বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে হলুদবিহার গ্রামবাসীর সাথে অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সাংবাদিক এমদাদুল হক দুলুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ, এবং মিথ্যাবাদী ঘুষখোর সাংবাদিকের বিচার চাই এমন অভিযোগ তুলে মানসম্মান ক্ষুন্যর অভিযোগে প্রতারক রেখা বানুর বিরুদ্ধে গত ৩ মে বুধবার সাংবাদিক এমদাদুল হক দুলু বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে ৫০ লক্ষাধীক টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নং-৬০ সি/১৭ ( বদল ) তারিখ ০৩-০৫-১৭ ইং) মামলাটি বিজ্ঞ আদালত গ্রহন পূর্বক তদন্তের জন্য নওগাঁ জেলা তথ্য কর্মকর্তার উপর নাস্ত করেন।
মামলা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার হলুদ বিহার গ্রামের মৃত-বসরত এর মেয়ে বিবাদী রেখা বানু গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে একটি বাস রিজার্ভ করে উপজেলার হলুদ বিহার গ্রামের বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারের কিছু সহজ সরল মহিলাদের বলেন যে, বিদ্যুৎ নিতে হলে জেলা প্রশাসকের নিকট যেতে হবে।এই মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ওই মহিলাদের নিয়ে রিজার্ভ বাস যোগে রওনা হয়। বাসের সামনে ও পিছনে ঝুলানো ব্যানারে লিখেন যে,সাংবাদিক এমদাদুল হক দুলুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ, এবং মিথ্যাবাদী ঘুষখোর সাংবাদিকের বিচার চাই, বাসটি বদলগাছী থানার দক্ষিন পার্শে নতুন ব্রীজ এর নিকট রেখে থানার সামনে এসে প্রকাশ্য শত শত লোকের সন্মুখে রেখা বানু উপরোক্ত কথা বলে সাংবাদিক দুলুকে সমাজে হেয়প্রতিপূর্ন করে মানসম্মান ক্ষুন্য করেন।
মামলার বিষয়ে সাংবাদিক এমদাদুল হক দুলু জানান, রেখা বানু তার একই গ্রামের বাসিন্দা। তার সাথে কোন ব্যাক্তিগত ভাবে শক্রুতা নেই। কিন্তু গত বছর স্থানীয় চেয়ারম্যানে সহায়তায় ও উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে ওই গ্রামের আব্দুল মালেক এর স্ত্রী গরীব দুস্থ প্রতিবন্ধি নূরজাহান এর প্রতিবন্ধি ভাতা করে দিতে সহযোগিতা করেন। প্রতিবন্ধি ভাতার কার্ড প্রাপ্তির পর প্রতারক রেখা বানু ওই দুস্থ প্রতিবন্ধি নূরজাহান এর বাড়ীতে গিয়ে তাকে বলে তার ভাতার কার্ডটি তিনি করেদিয়েছেন মর্মে প্রতিবন্ধি নূরজাহান এর কাছে থেকে ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। নূরজাহান টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার ভাতা বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে চলে যায়। এক পর্যায় দুস্থ প্রতিবন্ধি নূরজাহানের ভাতা বন্ধের জন্য বিদ্যুৎ এর আবেদন করবে মর্মে এলাকাবাসীকে ভুল বুঝিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহন করে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। আর এ ঘটনায় সাংবাদিক এমদাদুল হক দুলু প্রতিবাদ ও প্রতিবন্ধি কার্ডধারী নূরজাহানকে প্রতারক রেখাবানুকে ৫ হাজার টাকা দিতে নিষেধ করার পর থেকে রেখা বানু উক্ত টাকা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে হুমকি ধুমকির অভিযোগ এনে বিজ্ঞ আদালতে ১০৭ ধারায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি অন্তে মামলাটি খারিজ করে দেন। তার পর থেকে রেখা বানু বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ সহ সরযন্ত্র মুলক তার বিরুদ্ধে মিথ্যাবাদী, ঘুষখোর বলে এলাকায় অপপ্রচার চালিয়ে কোন লাভ না হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল রেখা বানু গ্রামের বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারকে বিদ্যুৎ দেওয়ার নাম করে কৌশলে প্রায় ৪০/৪৫ জন মহিলাকে বলে জেলা প্রশাসকের নিকট গেলে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এমন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কৌশলে তাদের রিজার্ভ বাসে তুলে নওগাঁর উদ্দেশ্য রওয়ানা দেয়। পথি মধ্যে বাস থামিয়ে কৌশলে এমন ব্যানার লাগিয়ে বদলগাছী থানা সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুরি ও প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিক এমদাদুল হক দুলুকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে এবং সমাজে তার মান সম্মান ক্ষুন্য করেছে বলে জানান। এমন প্রতারক মহিলা রেখা বানুর সুষ্ট বিচার দাবী করে তিনি বিজ্ঞ আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়াও রেখা বানু প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তা ব্যাক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে তার এলাকার বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রলোভন দিয়ে অনেকের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। অবশেষে কাজ করে দিতে না পারায় অর্থ প্রদানকারী ব্যাক্তিরা তাদের প্রদানকৃত অর্থ ফেরৎ চাইতে গেলে তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভিতি প্রদর্শন করে মামালায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি প্রদান করে থাকে। তার ভয়ে ভুক্ত ভুগিরা মুখ খুলতে সাহস পায় না।তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এলাকাবাসী গত ১০ এপ্রিল তারিখে তার বিরুদ্ধে উপজেলার দ্বিপগঞ্জ বাজারে প্রতিবাদ সভা করে। প্রতিবাদ সভার পরের দিন থেকে রেখা বানু ওই প্রতিবাদ সভায় যাহারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে নন্দাহার গ্রামের কাচ্চু ঘটককে দ্বিপগঞ্জ বাজারে জনম্মুখে প্রকাশ্য তার সাটের কলার ধরে টেনে হিচরে লাঞ্চিত করে। এবং ওই প্রতিবাদ সভার অন্যান্য বক্তাদের উদ্দেশ্য করে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দিবেন বলে হুমকি প্রদর্শন করে। তার এই আচরণে এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ রেখাবানু এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কজের অজুহাতে সাধারণ মানুষদের প্রলব্দ করে এবং প্রশাসনের উর্ধতন কর্তা ব্যাক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে যে সাধারণ মানুষকে ভয়ভিতি দেখিয়ে যে অচ্যাচার করে তার একটি সুষ্ট তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এবং এলাকায় মামলাবাজ খ্যাত রেখা বানু তার সামাজিক পদমর্যাদা না থাকা সত্তেও প্রশাসনের কর্তা ব্যাক্তিরা তাকে কি সত্যই মুল্যায়ন করেন, বিষয়টি বোধগম্য নয়। কারন এলাকার উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত চেয়াম্যান ও ইউপি সদস্য, সদস্যা রয়েছেন। অথচ রেখা বানু কোন ক্ষমতা বলে এলাকার লোকজনের বিদ্যৎ সুবিধা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা করে দিবেন এমন বিষয় গুলি সম্পূর্ন অবাস্তব ও কাল্পনিক । এলাকাবাসী মামলাবাজ খ্যাত রেখা বানুর বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন।
স/এষ্

