দুই বাসচালকের সাজার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষ।
পরিবহন ধর্মঘটের কারণে নাটোর থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস-ট্রাক ছেড়ে যায়নি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন পথের যাত্রীসহ ব্যবসায়ীরা। ধর্মঘটের বিষয়টি অনেকেই অবগত না থাকায় সকাল থেকে বাসস্ট্যান্ডে ভিড় করতে থাকে যাত্রীরা। কিন্তু যানবাহন চলাচল না করায় তাদের রিকশা, সিএনজি বা বিকল্প যানবাহনে করে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে । কেউ কেউ ট্রেনে যাওয়ারও চেষ্টা করছেন। এতে করে ট্রেনের ওপর চাপ বাড়ছে। আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে আটকে পড়েছে মাছ, সবজিসহ পণ্যবাহী ট্রাক। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গুরুদাসপুরের পিয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, গতকাল সোমবার নাটোরের পাটুল হাটে এক ট্রাক পিয়াজ কিনেছেন। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে সেই পিয়াজ ঢাকায় নিয়ে যেতে না পারায় দুঃশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
নলডাঙ্গার শেখপাড়া গ্রামের মাছ চাষী আখতারুজ্জামান জানান, ঢাকার কাওরান বাজারে মাছ বিক্রির উদ্দেশে তিনি পুকুর থেকে এক ট্রাক মাছ উত্তোলন করেছেন। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে মাছ ঢাকায় নিতে পারলেন না। অবশেষে স্থানীয় বাজারে কম দামে মাছগুলো বিক্রি করেছেন। ধর্মঘটের বিষয়টি তার জানা ছিল না।
বড়হরিশপুর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, দূরপাল্লার কোন বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি। কাউন্টারের সামনে যাত্রীরা বসে রয়েছেন। যে সব বাস অগ্রিম টিকিট বিক্রি করেছিল সেগুলো ফেরত নেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালের অধিকাংশ বাস কাউন্টার খোলা থাকলেও সেগুলো থেকে কোন টিকিট বিক্রি হচ্ছে না। যারা টার্মিনালে এসেছেন তাদের কেউই জানতেন না যে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। বাস টার্মিনালে ও আশেপাশে রাস্তার ওপর শত শত মাল বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। ধর্মঘটের কারণে তারা কাঁচামাল নিয়ে গন্তব্যস্থলে পৌছাতে পারছেন না।
বড়হরিশপুর বাস টার্মিনালে ন্যাশনাল ট্রাভেলসের মাষ্টার ফিরোজ হোসেন জানান, সকাল থেকেই ঢাকাগামি অনেক যাত্রী তাদের কাউন্টারে এসেছেন। গাড়ি চলাচল না করায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। যারা গতকাল অগ্রিম টিকেট কিনেছিলেন তাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
নাটোর জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কার্ভাডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ ইয়াকুব আলী জানান, ধর্মঘটের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ আন্তঃজেলা বাস, ট্রাকসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলাতেও কোন বাসসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে জেলার সঙ্গে জেলার ও উপজেলার সঙ্গে উপজেলার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
নাটোরের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, ধর্মঘটের কারণে কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ সজাগ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে এই রুটের সকল যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সকালের দিকে কিছু বাস ও ট্রাক চলাচল করতে দেখা গেছে।
স/শা

