পুলিশের সরঞ্জামাদি সহজলভ্য হওয়ার কারণে ভুয়া পুলিশ অথবা ডিবি পরিচয়ে প্রতারণা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, এ সকল সরঞ্জাম বিক্রির আগে ক্রেতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কি না তা নিশ্চিত হয়ে বিক্রির পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে ১০ ভুয়া ডিবি পুলিশকে আটক করার পর রোববার সংবাদ সম্মেলন করে গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের এসব বলেন।
আব্দুল বাতেন বলেন, আটকৃতরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মানুষজনকে গাড়িতে তুলে টাকা পয়সা আদায় ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতির সাথে জড়িত ছিল।
আব্দুল বাতেন জানান, সবুজবাগ এলাকায় একটি চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, এ সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালায় ডিবি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডিবির সদস্যরা ৩টি মাইক্রোবাসসহ ১১ জনের উপস্থিতি দেখে। আসল ডিবির সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে গাড়ি তল্লাশি করলে ৫ রাউন্ড গুলি, ৩টি ম্যাগজিন, ৩টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশি পাইপগান, ১টি ওয়াকিটকি, ৫টি ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, ৫টি হ্যান্ডকাপ ও ১টি ব্যগ উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তারা গভীর রাতে নির্জন স্থানে অবস্থান করে মানুষজনকে গাড়িতে তুলে টাকা-পয়সা রেখে ছেড়ে দেয়। দিনের বেলায়ও টাকা বহনকারী কোন ব্যক্তিকে লক্ষ করে ছিনতাই করে।
কীভাবে আসল ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ও ওয়াকিটকি তারা পেল? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বলেন, এসব সরঞ্জাম রাজধানীর কিছু স্থানে বিক্রি হয়। কিন্তু তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিশ্চিত হয়ে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া আছে। তারা নিয়ম অমান্য করে বাইরের কারো কাছে বিক্রি করছে কিনা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
আটককৃত ডিবি পুলিশের ভুয়া সদস্যরা হলো, আকাশ রহমান মিন্টু, লিটন শেখ, মাসুম গাজী, ফারুক হোসেন, আব্দুল মালেক মিয়া, আফসার আলী, ইউসুফ কাজী, আলাউদ্দিন আলী, মাসুদ পারভেজ, শাহীন কাজী ও আসলাম শেখ।
স/শা

