১৯৮০-৯০ দশকের বিশ্ব ফুটবল বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা ফুটবল আর্দশকে দু’ভাগে নির্ধারণ করে একটা মৌলিকত্ব ও যথার্থতার সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। সেটা হলো-
প্রথমত. তীক্ষ্ম আদর্শ বা শার্প প্যাটার্ন ওরফে ওয়ান-টু
এবং দ্বিতীয়ত. একের অধিক দর্শনতত্ত্ব আদর্শ বা এ্যালাবোরেট প্যাটার্ন।
উদাহরণে ধরা যেতে পারে-আর্জেন্টাইন ফুটবল দল একটানা ৩৬টি পাসে খেলতে সক্ষম। কখনো কখনো এর চেয়ে বেশিও পাস খেলেছে। এতে তারা সফল। কিন্তু বাংলাদেশ একটানা ৬/৮টি পাস খেলে। অথচ বলের নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতার বদৌলতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যেতে পারে না। এটা কি সফল বলা ঠিক হবে! একে সফল বলা যাবে?
এ পর্যায়ে বাংলাদেশকে অনেক চিন্তাভাবনা করা উচিত ছিল, যা মর্মের ক্ষেত্রে ঐ খেলার গুরুত্ব ও বিবেচনাবোধের কথা হয়তো কেউ ভাবেনি। কেউই বোঝেননি। অন্যভাবে বুঝেছেন। উপলব্ধির অনুবাদে আর্জেন্টিনা তাদের আসল ফুটবলকে চিনেছে বলে তারা এতোটা উতরে যেতে পেরেছে। যা বাংলাদেশীরা পাসিং খেলার উপর তেমন গুরুত্ব দেয় বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা বল ধরে রাখার পক্ষপাতি। সত্যি হলেও ঐ আর্জেন্টিনারা এই গুরুত্বকে অনেক কিছু মনে করে জেনে-শুনে খেলেছে।
আর এটাই হলো তীক্ষ্ম আদর্শ বা ওয়ান-টু’র পরিস্থিতি।
দ্বিতীয়ত. সুদীর্ঘ মাঝারি মানের ফুটবল আদর্শ বা লং মিডিয়াম প্যাটার্ন।
লম্বা দূরত্ব মাঝারি দূরত্ব মাপের খেলা কিছু কিছু দেশের হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-উত্তর ইউরোপ কি দক্ষিণ ইউরোপের মতো অনুসরণ করে ফুটবল খেলে?
উত্তর-না, তারা সেভাবে তারা গ্রহণ করেনি। সেভাবে নেয়ওনি। এই কারণে তারা নেয়নি যে, উত্তর ইউরোপে দুরন্ত মাঝারি দুরন্ত দল নিয়ে সেভাবে খেলা হয়। আসলে দক্ষিণ ইউরোপিয়ানরা চারপাশের অবস্থান বুঝে নিয়ে ফুটবলের আদর্শকে কেন্দ্রে অবস্থান করে খেলছে, খেলার নাম‘-বল নড়াচড়ার আদর্শ’। ইংরেজিতে যাকে বলে-‘এ্যারাউন্ড দ্য বল প্যাটার্ন’। খোদ আমেরিকানরা এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু উত্তর ইউরোপিয়ানরা সেভাবে আমলে নেয়নি। তারা এই ধরণের আদর্শের ঘরাণা নয়। কিংবা তারা ঐভাবে আসতে চায়নি।
আর এটাই হলো সুদীর্ঘ মাঝারি মানের ফুটবল আদর্শের সংজ্ঞা।
বিশ্বের উন্নত ফুটবল খেলুড়ের অন্যান্য দেশে বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্যে একটি আদর্শের বা প্যাটার্নের বিভিন্ন কৌশলীপন্থার নিয়ম মেনে চলে। যা এটা তাদের বাড়তি স্বভাবসিদ্ধ ও শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে। এটাকে সামনে রেখে কিছু কিছু ফুটবল খেলিয়েদের ফুটবল খেলে যাওয়ার একটা ঝোঁক রয়েছে। শুরুতে যা কিছুর আদর্শ বিদ্যমান থাকে, যেটা শেষদিকে তা চলমান অবস্থানের রীতিনীতি অব্যাহত রেখে খেলে থাকে। এই খেলার উদ্ভাবন কিন্তু ঐদেশে নিয়ম।
আর বাংলাদেশে খেলার শুরুতে বিশেষ উদ্দেশ্য না জেনে, না বুঝে শেষমেষ উদ্দেশ্যহীন আদর্শের ধারাবিরুদ্ধ স্বভাব নিয় আক্রমণ জোনে গিয়ে পৌঁছায় এবং অধিকাংশ স্বদেশীর ফরোয়ার্ডরা খেলার নিয়ন্ত্রণ খেঁই হারিয়ে ফেলে। যাকে বলে আনাড়িপনার চর্চা।
ফুটবল খেলাকে গভীরভাবে বুঝতে আপনাকে সেই পর্যায়ে যেতে হবে-তাহলে মনোযোগ দিয়ে পড়–ন…
স্প্যানিশ-ইতালিয়ানরা মাঝমাঠের বিশেষ অংশ হতে খেলা শুরু করে। তারা খেলার জটলা হতে মুক্তি পেতে এবং আক্রমণের উৎস ও কৌশলীর সুযোগ তৈরি করাতে বেশি মনোযোগ দেয় এবং খেলার অবস্থান নিজেদের অনুকূলে আনার লক্ষ্যে তারা সেভাবে তৈরির উপর বেশি সময় ধরে খেলে যায়। কিন্তু এক ফরাসিরা একদম বিপক্ষের গোলমুখে গিয়ে ‘ফাইনাল ব্রেক থ্রু মুভ’ দিয়ে খেলতে যায়। আর ওদিকে আর্জেন্টাইনরা মাঠের সব জায়গায় পরিস্কার পাস দিয়ে খেলে, তদ্রুপ ব্রাজিলিয়ানরাও সর্বত্র তাই খেলতে পারে।
তবে দু’রকম ‘লং মিডিয়াম’ ও ‘এ্যারাউন্ড দ্য বল প্যাটার্ন’ বা নিয়ে মিশ্রিতভাবে দীর্ঘ মাঝারির মাধ্যমে এবং বলের চারপাশের অবস্থানভেদে ব্রাজিলীয়রা ঐ কায়দায় ফুটবলটা খেলে। দীর্ঘ মাঝারির মাধ্যমে এবং বলের চারপাশের অবস্থানভেদ বুঝে তারা ফুটবল খেলতে যায়। এখানেই তাদের আদর্শ পদ্ধতির সূত্রে গাণিত্যিকভাবে কিছুটা আঁচ লক্ষ্য করা যায়। ওটাকে আপনি কখনো ‘আনাড়িপনার চর্চা’ বলতে পারেন না।
এখানে আদর্শ বা প্যাটার্ন পদ্ধতি নিয়ে কিছুটা অন্তত ভালোভাবে জানা হলো। এখন সারা খেলায় আদর্শ সংজ্ঞার বৈশিষ্ট্য নিয়ে হয়তো বা আপনাদের খুব কাজে লাগবে, আবার নাও লাগতে পারে। আদর্শ খেলা সম্বন্ধে না জানলে আপনি যতো খুশি খেলা দেখুন না কেন, কিন্তু একটা বিষয়ে খেলার মর্মবাণী বুঝার অলক্ষ্যে অব্যর্থ হয়ে যেতে হয় অর্থাৎ আপনি বুঝতে পারেননি।
ফুটবল খেলা তো দেখবেনই, খেলার মূল আদর্শের বিশেষ তত্ত্ব আপনি কিছু মর্ম উদ্ধার করতে পারবেন কি পারবেন না-সেটা পরের বিষয়। যেটাই হোক, চিরকাল মূর্খ হয়েই থাকা কোনো মানে হয় না। যদি আপনি…ঐ আদর্শ সম্বন্ধে বেশ ভালো ধারনা রাখেন..। বাংলাদেশে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা স্প্যানিশ আমেরিকান ঘরাণা সম্পর্কিত বিষয়ে একদমই বোঝেন না। এমনও আছে যে, স্প্যানিশ আমেরিকান সম্বন্ধে তাদের কোনো ধারণাই নেই। বলতে পারেন না স্প্যানিশ আমেরিকান ঘরাণা আসলে কি?
কেন যে না জেনে আর না বুঝে অন্ধ দর্শনের মতো ঐ ব্রাজিল বা ঐ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন…আসলে এরা উপরিতলের দর্শক…মাটির নিচের তলে কী আছে তা কোনো কিছুই ভাবেন না…
‘তলে তলে সব জায়গায় যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে গেছে, তার খবর কে রেখেছে? এ যাবত বাংলাদেশ শুধুই চিন্তাভাবনা করেই গেছে। বোধ হয়, ‘জয়-পরাজয় এগিয়ে যাওয়া-পিছিয়ে পড়া এসব এমনি এমনি হয়। বাস্তবে আসলে তা কিন্তু নয়। টেকনিক-ট্যাকটিক্স এ সব বিলেত ফেরত জিনিস।
বাংলাদেশের ভূখন্ডে স্যুট করবে না। সব সময় ভালো ফুটবল খেলোয়াড় থাকলে কী, আর না থাকলেই কী-উভয় সমান প্রলাপ। মনে রাখা উচিত যে-কোত্থেকে টেক ও ট্যাক আসবে? ওসব তো ফরেনেই হয়।
বাঙালি ভাই ভাই..ঐ সব কিন্তু ফুটবল বাংলাদেশের মধ্যেও নেই। বাঙালি বড়ই আবেগপ্রবণ জাতি। আবেগ দিয়ে খেলা যায় না। শাণিত বুদ্ধির প্রখরতা লাগে। পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ..তার নিকটবর্তী দেশগুলো আফগানিস্তান মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, লাওস, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন্স, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি দেশ তর তর করে অভাবনীয়ভাবে এগিয়ে গেছে। বাঙালির অগোচরে তলে তালে সব জায়গায় পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক খবর যে রাখেনি ঐ আবেগপ্রবণ জাতি বাংলাদেশ। ফুটবলের গাইডলাইন বুঝলেও সেটার পরিচর্যা বাংলাদেশে করা হয়নি…অনুসরণের প্রতিফল জানার চেষ্টা করেনি বলেই আজকের এই বিচিত্র রকমের দুর্দশা দেখছে…র্যাংকিং নম্বর ১৯৭ অবস্থানের বাংলাদেশ…!
বৃটিশ তথা ইংল্যান্ডের বিজ্ঞ কোচেরা তাদের ফুটবলারদের ফুটবল প্রশিক্ষণের অন্যান্য বিষয়ে কখনো ফাঁকি দেননি। ফাঁকি কাকে বলে তারা জানেন না। বল খেলিয়ে প্রাকটিস করাননি। এসব কিন্তু ওদের ধন্দে নেই। এইসব কাজ তাদের কাছে ভাত-পানির মতো। ট্র্যাপিং, রিসিভিং, শুটিং, হেডিং, চেস্টিঙে সব আলাদা আলাদা পদ্ধতির মাধ্যমে ওরা ভীষণভাবে অভ্যস্ত।
ড্রিবল পদ্ধতিকে কয়েকটি ভাগ করা হয়েছে। যেমন ধরা যাক-ইনসাইড, আউটসাইড ডজ, কম্বাইন্ড ডজ, টার্নিং এ্যাগেনস্ট মার্কার, সোলো ডজ, হিল প্লে, স্ক্রিনিং রান, টোয় স্ট্রোক এ্যান্ড জাম্প প্রভৃতি আলাদা করে খেলা শেখানো ও বোঝানো হয়। যা এই সব মৌলিক আদর্শ বাংলাদেশের মাঠে একেবারে অনুপস্থিত। কিছুসংখ্যক বাংলাদেশীদের সাধনা অবশ্যই আছে, তবে যদিও প্রকৃত বিশ্বমানের পর্যায়ে নয়।
বৃটিশ ফুটবল কোচিং বইতে লেখা আছে, মোটামুটি একই সুর। যাদের এসব হয়, তাদের এমনিই হয়। কিন্তু যাদের হয় না, তাদের শারীরিক ক্ষমতা হতে লড়াকু মনোভাব দিয়েও কিছু হয় না। আর থাকলে খেলার পরিস্থিতির ফল শূন্যই আসে। পাশাপাশি সেখানে যোগ্যতাসম্পন্ন ফুটবলার গড়ে তোলা হয় এবং বৃটিশ ফুটবলে ঠিক একই ধরনের প্রতিফলন সেভাবে দেখা যায়।
একজন পর্তুগীজের (ব্রাজিল) কোচের মন্তব্য শুনুন তাহলে, দলীয় ফুটবলারের নিকট বাকি সবকিছু শিকেয় তোলা থাক, আগে বাবা-তোমরা বলের উপর খেলা নিয়ে ভালোভাবে শেখো। ওটাই আসল খেলা।
আর্জেন্টিনার কোচ কি বলছেন, শুনুন-শেখাশিখির কিছুই নেই। বলকে নিয়ে মেতে থাকো রিসিভিং, ট্র্যাপিং, হেডিং বলে এখানে কিছু নেই। বলটাকে নিয়ে শয়নে স্বপ্নের মধ্যে মেতে থাকো। ভাবতে থাকো-তুমি বলটি নিয়ে আর কি কি করতে পারো? সেভাবে চেষ্টা করে যাও। যতোক্ষণ পর্যন্ত তুমি জানবে-তোমার মনের ইচ্ছাকে পরিণত করার মাঝখানে তোমার শরীর রয়েছে।
এর অর্থ ঃ ‘শরীরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না দেখিয়ে চূড়ান্ত দক্ষ করে তোলো। যাতে ইচ্ছার মাঝখানে সেই বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়। যদি মন চায়, বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ডান কনুইয়ে রেখে বলকে বাঁ কাঁধে ৩বার নাচতে নাচতে নিয়ে যাবে স্বপ্নের ঠিকানায়.. তা যেনো করতে পারো। কিভাবে করবে, তা যেনো এ নিয়ে দ্বিতীয়বার মাথা ঘামাতে না হয়। ব্যস, সুইচ অন করে শুরু হয়ে যাবে..দৌড়াদৌড়ি, গুঁতোগুঁতি ও লাথালাথি। ওসবে কেউ আটকাতে পারবে না।’
কেউ যদি তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘আচ্ছা মি. কোচ (বৃটিশ) বলস্কিল থাকা সত্ত্বেও সবার হয় না কেন?’ এই প্রশ্ন কেন আপনি ছেড়ে দেবেন? বৃটিশ শাসনের ২শ’ বছর কাটিয়েছেন আপনারা। এই প্রশ্নের উত্তর তিনি সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেবেন।
যারা এই কথার অর্থ সবাই যে বোঝেন না-তা তো নয়ই। এতদিনে বাংলাদেশী কোচদের আচ্ছন্ন করারই কথা। ঢাকার ফুটবল লীগে ১৭ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েও বিভিন্ন দেশী কোচরা প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে কোথায় যেনো একটু রীতিমতো ধাক্কা খেয়েছেন!
একটা সময়ে ঐ শার্প প্যাটার্ন বা তীক্ষ্ম আদর্শের প্রজেক্ট এসেছিল, আর সেটার প্রজেক্ট যথার্থভাবে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল রাউন্ডে উঠেছিল এশিয়ার দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান-ইরাক-ইরান-কাতার-সৌদিআরবরা। অথচ এতো কাছে গিয়েও ঐ প্রজেক্টের আওতায় বাংলাদেশ নিংড়ে দেয়ার সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেনি…তবে পেরেছিল কিছুটা!
প্রথমত, সঠিকভাবে চর্চার মৌলিকত্ব ও আদর্শের বৈশিষ্ট্যকে ফলাতে পারেনি এ যাবত বাংলাদেশ জাতীয় দল। বাংলাদেশের প্রকোষ্ঠে ঐ মাঝারি মানের আদর্শের নিয়মের ধারাবাহিকতা মেনে চলেনি। ‘কেবলই এক কোচ যায়..আরেক কোচ আসে’-এই যাওয়া-আসার উত্থান পতনের ভেতর দিয়েই বসবাস করছে বাঙালি ফুটবলের অনুষদ তরঙ্গধ্বনি!
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ভালোভাবে এ্যারাউন্ড দ্য বল প্যাটার্নকে বোঝার চেষ্টা করলেও অন্যসুরে বুঝেছে। দুনিয়ার মানুষ একটা চিরন্তন সত্যের প্রবাদ বচন জানে-‘সূর্য পূর্বদিক হতে উঠে..সূর্য পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। অবাক হওয়ার কথা নয়, তবুও বাংলাদেশ এই চিরন্তনের মানে বুঝেছে-‘সূর্য পূর্বদিক হতে উঠে..সূর্য দক্ষিণদিকে অস্ত যায়..। বুঝুন তাহলে?
যা সত্যিকার অর্থে বুঝেছিল ঐ এশিয়ার উচ্চমানের দলগুলো অর্থাৎ কোরিয়া-জাপানীরা। তাই বলি, ফুটবল বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি লোকপ্রিয় হতে পারে, জনপ্রিয়তার নিরিখে সেই কাতারের মধ্যে পড়েছে দক্ষিণী অস্তাচলের বাংলাদেশ!
ছোট্ট ক্যানভাস দিয়ে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে শেষ করবো (সম্মাণিত জাতীয় ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার সামসুল ইসলাম সেই সময়ে আমার সাথে উপস্থিত ছিলেন)-
উদাহরণে বলা যেতে পারে-২০০০ সালে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত এশীয় যুব অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ আবু ইউসুফের কথা দিয়ে। তিনি তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে সারাজীবনে ঘি ঢেলে ছিলেন। তখনো তিনি ফুটবলের মমকর্থা এর এতোখানি বুঝতে পারেননি। যদিও তিনি এতো বড় একটা জাতীয় দলের ফুটবলার ছিলেন। এক সময় তিনি কিনা দোদর্ন্ড প্রতাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্বের সূত্রে খেলতে পেরেছেন। সাবেক এই ফুটবলার ও ঝানু (!?) কোচও বটে। তা না হলে মসৃণ চোখে এতোক্ষণ খেলার পরে তিনি কেন বলছেন-‘মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ৪ গোল দিয়েও দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের গোলপোস্টে দু’য়ের বেশি গোল দিতে পারলাম না।’
বাংলাদেশ-নেপাল মধ্যকার খেলা শুরুর পূর্বে বাংলাদেশের কোচ আবু ইউসুফ কিছুটা অস্বস্তির সুরে বলেছিলেন,‘মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ যুব দল যে গোলমিসের মহড়া আর ভুল পজিশনে পাস দিচ্ছিলো, এবার নেপাল যুব দলের সাথে খেলার সময় তা পুনরাবৃত্তি হবে না।’
আসলে ঐ কোচের কিছু যুক্তি সমীচীন নয়। কোথায় খেলোয়াড়ের ভুল ছিল? আরে শোনেন, বাংলাদেশ যুব দলের একজন ভালো খেলোয়াড় নেই। ভালো গুণাবলী নাই। এমনকি বুদ্ধিমান সম্পন্ন ফুটবল খেলোয়াড়ও নাই। একজন ভালো খেলোয়াড় বলতে কি বোঝায়? তাঁরা তো মাটি ফুঁড়ে ওঠেন না। ভালো ফুটবলার হয়ে উঠা সব সময় ঘটে না। এটি আপেক্ষিক ঘটনা মাত্র। হাজার বছরের একবার আসে।
বাংলাদেশের ফুটবল প্রকোষ্ঠে ১৯৮০ সালে সত্যিকারের ফুটবল খেলোয়াড়ের প্রতিভা ভেসে আসে। আজ সেই প্রতিভার ¯্রােত ধীরে ধীরে বুদবুুদের হাওয়ায় উড়ে গেছে। ২০০০-২০১৮ মৌসুমযুগে দেখার মতো আজ একজনও খাঁটি ফুটবল খেলোয়াড়ের সন্ধান খুঁজে পাওয়া যায় না।
কারণ, ঐ যে আদর্শকে মানে না। যে কারণে আজকের বাংলাদেশকে এই না বোঝার কুফল পলে পলে পস্তাতে হচ্ছে। এই সময়কে ধরতে হবে-বাংলাদেশে এখন ভালো ফুটবল খেলোয়াড়ের সংজ্ঞার আকাল চলছে। আকাল নাকালের উপর নির্ভর করছে আজকের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাফল্য বা ব্যর্থতার সরলরেখা।
সব কথার এক কথা-‘আনাড়ি চাই না। চাই বাস্তবিক ফুটবলের আদর্শ।’
এলিস হক
উপদেষ্টা, বাংলাদেশ লোকাল স্পোর্টস কমেন্টেটর্স এসোসিয়েশন, ঢাকা।
ক্রীড়া সাংবাদিক,
ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার ও ক্রীড়া শিক্ষক (বিপিএড ১মশ্রেণী)
ফুটবল, রাগবি, হ্যান্ডবল ও ভলিবল ট্রেনিংপ্রাপ্ত রেফারী।
আরআর

