পাইকগাছা প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ। ঔষধি গুনাগুন, সুস্বাদু ও তেমন কোন উৎপাদন খরচ না হওয়ায় এলাকায় সজিনার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। একক কোন চাষাবাদ না হলেও উপজেলার ব্যবহার অনুপযোগী প্রতিটি স্থানে সজিনার আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর উৎপাদন বেশি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। পুষ্টিসমৃদ্ধ মৌসুমি সবজির মধ্যে সজিনা অন্যতম, যা দেশের সর্বত্রই পাওয়া যায়। ড্রামস্টিক, মরিঙ্গাসহ দেশ-বিদেশে সজিনা বহু নামে পরিচিত হলেও বাংলাদেশে এক নামেই সকলেই সজিনা নামেই পরিচিত। সজিনার বহুবিধ ঔষধি গুনাগুন রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সুত্রমতে-এ্যানিমিয়া, জয়েন্ট পেইন, ক্যান্সার, কোষ্টকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, ডায়রিয়া, হার্ড পেইন, ব্লাড পেসার, কিডনিতে পাথর, মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরাসহ বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুন রয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান। সজিনা গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্ঠিমান সম্পন্ন উদ্ভিদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুন সম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনা গাছকে যাদুর গাছ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। নবলোকের প্রকাশিত “নিউট্রিশন ফ্যাক্টর অফ মরিঙ্গা লিপ”-এ উল্লেখ করা হয়েছে সজিনার পাশাপাশি সজিনা পাতা পুষ্ঠি ঘাটতি পুরনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক বিদ্যমান। শরীরে কোলস্টরলের মাত্রা ঠিক রাখে, হজমের সাহায্য করে, শরীরে পুষ্ঠি ও শক্তি যোগায়, বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং সজিনার গুড়ার পেষ্ট ত্বকের জন্য উপকারী ও লিভার এবং কিডনি সুরক্ষিত রাখে। আমাদের দেশে সজিনা সচারাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে, মৌসুমি এবং ১২ মাসের। ১২ মাস জাতের তেমন বেশি আবাদ না হয়ে থাকলেও মৌসুমি জাতের বেশিরভাগ আবাদ হয়ে থাকে। এসব নানাবিধ গুনের কারনে খুলনার পাইকগাছায় প্রচুর পরিমাানে সজিনার আবাদ হয়ে থাকে। একক কোন চাষাবাদ কোথাও না হলেও উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে অন্যান্য ফসল আবাদের অনুপযোগী যেমন ক্ষেতের আইল, ঘেরের বাঁধ এবং রাস্তার দু’পাশ দিয়ে মৌসুমি সজিনার আবাদ রয়েছে। সজিনা চাষে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে গত বছর সরকারি রাস্তার দু’পাশ দিয়ে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নে দেড় হাজার, কপিলমুনি তিন হাজার, লতা দুই’শ, লস্কর দেড়’শ, সোলাদানা তিন’শ, গদাইপুর চার’শ, রাড়–লী এক হাজার, চাঁদখালী ছয়’শ ও গড়ইখালী ইউনিয়নে আট’শ সহ ৭ হাজার ৯৫০ টি ডাল রোপন করা হয়। যার ফলে বিগত বছরের চেয়ে এবছর সজিনার উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে। কোন কোন গাছে সজিনা ধরা শুরু করেছে। এ ব্যাপারে কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, চারা ও ডাল কেটে রোপন করার মাধ্যমে সজিনা দু’ভাবেই আবাদ করা যায়। উৎপাদন কোন খরচ না হওয়ায় এবং অল্প দিনেই বাজারজাত করা যায় এজন্য সজিনা অধিক লাভজনক। সজিনার বহুবিধ গুনাগুন থাকায় সজিনা চাষে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে প্রতিবছর সজিনার ডাল রোপন করা হয়। প্রাকৃতিক দূর্যোগে সজিনার তেমন কোন ক্ষতি করতে পারে না এজন্য বিগত বছরের চেয়ে এ বছর সজিনার উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষি অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা জানান।
স/শা

