তাপস কুমার, নাটোর:
স্কুলে যাবার সময় এক ছাত্রীকে বখাটের পথরোধ। এরপর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে রাজি না হওয়ায় রাস্তায় প্রকাশ্য যৌন হয়রানি করে সেই বখাটে। আর এ সমস্ত দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছে আরেক বখাটে। এই ভিডিওটি এখন এলাকার অনেকের মোবাইলে। নাটোর সদর উপজেলার দত্তপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে এভাবেই যৌন নির্যাতন করে মোবাইলে ধারণ করা সেই ভিডিও প্রচার করেছে একই স্কুলের দশম শ্রেণীর দুই ছাত্র। এই ঘটনার পর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে ওই ছাত্রীর।
হয়রানির শিকার ওই ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দত্তপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র মুক্তার হোসেন(১৬) স্কুলপথে প্রতিনিয়ত ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করত। পরে বিষয়টি ওই ছাত্রীকে তার বাড়িতে জানালে তার অভিভাবকরা মুক্তারের পিতা ইব্রাহিম হোসেনকে জানায়। পিতার কাছে অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মুক্তার। এর জেরে গত ১৬ জুলাই পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় মুক্তার ওই ছাত্রীর পথরোধ করে বিচার দেয়ার জন্য অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে ও তার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে। সে সময় ছাত্রীটি রাস্তা থেকে নেমে যেতে লাগলে তাকে আটকে যৌন হয়রানি করে। সমস্ত ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে মুক্তারের সহযোগী মামুন। পরিবারকে অভিযোগ দেওয়ার খেসারত হিসাবে ওই দিন ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি এলাকার সকলের মোবাইলে স্থানান্তর করে দেয় মুক্তার ও মামুন। পরদিন আবারো ওই ছাত্রীর পথরোধ করে মুক্তার যৌন নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে পুনরায় যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। তার প্রস্তাবে রাজী না হলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। পরে ওই ছাত্রী পালিয়ে আসে। এরপর থেকে ভয়ে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
এব্যাপারে দত্তপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রমজান আলী জানান, নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য পরমর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি আগামী সোমবার বিদ্যালয়ের পরিচলনা পর্ষদ ও শিক্ষকরা বৈঠকে বসে অভিযুক্ত মুক্তার ও মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় নির্যাতিত ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত মুক্তার ও মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
নাটোর সদর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, রাতে অভিযোগ পাওয়ার পরই মামলা নেওয়া হয়েছে। পাশপাশি অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।
স/এষ্

