মোঃরাজিব তালুকদার
ঝালকাঠির রাজাপুরে গত একমাস যাবত পুলিশের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। এতে বেশকিছু বড় মাদক কারবারিকে ধরতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এতে আতংকিত মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছেড়েছে। ফলে উপজেলাবাসীর মধ্যে শস্তি ফিরে এসেছে। ঝালকাঠির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া সার্কেল) মোঃ মোজাম্মেল হোসেন রেজার নেতেৃত্বে ও রাজাপুর থানার চৌকস ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে কঠোরভাবে মাদক দমনে নিরালসভাবে কাজ করার ধারাবাহিকতায় রাজাপুর থানা পুলিশ গত একমাসে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান করে মাদক স¤্রাট রিয়াদ তালুকদারসহ অন্তত ২০ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস থানা দালাল মুক্তসহ টাউট বাটপারদের থানা থেকে বিতারিত করায় তাকে নানাভাবে হয়রানিও করা হচ্ছে।
এসব অভিযানে হাজার বোতল এ্যলকোহল (রেক্টিফাইড), ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজা সহ বেশকিছু অবৈধ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে পুলিশ। সবশেষ রাজাপুরে মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত রিয়াদ তালুকদার ও তার প্রধান সহযোগী পলি আক্তারকে পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা পর্যটন এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সহকারি পুলিশ সুপার রাজাপুর-কাঁঠালিয়া সার্কেল মোজাম্মেল হোসেন রেজা। গ্রেপ্তার হওয়া রিয়াদ তালুকদারের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, অপহরন ও মাদক মামলা সহ অন্তত ৬টি মামলা রয়েছে। রিয়াদ উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খসরু তালুকদারের ছেলে। ও তার প্রধান সহযোগী পলি আক্তার উপজেলার পুটিয়াখালী গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। রিয়াদ ও তার সহযোগীকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় সহকারি পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন।
গ্রেপ্তার হওয়া বাকী মাদক ব্যবসায়ি ও সেবনকারিদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এতে মাদক কারবারিরা যেমন এলাকা ছেড়েছে পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে শস্তি ফিরে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাদক সেবনকারি বলেন, বর্তামানে রাজাপুরে মাদকের বাজার মন্দা। গত কিছুদিন যাবত উপজেলা সদরের কোথাও কোন মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে না। গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল সংগ্রহ করতে পার্শবর্তী উপজেলায় যেতে হচ্ছে।
এভাবে চলতে থাকলে মাদক সেবন ছেড়ে দিতে হবে বলেও জানায় এই মাদক সেবনকারী। এদিকে নারী পুলিশ মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ায় এখন নারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা পরিচালনা করছে, এদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি সুশীল সমাজের। রাজাপুর ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা বলেন, পুলিশের এই মাদক বিরোধী অভিযানকে সাধুবাদ জানাই। আশাকরি এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবেই আমাদের যুব সমাজ মাদকের এই নীল ছোবল থেকে রক্ষা পাবে। রাজাপুর থানা পরিদর্শক শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, যেখানেই মাদক সেখানেই পুলিশ। এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা এই মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবো। মাদকের সাথে জড়িতরা আশাকরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তা না হলে এর জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
স/মা

