ফরিদপুরে বোয়ালমারীতে ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত
ফরিদপুর ব্যুরো: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় কর্মরত দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে কামাল আহমেদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের সহস্রাইল বাজারে চেয়ারম্যানের বক্তব্য আনতে গেলে চেয়ারম্যান ও তার নিজস্ব লোকজন নিয়ে সাংবাদিকদের ঘেরাও করে লাঞ্ছিত করে।
লাঞ্ছিত ঘটনায় বোয়ালমারীতে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাতে বোয়ালমারীতে কর্মরত সাংবাদিকরা একত্র হয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের সব ইতিবাচক সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দেন।
লাঞ্ছিত হওয়া দুই সাংবাদিক হলেন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ সময় পত্রিকার বোয়ালমারী প্রতিনিধি মুকুল বোস ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত ভোরের দর্পণ নামক পত্রিকার বোয়ালমারী প্রতিনিধি এস,এম রুবেল।
লাঞ্ছিত হওয়া দুই সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, সোমবার দুপুরে শেখর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান শেখর গ্রামে অবস্থিত সরকারী ইউনিয়ন পরিষদে তালা দিয়ে বন্ধ করে সহস্রাইল বাজারে ব্যক্তিগত অফিস করে কার্যক্রম চালাচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তারা ঘটনাস্থলে যায়। এসময় দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ ও তার অনুসারীরা।
তারা আরও বলেন, এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে ভিডিও করান এবং অফিসের লোকজন ডেকে তাদের দিয়ে বলায় সাংবাদিকরা তাদের কাছে টাকা চেয়েছে। বিষয়টি মৌখিক ভাবে বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল ওহাবকে জানানো হয়েছে বলে জানান লাঞ্ছিত হওয়া ওই সাংবাদিকরা।
তবে সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করে শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামাল আহমেদ গনমাধ্যমকে বলেন, আমি কেন সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করবো? সব মিথ্যা কথা। বরং ওই সাংবাদিকরা ১৫ দিন আগে আমার কাছে (চেয়ারম্যান) ঈদের খরচ চেয়েছিলেন। পরে আমি সেটা দেইনি। এরপর থেকে আমার নামে তারা মিথ্যা রিপোর্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
সরকারি অফিস থাকতে তা তালা লাগিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালনোর ব্যাপারে ওই ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি জনগণকে অধিকতর সেবা দেওয়ার জন্য স্থানীয় সস্রাইল বাজারে মাঝে মাঝে জনগণকে সেবা দিয়ে থাকি।
এব্যাপারে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী-বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) সুমন কর গণমাধ্যমকে বলেন, এব্যাপারে আমরা এখনও সাংবাদিকদের কাছে থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স/এস্

