ঢাকাসোমবার , ১৫ মে ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

ফরিদপুরের পদ্মা-কুমার নদীতে অবৈধ বালু লুটের মহোৎসব

admin
মে ১৫, ২০১৭ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানসহ পদ্মা-কুমার নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে মহোৎসব চলছে। এতে নদী তীরবর্তী বসতি এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি হুঁমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে সরকারও বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা যায়, সম্প্রতি পদ্মা-কুমার নদসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বালু দিয়ে নিচু ও জলাভূমি ভরাটের ব্যবসা চলছে। রাতের আধারে নদীর পাড়ে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে ট্রলারে করে বিভিন্ন ঘাটে স্তপ করা হয়। স্তপকৃত বালু ট্রাকে করে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন হাজার-হাজার ট্রলার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রায় সারা বছরই অবৈধভাবে এ চক্রটির বালু উত্তোলন করলেও সাম্প্রতিক মহামান্য আদালত থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা মোবাইল কোর্ট বন্ধের নির্দেশনার পর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা উত্তোলনকৃত বালু দিয়ে দূরবর্তী এলাকার নিচু ও জলাভূমি চুক্তিভিত্তিক ভরাট করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছে। কিছুদিন ধরে চক্রটি প্রশাসনের কড়া দৃষ্টিতে ঘাপটি মেরে থাকলেও বতর্মান আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ফরিদপুর সদরের হাজীগঞ্জ,নর্থচ্যানেল,ডিগ্রিরচর ও কানাইপুরের তেতুলতলায় পদ্মা-কুমার নদীর পাড়ে ট্রাকের মাধ্যমে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ভরাটের চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় বালু পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকে বালু সরবরাহ করা হয়।

রাতদিন সমানভাবে বালু তোলার কারণে অসাধু স্বার্থান্বেষী চক্রের পকেট ভারী হলেও নদী-তীরবর্তী কৃষকদের ফসলি জমি, নদী শাসন এবং নদীপাড়ের বাসিন্দারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। প্রত্যক্ষদর্শী শেখ দুলাল জানান, প্রায় প্রতি বছর নদীর পানি কমার পর পরই এ চক্রটির মদদে বিভিন্ন সময়ে নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। কখনো মোটা পাইপ স্থাপন করে ড্রেজারের মাধ্যমে পদ্মা-কুমার নদী থেকে ২-৩ কিলোমিটার দূরেও বালু সরবরাহ করা হয়ে থাকে। লাখ লাখ টাকা চুক্তিতে পুকুর, নিচু এলাকা এবং জলাভূমি ভরাট করার কাজে এ বালু ব্যবহার হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদ্মার চরের কয়েকজন জানান, নদীভাঙনের পর স্থায়ী চর জেগে ওঠায় তারা পুণরায় নিজের জমিতে নতুন করে বসতি স্থাপন করছেন। এভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর পাড় ভেঙে তাদের হুঁমকির মুখে পড়তে হবে। এভাবে চলতে থাকলে এলাকার অবাদি জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া অবৈধ বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, আমাদের কাছে কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত অবৈধ স্থাপনা, অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের খবর আসছে। সাম্প্রতিক হাইকোর্ট থেকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দ্বারা মোবাইল কোর্ট বন্ধের নির্দেশনার কারণে আপাতত আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারছিনা। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে আমরা হয়তো ব্যবস্থা নিতে পারবো।

স/এষ্