নেত্রকোনায় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ
পিয়াস আহমদ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জের মাঝখানে ইসলামপুর নামক স্থানে ২৩ নম্বর রেলওয়ে ব্রিজ শুক্রবার রাতে ভেঙে গেছে বলে জানান বারহাট্টার রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার গোলাম রব্বানি।মোহনগঞ্জ স্টেশনে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেন ও বারহাট্টা স্টেশনে ২৬২ নম্বর লোকাল ট্রেন আটকা পড়ে আছে। শনিবার সকাল থেকে নেত্রকোনার সাথে ময়মনসিংহ ও ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে কলমাকান্দার প্রধান সড়কে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেত্রকোনা জেলা সদর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাহাড়িঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি, বারহাট্টা এবং মদন উপজেলায় প্রায় ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি। সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ৩৬ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি অফিস, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর তলিয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আগামী দু’দিন আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। যার ফলে আগামী দু’দিন বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন তরফ থেকে এপর্যন্ত বন্যাদূর্গত মানুষদের জন্য ১৮৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রায় ১৬১৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হবে।
এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ৬৮ মেঃ টন চাল, ২,৫০,০০০ টাকা ও ২,০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপ-বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্হিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন কর্তৃক সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যা দূর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে।
স/বি

