হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আর.এম.পি (গ্রাম্য ডাক্তার) প্রশিক্ষণ কোর্সে অতিরিক্ত ফি আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে আর.এম.পি ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত ২১ দিন ব্যাপী গ্রাম্য ডাক্তার রিফ্রেসার্স ট্রেনিং কোর্স শুরু হয়েছে। এদিকে, প্রশিক্ষণ কোর্সে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বহিঃরাগতদের অন্তর্ভুক্তি করাসহ অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে।
জানা যায়, উক্ত ট্রেনিং কোর্সে ভর্তির জন্য প্রতিজন গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে ৪ হাজার তিনশত টাকা সরকার কর্তৃক ফি নির্ধারণ করা হলেও জনপ্রতি অতিরিক্ত ৮ হাজার একশত টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া গত বছর ট্রেনিং প্রাপ্ত গ্রাম্য ডাক্তারদের পূনঃবার রিফ্রেস করার জন্য এ রিফ্রেসার্স ট্রেনিং কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত থাকলেও কিছু নতুন মুখ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এব্যাপারে উক্ত ট্রেনিং কোর্সের আয়োজক গ্রাম্য ডাক্তার মো. আবুল কালাম আজাদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ ট্রেনিং কোর্সের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি ৫ হাজার ৫শ’ টাকা। এর সাথে আনুসঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে আমরা জনপ্রতি ৮ হাজার একশত টাকা করে নিচ্ছি বলে তিনি জানান। এসময় তার কাছে গ্রাম্য ডাক্তার রিফ্রেসার্স ট্রেনিং কোর্সে দু’একজন নতুন মুখ আছে কিনা জানতে চাইলে, তার জানা নেই বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উক্ত ট্রেনিং কোর্সের আরেক আয়োজক ফরিদপুর আর.এম.পি ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি এর সভাপতি গ্রাম্য ডাক্তার আবুল বাসার বলেন, আমরা কত টাকা বা কি নিয়ে ট্রেনিং কোর্স করাচ্ছি তা নিয়ে সাংবাদিকদের মাতামাতির দরকার কি।
গ্রাম্য ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ প্রদানকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রাম্য ডাক্তার রিফ্রেসার্স ট্রেনিং কোর্সে সদস্য ভর্তি ও ফি আদায়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমাকে শুধু ট্রেনিং কোর্সে পাঠদানের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কোর্সে কতজন ভর্তি হয়েছে সে বিষয়টিও অফিস করণিক হায়দার হোসেন বলতে পারবেন বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করণিক হায়দার হোসেন জানান, গ্রাম্য ডাক্তার রিফ্রেসার্স ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। আর আমার কাছে মাত্র আট জনের ভর্তি ফাইল দেওয়া হয়েছে। বাকী ২৪ টি ফাইল ট্রেনিং কোর্সের আয়োজক আবুল কালাম আজাদ দেই বা দিচ্ছি বলে আর দেন নাই, তিনি গোপন করে রেখেছেন”।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ গ্রহণকারী কয়েকজন গ্রাম্য ডাক্তার বলেন, আমাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ বছর আবারও আমরা প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হয়েছি। গত বছর যে পরিমাণ ভর্তি ফি দিয়েছি এ বছর তার দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা দিয়ে আমাদের ভর্তি হতে হয়েছে। কিন্ত সংশ্লিষ্টরা আমাদের প্রত্যেকের ভর্তি ফরমের মধ্যে কোনো টাকার অংক উল্লেখ করতে দেয় নাই বলেও গ্রাম্য ডাক্তারদের অভিযোগ।
স/এষ্

