ঢাকাসোমবার , ৮ মে ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

নাটোরে ধান সংকটে মিল বন্ধ, চালের বাজার আকাশচুম্বী!

admin
মে ৮, ২০১৭ ৮:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তাপস কুমার, নাটোর:
নাটোর সদরসহ ৭টি উপজেলায় চালের দাম প্রতিনিয়ত হু হু করে বাড়ছেই। বাজারে পর্যাপ্ত চাল না থাকার গুজবে অনেক ক্রেতা ছুটে যান চাল কিনতে। প্রতিকেজি চালের দাম ৫০ টাকা, দাম শুনেই চমকে উঠেন অনেকেই । মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে নাটোরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা করে বেড়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন মধ্য ও নি¤œ আয়ের মানুষরা।
তাদের অভিযোগ সব ধরনের চালের দাম প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা আমদানী না থাকার অজুহাত দেখিয়ে চালের আকাশচুম্বী দাম হাঁকছেন। ভারী বর্ষণ ও বন্যাকে পুঁজি করে রমজান মাসের আগেই চালের দাম বাড়িয়ে দিতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেছেন।
সোমবার সরেজমিনে নাটোরে চালের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, মোটা গুটি স্বর্ণা ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে পাইকারি কেজিতে ৩৮ থেকে ৩৯ টাকায়, খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৪১ থেকে ৪২ টাকায়, যা ক’দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকায়। চিকন স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৮ টাকায়। বড়-ছোট দোকানভেদে মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, পাইজাম ৫২ টাকয়। অথচ ১০দিন আগেও প্রকারভেদে সব ধরনের চালের দাম ৫ থেকে ৭ টাকা কম ছিল।
শহরের কানাইখালীর আড়তে চাল কিনতে আসা ক্রেতা রিয়াজ হোসেন লিটু জানান, চাল পাওয়া যাচ্ছে না শুনে রবিবার সকালে তিনি বাজারে আসেন। বিভিন্ন দোকান ঘুরে তিনি মোটা স্বর্ণা চাল কিনেছেন প্রতি কেজি ৪২ টাকা দরে। অপর ক্রেতা শাহেদুল আলম রোকন একই অভিযোগ করে বলেন, তাকে পাইজাম চাল কিনতে হয়েছে প্রতি কেজি ৫২ টাকা দরে। অথচ সপ্তাহখানেক আগে একই চাল তিনি কিনেছেন ৪৩ টাকা দরে।
এদিকে চালের দাম বাড়ার জন্য খুচরা, পাইকারি ও মিলাররা একে অপরকে দায়ী করছেন। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বাড়ার কারণে তারাও বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। আবার পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকরা চালের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন, একই সঙ্গে দামও বাড়িয়েছেন। ফলে তাদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কেনার কারণে বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
গত ক’দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পানিতে শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নাটোরের চলনবিলের বিস্তীর্ন এলাকার প্রায় ৩০০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। আর এটাকে পুজি করে ব্যবসায়ীরা কৃত্তিম সংকট দেখিয়ে চাউলের বাজার অস্থিতিশীল করেছে। একমাসের ব্যবধানে দু’দফা চালের চাউলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ শামীম জানান, নতুন ধান বাজারে উঠলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ সব নতুন ধানের বেশির ভাগই চিটা ও ভেজা। এছাড়া এখনও সম্পূর্ণ ধান কাটা হয়নি।
অপর ব্যবসায়ী দুলাল জোয়ার্দার জানান, ধানের গুদাম খালি ও মিলেও কোন ধান মজুদ নেই। ধানের অভাবে নাটোরের ৬টি আটো রাইসমিল ও চাতালসহ হাসকিং মিলের সব কয়টি বন্ধ রয়েছে।
ধান কল মালিক মোবারক হোসেন ও শরীফুল ইসলাম জানান, ধান সংকটের কারনে তাদের সহ অধিকাংশ মিল বন্ধ রয়েছে। নতুন ধানও প্রয়োজনীয় পরিমান পাওয়া যাচ্ছেনা। হাটে-বাজারে ওঠা ধানেও ফলন নেই এবং ভেজা রয়েছে। তবে রেদ্রৌজ্জ্বল আবহাওয়া বিদ্যমান থাকলে ধানকলগুলো আবার সচল হয়ে উঠবে। তখন চালের বাজার কমে আসবে।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৬টি আটো রাইসমিল ও চাতালসহ হাসকিং মিল (ধান ভাঙ্গানো কল) রয়েছে পাঁচ শতাধিক। ধান না থাকায় প্রায় সবগুলো মিলেই চাল উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ কারনে চালের বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ দিকে সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করলেও চালের বাজার অস্থিতিশীলের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন নাটোর জেলা চাউল কল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, দুর্যোগের কারনে চালের সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন ধান উঠলেই চালের দাম কমে আসবে। ধান না থাকায় চালের দাম একটু বেড়েছে ।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় নাটোরে বড় ধরনের কোন বিপর্যয় না ঘটলেও প্রচার-প্রচারণায় গুজবের সৃষ্টি হয়েছে। এই কারনে চালের বাজারে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের বিষয়টি তার জানা নেই। ইতিমধ্যে নতুন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অচিরেই দাম কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

স/এষ্