হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা সদরে শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী দু-পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে নগরকান্দা বাজারের কয়েকটি দোকান ঘর ভাংচুর করা হয়। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নগরকান্দায় এক সালিশি বৈঠকে ছাগলদী গ্রামের আ’লীগ নেতা সূর্য্য মাতুব্বরের সাথে নগরকান্দা পৌর সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নগরকান্দা পৌরসভার কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন দুলুর কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির জের ধরে সূর্য্য কাউন্সিলর দুলুকে লাঞ্চিত করে ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল ৯ টায় নগরকান্দা এবং আশে পাঁশের মীরাকান্দা,দেলবাড়ীয়া,কোদালিয়া ,পাইককান্দী,মাঠ বালিয়া, ইশ^রদী.মধ্যে জগদিয়া,বালিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঢাল,সঁড়কি রামদা,বল্লমসহ নানা প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নগরকান্দা বাজারে জড়ো হয়। অপর দিকে ছাগলদী গ্রামের লোকজন ও ছাগলদী স্কুলের মাঠে নানা প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। সকাল ১০ টার দিকে ছাগলদী গ্রামের লোকজন নগরকান্দা বাজারের পশ্চিম পাশে মিনারগ্রামে আসলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নগরকান্দা উপজেলা সদরের উত্তরপাড় জুঙ্গরদী বাসষ্ট্যান্ড থেকে জুঙ্গরদী.শশা,চৌমুখা গ্রামের লোকজন নানা প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাগলদী গ্রামের লোকজনের বিপক্ষে কুমার নদীর ব্রীজের উপর অবস্থান নেয়।
নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ এ এফ এম নাসিম সঙ্গীয় ফোার্স নিয়ে সকাল থেকেই সংঘর্ষ থামানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। নগরকান্দা উপজেলা সদরের কুমার নদের ব্রীজের পাশে ৫ টি সড়ক দিয়ে শত শত লোক নানা প্রকার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ও টি আর সেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের রাবার বুলেট এবং টি আর সেল উপেক্ষা করে দু-পক্ষই কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা দাওয়া করে এ সময় সড়কির কোপে,ইটের আঘাতে এবং পুলিশের রাবার বুলেট ও টি আর সেলের আঘতে প্রায় অর্ধ শতাধিক আহত হয়। আহতদেরকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন (৪০),ইউনুছ মাতুব্বর (৩৮),কলম (৪৫) ,আরিফ (২৪) এবং সুমনের (২৫)অবস্থা আশংকাজনক। দুপুর ১ টার দিকে ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছে। নগরকান্দা থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলা সদর এবং এর আশে পাঁশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, পুণরায় যে কোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে।
স/ এষ্

