ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ জানুয়ারি ২০১৮
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

পাবনার চরজুড়ে চোখ ধাঁধানো মাসকালাইয়ের আবাদ

admin
জানুয়ারি ৪, ২০১৮ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পদ্মা-যমুনা নদী বেষ্টিত পাবনার পাকশী ও কোমরপুর পদ্মা নদীর চরে এবার শত শত একর জমিতে মাসকালাইয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে। চর দুটির বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে মাসকালাইয়ের ক্ষেত। এ এলাকার কৃষকরা প্রতিবছরের মতো এবারো রেকর্ড পরিমাণ জমিতে মাসকালাই আবাদ করেছে।

আর এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষক তাদের আবাদকৃত মাসকালাই ঘরে তুলতে সক্ষম হবে। চলতি বছর দুই দফা বন্যার কারণে এবার মাসকালাই ঘরে উঠতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে কৃষকরা জানান।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী এবং সদর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলসহ পদ্মা ও যমুনা বেষ্টিত অন্যান্য চরাঞ্চলেও রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কৃষক মাসকালাই আবাদ করেছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো।

উপজেলার হাটবাজারে এই কালাইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। নদীকূলীয় মানুষগুলো শীত মৌসুমে খাদ্য তালিকার মাসকালাই বাধ্যতামূলক রাখেন। প্রতিকেজি মাসকালাই হাটে বাজারে ৬৫-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও যমুনা নদীকূলীয় মানুষগুলো তাদের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানের হাট বাজারে আমদানি করেন।

পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকার কৃষক আনোয়ার আলী জানান, সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে মাসকালাই আবাদ করেছেন। ফলন হয়েছে বেশ ভালো। একই এলাকার রওশন আলী জানান, ৭ বিঘা জমিতে মাসকালাই আবাদ করেছেন। ফসলও হয়েছে বেশ ভালো। এই ফসল চাষে উৎপাদন খরচ কম, লাভ বেশি।
গ্রামগঞ্জে এই কালায়ের চাহিদা বেশ ভালো। চলাঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক চরের বিশাল মাঠজুড়ে মাসকালাই আবাদ করেছে।

এ বিষয়ে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডা. বিপ্লব কুমার সাহা জানান, মাসকালাই একটি একটি প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। যা মানব দেহে আমিষের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও খাদ্য হজমে সহায়তা করে। এ জাতীয় ডাল মানব দেহের কোন ক্ষতি সাধন করে না।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিভুতি ভূষণ সরকার জানান, এবার জেলার ৯ উপজেরায় ৭,৫০৫ হেক্টর জমিতে মাসকালাই আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবনা সদর ও ঈশ্বরদীতে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩,০৪০ হেক্টর জমিতে। এ দুটি উপজেলার পদ্মা ও যমুনা চরাঞ্চলেই বেশি মাসকালাই আবাদ হয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তা জানান। মাসকালাই একটি ডাল জাতীয় শস্য। মাসকালাই যে কোন জায়গায় আবাদ করা যায়। মাসকালাই বপনের ৮৫-৯০ দিনের মধ্যে গাছে ফলন আসে।

ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কৃষক মাসকালাই আবাদ করে। এমনকি মাসকালাই রাস্তার পাশে রোপণ করলেও ফলন পাওয়া যায়। মাসকালাই চাষে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। আগাছা পরিষ্কার করতে হয় না। পোকামাকড় কম হয়। ফলে উৎপাদন খরচ খুবই কম। সব দিক থেকেই মাসকালাই আবাদে কুষকের আগ্রহও বেশি বলে ওই কৃষিকর্মকর্তা জানান।

স/এষ্