মো: মোছাদ্দেক হাওলাদার , বরিশাল : গ্রামে গ্রামে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে নীড়ে ফেরা পাখির দেখা এখন আর তেমন মেলে না। গাছে-গাছে কিচির-মিচির শব্দও আর তেমন শোনা যায় না। গ্রীষ্ম, কী ঘোর বর্ষা, হাঁড় কাপানো শীত কিংবা বসন্ত, পাখির কলতানে আর তেমন মুখরিত হয় না এখানকার গ্রামগুলো।
দোয়েল, কোকিল, ফিঙে, চড়ুই, টিয়াসহ গ্রাম বাংলার এসব পাখি যেন চোখেই পড়ে না। হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়ের চিরচেনা এসব পাখি। তাই এসব দেশীয় পাখি রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার।
পাখির জন্য নিরাপদ আশ্রয় নির্মাণে তিনি গাছে গাছে বেঁধে দিয়েছেন মাটির কলস। তৈরি করছেন পাখিদের জন্য কৃত্রিম বাসা। সেইসাথে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শ্লোগান সংবলিত বিলবোর্ডও লাগানো হয়েছে। স্মপ্রতি পাখিদের অভয়াশ্রম গড়তে বেছে নিয়েছেন উপজেলার শৌলজালিয়া-বেতাগী খেয়াঘাট সংলগ্ন বিষখালী নদীর বুকে জেগে ওঠা নৈসর্গিক চরকে। ইতিমধ্যে ৩০ বছর পূর্বে ১০৩.১৩ একর এলাকাজুড়ে জেগে ওঠে এই চরকে ‘পাখি অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে ।
গত শুক্রবার সকালে শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তবায়নাধীন ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত¡াবধানে এ ‘পাখি অভয়ারণ্য’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউএনও সুফল চন্দ্র গোলদার।বঙ্গোপসাগর থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে শাখা নদী ও বিষখালী নদীর বুকে জেগে ওঠা নৈসর্গিক শৌলজালিয়ার চরের চার পার্শ্বে নদীবেষ্টিত এবং হাজারও ছইলা গাছ ও বৃক্ষ-লতায় ঘেরা অপরূপ এ চরকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করায় পরিবেশ ও পাখিপ্রেমীসহ উপজেলার বিভিন্ন মহল উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকে কৃতজ্ঞতা জানান।
কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘পাখি প্রকৃতির অন্যতম সম্পদ। পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা না গেলে ধীরে ধীরে সব প্রজাতির পাখিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই আমি পাখিদের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। সবাই এগিয়ে আসলে সব পাখিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন বলেন, পাখি ও প্রকৃতি আমাদের জীবনেরই একটি অংশ। শৌলজালিয়া চরকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা ও পাখিগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জীববৈচিত্র রক্ষায় সবাইকে পাখির প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর আহব্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- শৌলজালিয়া ইউপি সদস্য মো. সামছুল আলম, মো. খবির উদ্দিন খান, সৈয়দ আ. কাইউম, মো. সগির হোসেন, মো. আ. ছালাম গাজী, মো. রিপন হাওলাদার প্রমুখ।
স/ম

