বাঘারপাড়ায় বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা হতাশায় অভিভাবক মহল
সাঈদ ইবনে হানিফ ঃ
উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও সহজ শর্তে চাকুরীর সু-ব্যবস্থা না থাকায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা। যেকারণে হতাশা ও সংকিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল। বেকারত্বের অভিসাপ মাথায় নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে না জানি কোন সময়, কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এই আশাঙ্খায়। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংক সহ বেসরকারী বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৭% শিক্ষিত বেকার রয়েছে এবং এই সংখ্যা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয় শিক্ষিত বেকারদের চাহিদা মোতাবেক সুষ্ঠু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়ায় এবং ঘুষ বা ডোনেশন দিয়ে চাকুরী করতে রাজি না হওয়ায় বেকার যুবকদের অভিভাবকগণ তাদের নিয়ে পড়েছেন নানা চিন্তায়। সহজ শর্তে চাকুরী না হাওয়ার কারণ হিসেবে এই সব সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বল হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগ মন্তা, নতুন কর্মস্থান বৃদ্ধির সুযোগ না হওয়া, ঘুষের পরিমান বৃদ্ধির কারণে শিক্ষিত বেকারদের তেমন কোন উন্নতি হচ্ছে না। সেই সাথে রয়েছে গত কয়েক বছরের আমাদের দেশের উচ্চ শিক্ষার মান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারার কারণে।
পশ্চিমা বিশ্বে যে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের অভাবে চাকুরী খুজতে হিম সিম খেতে হচ্ছে বেকার যুবকদের। সচেতন মহল থেকে বলা হচ্ছে বেকার সমস্যার বাড়ার সাথে সাথে আমাদের আর্থিক সামাজিক টানা পড়েন সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে জঙ্গি, সন্ত্রাস, হত্যা, ছিন্তাই, টাউট বাজির মত অসামাজিক, অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে বেকার যুবকদের জুড়িয়ে পড়ার আশাঙ্খা। খোঁজ নিয়ে জানা যায় বর্তমানে বাঘারপাড়া উপজেলায় প্রায় ৪ হাজারের ও বেশি শিক্ষিত বেকার রয়েছে, যাদের বেশির ভাগই মেধাবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান। যারা সহজ শর্তে চাকুরীর আশায় ঘুরে ঘুরে এখন ক্লান্ত। অনেকেই এখন পরিবারের স্বচ্ছলতা ধরে রাখতে কৃষিকাজ ও প্রাইভেট টিউশন পেশা বেছে নিয়েছে। এমনই একজন ঘোষনগর গ্রামের মোনতাজ সর্দারের পুত্র শরিফুল ইসলাম।
বি.এ পাশ করে চাকুরীর আশায় ঘুরে ঘুরে এখন প্রাইভেট টিউশন করে পরিবার ও নিজের খরচ যোগাচ্ছেন। অপরজন ইলিয়াজ হোসেন এম.এ পাশ করে চাকুরী না পেয়ে এখন হতাশায় দিন যাপন করছেন। অপরজন বাগডাঙ্গা গ্রামের মনিরুল ইসলাম। এম,এ পাশ করার পর চাকুরীর আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। আরো কথা হয় আজিজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত সহ অনেক শিক্ষিত বেকার যুবদের সাথে। যারা ডোনেশন দিয়েও চাকুরী করতে রাজি। কিন্তু উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও যোগ্যতানুযায়ী চাকুরী মিলছে না। বিধায় এক প্রকার হতাশায় দিন কাটছে তাদের। এ বিষয়ে উপজেলার সচেতন ব্যক্তিদের দাবী, উপজেলা ভিত্তিক শিক্ষিত বেকারদের সংখ্যা নিরূপনের মাধ্যমে তাদের তালিকা প্রকাশ করে যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষিত বেকারদের বেকারত্ব ঘুচাতে মান সম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ঘুষ দূর্নীতির অপব্যবহার রোধ করে সহজ শর্তে কর্মের সুযোগ সৃষ্টির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারে সুষ্ঠু কর্ম নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে এই সমস্যা সমাধান কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল।
স/মা

