ঢাকাশুক্রবার , ২০ অক্টোবর ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সুদিন আর বেশি দূরে নয়

admin
অক্টোবর ২০, ২০১৭ ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সুদিন আর বেশি দূরে নয়

শুভ মন্ডল দীপংকর ।।  দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত “ঢাকা অ্যাটাক” চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় গত ০৬ অক্টোবর ২০১৭। চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগে থেকেই বিভিন্ন কারনে আলোচনায় ছিল । ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মান করা হয়েছে। আর সেই কৌতূহল থেকেই গত ০৯ অক্টোবর ২০১৭ “ঢাকা অ্যাটাক” চলচ্চিত্রটি দেখতে গিয়েছিলাম সাভার সেনা অডিটোরিয়াম, নবীনগর, ঢাকা – তে। টিকেট পাবো কি পাবো না, এমন একটি সংশয় ভেতরে ভেতরে ছিল। কেননা প্রথম দু’দিন হাউসফুল ছিল। যাক হলে গিয়ে ভালোয়-ভালোয় টিকেট পেলাম। আগের প্রদর্শনীটা শেষ হতেই দর্শক বেরুতে শুরু করলো। আমার চোখ রীতিমতো কপালে। কেননা এমন উপচে পড়া ভীড় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহগুলোতে তেমন একটা দেখিনি। প্রদর্শনী শুরু হবার এক ফাঁকে টিকেট চেকারকে জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, দর্শক কেমন? এর আগের প্রদর্শনী কি হাউসফুল ছিল?” সে উত্তর দিলো, “জি ভাই, পুরা হাউসফুল।” সত্যি খুব ভালো লাগলো কথাগুলো শুনে। চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসছে, এমনটি প্রত্যাশা একজন চলচ্চিত্রপ্রেমী হিসেবে করতেই পারি না! “ঢাকা অ্যাটাক ” নিয়ে কিছু কথা বলবো বলেই পাঠকের সামনাসামনি এসেছি। এবার তাহলে শুরু করি। বেশ কয়েক মাস ধরে “ঢাকা অ্যাটাক” চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিচ্ছিলাম। কবে মুক্তি পাবে, কারা কারা অভিনয় করছে, সিনেমার গানগুলো ইউটিউবে পাওয়া যায় কিনা ইত্যাদি-ইত্যাদি। দীপঙ্কর দীপন সম্পর্কে আমার কৌতূহলটা অবশ্য পুরনো। সে সমস্ত কথা আপাতত এখানে টানবো না। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ – কে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম ‘কপ থ্রিলার’ চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রে পুলিশ বাহিনীর অনেক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে পুলিশবাহিনীর সরাসরি সহযোগীতায় এর আগে আর কোন চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। উল্লেখ্য যে, চলচ্চিত্রটির মূল ভাবনা ও কাহিনী রচনা করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি সানী সানোয়ার। নির্মাতার জায়গায় আমি দীপঙ্কর দীপনকে একশোতে একশো দিতে চাই। কেননা পুরো চলচ্চিত্রজুড়েই তিনি সাসপেন্স তৈরি এবং ধরে রাখতে পেরেছেন। দীপঙ্কর দীপন বিখ্যাত বৃটিশ নির্মাতা ‘আলফ্রেড হিচকক’র মতোই অ্যাকশন ধরে রেখেছে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। অভিনব শর্টের বুননে সাজিয়েছে চলচ্চিত্রটি। যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আদতে দেখা যায় না। চলচ্চিত্রটির শুরুই হয়েছে নান্দনিক এক শর্টের মধ্যে দিয়ে, যা একজন চলচ্চিত্র দর্শককে মুগ্ধ করে। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলার নীল নকশাকারকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পরে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের অফিসার আবিদ রহমানের উপর। চৌকশ আবিদ প্রথমে পেরে ওঠে না। তবুও অসীম সাহসিকতা আর দেশাত্মবোধ থেকে প্রানান্তর চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। আবিদ’র ভূমিকায় আরেফিন শুভ’র অভিনয় অনবদ্য। তবে একটি বিষয় না বললেই নয়। আবিদের চুলের কন্টিনিটি একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো না। এক দৃশ্যের শেষ হতে না হতেই চুল ছোট বড় হতে থাকে প্রায় পুরো চলচ্চিত্রটি জুড়ে। সাংবাদিক চৈতি’র ভূমিকায় মাহিয়া মাহি’র অভিনয় দেখে মনে হয়েছে যে চরিত্রটি নিয়ে কাহিনিকারের আরেকটু ভাবা দরকার ছিল। তবে অন্য সকল চলচ্চিত্রে যে মাহিকে দর্শক দেখে, তার থেকে একটু ভিন্ন ভাবে দেখেছে। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে ‘স্প্ল্যাশ মাল্টিমিডিয়া’, ‘ঢাকা পুলিশ পরিবার কল্যাণ সমিতি লিমিটেড’ ও ‘থ্রি-হুইলারস লিমিটেড’।

এ চলচ্চিত্রে বহুল প্রচলিত “টিকাতলির মোড়ে একটা হল রয়েছে ” শিরোনামের গানটি নতুন আঙ্গিকে ব্যবহৃত হয়েছে। গানটির ব্যবহার যেখানে করা হয়েছে, তা নিছক ব্যবসায়ীক চিন্তা থেকে করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। সকল শ্রেণির দর্শকের কথা মাথায় রেখেই হয়তোবা দীপঙ্কর দীপন এমনটি করেছেন। আইটেম সং-টি না থাকলে যে চলচ্চিত্রটির মুগ্ধতা থেকে দর্শক বঞ্চিত হতো, তা আমার মনে হয়নি। এই চলচ্চিত্রটির মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্রে অরিজিত সিং প্রথম গাইলেন।চলচ্চিত্রটির সঙ্গীত করেছেন অরিন্দম, ডিজে রাহাত ও আবিদ। চলচ্চিত্রটির এ্যাকশন ধরে রাখতে সঙ্গীতের অসামান্য অবদান রয়েছে। টুপ টাপ শিরোনামের গানটি ইতোমধ্যেই দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। বলা যেতে পারে যে নির্মাতা সংকল্পবদ্ধই ছিলেন দৃঢ়ভাবে চলচ্চিত্রটির প্রত্যেকটি বিষয়ে অভিনত্ত্ব আনার জন্য। ‘ঢাকা অ্যাটাক’-সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ, মাহিয়া মাহি, এবিএম সুমন, কাজী নওশাবা আহমেদ, শতাব্দী ওয়াদুদ, আলমগীর, আফজাল হোসেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, শিপন মিত্র। খলচরিত্রে আছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি তাসকিন রহমান জিসান। জিসান এ চলচ্চিত্রের খলনায়ক। তবে নীল চোখের এ অভিনেতা অভিনয়ে যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা এককথায় অসাধারণ। নির্মাতা জিসানের আগমনটাকে অর্থবহ করেই পর্দায় এনেছেন। নীল চোখের কারসাজিতে ভয়ংকর হয়ে উঠা এক যুবকের যে অবয়ব নির্মাতা দাঁড় করিয়েছেন তা অসাধারণ। অনেকে জিসানকে হুমায়ূন ফরিদী পরবর্তী কেউ ভাবতে শুরু করেছেন ইতোমধ্যে। তা আপাতত বাড়াবাড়ি শোনালেও অসম্ভব নয়। কেননা চলচ্চিত্রের শেষের অাধ ঘন্টায় অভিনয়ে যে মাত করেছে তা অনবদ্য। এমন সাবলিল অভিনয় খুব কম দেখা যায়। এবিএম সুমনকে চলচ্চিত্রে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াটের কমান্ডার হিসেবে দেখতে পাই। এক কথায় অসাধারণ।

কমান্ডার আশফাকের স্ত্রী সিনথিয়া গর্ভবতী। কমান্ডো অভিযানের সময় স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলার দিকটি অস্বাভাবিক মনে হলেও চলচ্রচিত্রে প্রয়োজনেই এমনটি করেছেন। আশফাক আর সিনথিয়ার জন্য ঢাকা অ্যাটাকের প্রত্যেক দর্শক একবার হলেও দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন। দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব আর দেশপ্রেম; চরিত্রটির এই তিনটি বিষয় দর্শকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে পুলিশবাহিনীর জীবনে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার একটিকে। আশফাকের স্ত্রীর ভূমিকায় কাজি নওশাবা আহমেদের অভিনয় সাবলিল ও হৃদয়গ্রাহী। এবার একটু ত্রুটির কথা বলি। ত্রুটি বললে ভুল হবে ঘাটতির কথা বলি। চলচ্চিত্রটিতে কিছু গ্রাফিক্সের ব্যবহার করা হয়েছে। বাচ্চাদের স্কুল বাসে বোমা হামলা কিংবা দোয়েল চত্ত্বর উড়িয়ে দেয়া, সেখানে যে গ্রাফিক্স ব্যবহৃত হয়েছে, তা আরো ভালো আশা করেছিলাম দীপঙ্কর দীপনের কাছে। গল্পের গাঁথুনিটা আরেকটু শক্ত হলে হয়তোবা আরও চমকিত হতো দর্শক।

তাছাড়া নেয়ামত নামের এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়, যার কর্মকান্ড প্রশ্নবোধক। এতে করে কি প্রশ্ন উঠে না যে এই বোকা লোকটি কি করে পুলিশের উর্ধ্বতন অবস্থানে এসেছে? তবে এটা যে কমেডির আচর দেবার প্রচেষ্টা ছিল তা অন্তত বোঝা গেছে। তাছাড়া ছোট ছোট পার্শ্বচরিত্রের অভিনয় আরও ভালো হতে পারতো, যাতে করে চলচ্চিত্রের উৎকর্ষটা আরও বৃদ্ধি পেত বলে মনে হয়েছে। কিছু কিছু সংলাপের গঠন হালকা মনে হয়েছে। তবুও কাহিনিকার সানী সানোয়ার অনবদ্য। এবার আশার কথা বলি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সুদিন আর বেশি দূরে নয়। চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ্য পরিবেশে সুস্থ্য ধারার চলচ্চিত্র দেখতে পারবে বলে মনে করি। সময়ের স্রোতে ভেসে পরিবর্তন আসে, বাংলা চলচ্চিত্রেও এসেছে। ভালো চলচ্চিত্র হচ্ছে, দর্শকও প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছে যা নিঃসন্দেহে ভালো দিক। শুভ কামনা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য। শুভ কামনা ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্র টিমের জন্য। স্যালুট সানি সানোয়ার, স্যালুট দীপঙ্কর দীপন।

স/মা