নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়নগঞ্জ সদর থানাধীন নতুন চর সৈয়দপুরে হাতুড়ে ডাক্তার লোকমান দীর্ঘদিন ধরে নারী ও শিশুদের ক্ষতিকর চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের মৃত্যুর মুখে ফেলে দিচ্ছে । মানুষ অসুখে হলে ডাক্তারদের নিকট যাবে এটাই স্বাভাবিক । ডাক্তার রোগীকে দেখে রোগীর প্রয়োজন অনুয়ায়ী ব্যবস্থাপত্রে ঐষধ লিখে দিবে আর রোগীরা দোকান থেকে কিনে খাবে । গ্রামের এসব কথিত ডাক্তারদের কারনে আজও রোগীরা চিকিৎসার নামে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এমনকি রোগীরা অন্ধ বিশ্বাসে এই ধরনের গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শে ঐষধ সেবন করে অজান্তে রোগীরা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচেছ। অসুস্থদের অভিভাবকরা চিকিৎসার জন্য প্রথমে নিকটস্থ ডাক্তারখানায় যায়। সদর উপজেলায় যেতে সময় স্বল্পতা কিংবা , গাফিলতি এবং কথিত ভুয়া ডাক্তারদের প্রতি বিশ্বাসের কারনে গ্রামের সাধারন মানুষ ছুটে যান এসব ভুয়া ডাক্তারদের কাছে। নারায়নগঞ্জের চর সৈয়দপুরে এমন আরো ৫-৬টি ফার্মেসী রয়েছে তারা যেকোন রোগীদের সরাসরি ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিচ্ছে এবং দেদারছে ঔষধ বিক্রি করে চলছেই।
স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, কথিত ডাক্তার লোকমান নতুন সৈয়দপুরে ফার্মেসী দিয়ে প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও ক্ষতিকারক ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে হাতিয়ে নিচেছ নগদ অর্থ । রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেখে যার ঔষধ বিক্রি করার কথা সে আজ নামের আগে ডাক্তার লাগিয়ে সেজেছেন ডাক্তার। শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দোকান খুলে এমবিবিএস ডাক্তারদের মত সরাসরি রোগীদের ঔষধ দিচ্ছে। যা আইনত বেআইনী। ছোট ছোট বাচ্চা রোগীদের ক্ষতিকর ট্যাবলেট কর্টান ও দামি দামি এ্যান্টিবায়েটিক খাওয়াতে অভিভাবকদের বাধ্য করেন এই ভুয়া ডাক্তার। গত সাপ্তাহে নতুন সৈয়দপুর এলাকার মনির উদ্দিনের ৭ বছরের মেয়ে আফিয়া আনজুম ফিদা জ্বরে আক্রান্ত হয়। তখন তাকে এই ডাক্তার বিভিন্ন প্রকার ট্যাবলেট পাশাপাশি ১০টি কর্টান ৫(প্রেডনিসোলন) ট্যাবলেট খেতে দেয়। ফিদার অভিভাবকরা ফিদাকে ডাক্তারের কথামত কর্টানসহ অন্যান্য ঔষধ খাওয়ান। ঔষধ সেবন করার পর পর ফিদার মারাতœক পেট ব্যাথা, বমি ও মাথা ঘুড়ে দাঁড়াতে পারেনা। শহরে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান এই ঔষধ শিশুদের জন্য ক্ষতিকর । সাধারনত জ্বর হলে প্রথমে নরমাল ঐষধ খেতে হয় । আর বর্তমানে ভাইরাস জ্বর ৭ সাপ্তাহের বেশী থাকলে রক্ত পরিক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ খাওয়া ও বিশ্রায় নিতে হয় । কিন্তু যতো জটিল রোগী হোক তাকে সরাসরি ঔষধ দিবেই এই ভুয়া ডাক্তার । লোকমান সাটিফিকেট বিহীন ডাক্তার হয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারনা করিলেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসন আজও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসা রোগী ষষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী আফিয়া আনজুম ফিদার পিতা মনির উদ্দিন কথিত ডাক্তার এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়নগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জনের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
নারায়নগঞ্জ পলি ক্লিনিক ও জেনারেল হাসপাতালের এসডি ডা: শাহনাজ বলেন, কর্টান হলো জীবন রক্ষাকারী ঔষধ । যখন কোন রোগীর কোন ঔষধে কাজে আসেনা তখন এই কর্টান ট্যাবলেট রোগীকে শেষ ভরসা হিসাবে খাওয়ানো হয়। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার ছাড়া এই ঔষধ লিখা বা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অধিকার রাখেনা গ্রাম্য ডাক্তাররা। গ্রাম্য ডাক্তাররা শুধুমাত্র রেজিষ্টার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুয়ায়ী ঔষধ বিক্রি করতে পারবে যদি তার লাইসেন্স থাকে।
নারায়গঞ্জ সদর সিভিল সার্জন ডা: মো: এহসানুল হক বলেন, গ্রাম, পাড়া মহল্লায় যারা ফার্মেসী দিয়ে বসে আছে তারা ডাক্তার না। তারা রোগীকে চিকিৎসাও দিতে পারবেনা। শুধুমাত্র রেজিষ্টার্ড ডাক্তারদের দেয় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধ সর্বরাহ করতে পারবে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স/রহ

