খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ধান নদী খাল তিনে বরিশাল, বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যায় এর সংঙ্গে ভেসে বেড়ায় নানা প্রজাতির মাছ। এসব মাছ শিকার করার জন্য রয়েছে নান ফাঁদ। মাছ ধরার অপেক্ষকৃত সহজ কৌশল চলাচলের পথে চাই পেতে রাখা হয়। এ মৌসুমে তাই চাই তৈরি আর কেনা বেচায় ধুম পরে যায়। বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির গ্রামে গ্রামে মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই-বুচনা’ তৈরির ধুম পড়েছে। চাহিদা বাড়তে থাকায় দিনরাত ব্যস্ত, জেলার তিন শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ। নিপুণ হাতে তৈরি এসব ফাঁদ বিক্রি হচ্ছে জেলার ৩০টি হাটে। প্রতিবছরের মতো এবারো ভালো বিক্রির আশা করছেন কারিগরসহ সংশ্লিষ্টরা।
ক’দিন পরই নদী, নালা, খাল, বিলে উপস্থিতি বাড়বে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের। এই মাছ শিকারের জন্য জেলার গ্রামে গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে মাছ ধরার ফাঁদ। পরিবারের নারী পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরাও এখন এ কাজে ব্যস্ত। নানা আকার ও আঙ্গিকে তৈরি এ ফাঁদগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম। কোনো টিকে বলা হয় চাই, কোনো টি বুচনা, গড়া কিংবা চরগড়া, আবার কোনো টির নাম ফলনি।
স্থানীয়রা বলেন, ১০০ টাকায় বাঁশ কিনে এনে দুই থেকে তিনটা করে বানানো সম্ভব হয়। জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় শ্রাবণ ভাদ্র এই চার মাস বেচা বিক্রি হয়। তারা আরও বলেন, এইগুলো দিয়ে চিংড়ী শিং বাইম মাছ সহ আরও বিভিন্ন প্রকারের মাছ ধরা সম্ভব হয়। জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকেই সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এসব ফাঁদ বিক্রি হচ্ছে শহরের টাউনহল সংলগ্ন সবচে বড় হাটে। একইসাথে, নলছিটি, ষাটপাকিয়া, নাচনমহলসহ জেলার ত্রিশটি হাটে উঠতে শুরু করেছে ‘চাই-বুচনা’।
প্রতিবছর বর্ষা থেকে শীত পর্যন্ত এসব ফাঁদ বিক্রি হয় বিভিন্ন হাট-বাজারে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, জেলার সহস্রাধিক মানুষ এ মৌসুমি পেশায় জড়িত থেকে বছরের চারমাস জীবিকা নির্বাহ করে।
স্থানীয়রা আরো বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে এইগুলো বিক্রি হবে। ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। যদি লোণ দেওয়া হত তাহলে এই চার মাসে এই ব্যবসা আরও ভালোভাবে করা সম্ভব হতো।
এদিকে, মৌসুমি এ পেশাকে কুটির শিল্পে সমৃদ্ধ করতে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ঝালকাঠি বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক বলেন, এই পেশায় যারা নিয়োজিত তাদের জন্যে আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের জন্যে আমরা স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে থাকি।
স/এষ্

