিয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। এরপর কথা হয় মটর মেকানিক প্রেমবাগ গ্রামের মৃত রেজাউল ইসলামের ছেলে সাকিবের সাথে, সে স্থানিয় একটি বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। সংসারের হাল ধরার আশায় তিনি যোগদান দিয়েছেন মটর মেকানিকের কাজে। এমনই অসংখ্যা শিশু শ্রমিক দেখা যায় বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্কসপ, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও গ্যারেজসহ বিভিন্ন কারখানায়।
অনুসন্ধানকারি তথ্য মতে, এই এলাকায় বর্তমান জনসংখ্যার অনুপাতে শিক্ষার হার আশানুরুপহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। বরং বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এর হার ক্রমাগতভাব কমছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০০৫ সালের তথ্যানুযায়ি বর্তমানে বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া এলাকায়া রয়েছে ১০টি কলেজ এর মধ্যে ডিগ্রি কলেজ রয়েছে ৫টি এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ৫টি। আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫২টি এর মধ্যে কলেজিয়েট স্কুল ৩টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৯টি, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ৭টি, নি¤œ-মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪টি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬টি। মাদ্রাসা রয়েছে ৪১টি এর মধ্যে ফাযিল মাদ্রাসা রয়েছে ৫টি, আলিম রয়েছে ১২টি, দাখিল মাদ্রাসা ২৪টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় বাঘারপাড়ায় ৯৮টি, বসুন্দিয়ায় ১৪টি। এছাড়াও রেজিঃ বে-সরকারী প্রাথমিক ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ এনজিও পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় শিক্ষার হার অতি নগণ্য হওয়ায় কর্তৃপক্ষ রিতিমত উদ্বিগ্ন। এক সমিক্ষায় দেখা গেছে বিগত ১০ বছর যাবৎ দ্রব্যমুল্য উর্দ্ধগতির কারণে অধিকংশ অভিভাবক ভুগছেন অর্থ কষ্টে। ফলে দরিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সচেতন পিতা-মাতাও এক সময় অচেতন হয়ে কোমল মতি সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন প্রকার শ্রম কাজে নিয়োজিত করতে বাধ্য করছেন। যার ফলে ঐ সব ভাগ্যহত শিশু কিশোররা তাদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে অতি সহায়ক শিক্ষা বা অক্ষর জ্ঞাণ লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই। সংসার চালাতে অক্ষমতার অজুহাত দিয়ে এক প্রকার অজ্ঞাতস্বরে পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের সুন্দর আগামী ভবিষ্যতের কথা না ভেবে বিভিন্ন প্রকার কায়িক শ্রমে যোগদানের মত দিচ্ছে ফলে একজনের দেখাদেখি অন্য পিতা-মাতাও উৎসাহিত হয়ে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিচ্ছে। এভাবে প্রতিনিয়ত অসংখ্যা শিক্ষার্থি শিক্ষা লাভ থেকে পিছিয়ে পড়ছে। যার ফলে বেড়েই চলেছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। আর লঙ্ঘিত হচ্ছে শিশু শ্রমিক আইন। এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় মানবাধীকার সংগঠন (গণ অধিকার ফাউন্ডেশন) এর পরিচালক ইকরামুল হক মিঠুর সাথে, তিনি বলেন শিক্ষা বঞ্চিত অবহেলিত শিশু কিশোরদের শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের সংগঠন নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু এনজিও বা সরকারের ব্যবস্থাপনার উপরে দায়ভার না চাপিয়ে এসব বিষয়ে স্ব স্ব এলাকার সমাজপতি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

স/এষ্