তাপস কুমার, নাটোর:
গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমে জনজীবন যখন অস্বস্তিতে, তখন বৃষ্টি শহরবাসীকে অনেকটাই শান্ত ও শীতল করে তুলেছিল। কিন্তু ঈদ মার্কেটে সে শীতলতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বাইরের শীতলতার চেয়ে ভেতরের উষ্ণতা ছিল বেশি। ভিড়, চড়া দাম এড়াতে মধ্যবিত্তরা আগেভাগেই সেরে ফেলতে চাইছেন কেনাকাটা। কিন্তু শুরুতেই ঈদের বাজারে দাম অনেকটা চড়া।
তবে শত অভিযোগের পাশ কাটিয়ে বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে ঈদ আসন্ন। নাটোরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, আকর্ষণীয় পোশাকের সংগ্রহ রয়েছে প্রতিটি দোকানেই। লোকসমাগম বেশ ভালোই। এখনো পুরোদমে কেনাকাটা শুরু না হলেও ক্রেতারা মার্কেট ঘুরে ঘুরে দেখছেন, দাম সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। পোশাক পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন অনেকে। তবে চাকরিজীবীদের হাতে বেতন-বোনাসের টাকা আসলেই কেনাকাটার ধুম পড়বে। বিক্রেতারা আরো জানান, প্রতিবছরই এক শ্রেণির ক্রেতা রোজার আগে বা শুরুর দিকে কেনাকাটা করে ফেলেন। তাদের কথা মাথায় রেখেই ইতোমধ্যে ঈদ পণ্যগুলো দোকানে তুলেছেন বিক্রেতারা। তারা সব শ্রেণির ক্রেতাদের জন্যই ঈদ পোশাক নিয়ে এসেছেন। যদিও আরো কয়েক ধাপে আসবে নতুন পোশাক। তবে শুরুতেই ক্রেতাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আশান্বিত করছে বিক্রেতাদের। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মতোই সব ধরনের কাপড়ের দাম গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি হাঁকা হচ্ছে। বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেল। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের ডিসপে¬¬ তুলেছে নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক, জুতাসহ অন্যান্য সামগ্রী। দোকানগুলোতে বিক্রয়কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবারের ঈদ-মার্কেটে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি বরাবরের মতোই ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, চীন পোশাকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে সর্বত্রই ভারতীয় ডিজাইনের কাপড় ও শাড়ির বেশি সংগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
কয়েক জন ক্রেতার সঙ্গে আলাপে জানা যায়, ঈদ সামনে রেখে ক্রমবর্ধমান ভোগান্তি শুরু হয়। তা এড়াতেই অনেকে আগেভাগে কেনাকাটা সারছেন তারা। ছেলে-মেয়ে আর স্বামী রফিকুল ইসলামকে নিয়ে নাটোরে মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছেন মনি। তিনি বলেন, রোজার মাসে শহরের অনেক পরিবর্তন আসে। শেষের দিকে ভিড় বেড়ে যায়। তখন কেনাকাটায় অনেক সময় নষ্ট হয় এবং বেগ পেতে হয়। এমনকি পছন্দের জিনিসটিও খুঁজে পেতে কষ্ট হয়। তাই আগেভাগেই কেনাকাটা সেরে ফেলছি এবার।
তবে কেনাকাটায় অভিজাত মার্কেট গুলোর তুলনায় কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই ফুটপাতগুলো। ক্রেতারা বলছেন, ফুটপাতের দোকানগুলোতে নিম্নধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের জিনিসপত্র বেশি পাওয়া যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভালো শার্ট, প্যান্ট, ছোটদের সব ধরনের পোশাক, সালোয়ার কামিজ, থ্রি-পিসও পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে।
নাটোরে উত্তরা সুপার মার্কেট, আব্দুল্লাহ সুপার মার্কেট, মন্দির মার্কেটের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখা যায়, ঈদ সামনে রেখে কসমেটিক্সের দোকান গুলোতেও বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা ভির করছেন। বিক্রেতারা দোকানে তৈরি পোশাক, থান কাপড়, জুতা- সেন্ডেলে ইত্যাদির সম্ভার গড়ে তুলেছেন।
বিক্রেতারা জানান, বেচাকেনা বলতে যাকে বোঝায়, তা এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। মানুষজন আসছেন। আর ক্রেতা যা আসছেন তাদের বেশিরভাগই কেনাকাটার চেয়ে দেখাদেখি ও দরদামের প্রতি বেশি আগ্রহী। যে কজন কিনছেন, তারা শিশু-কিশোরদের পোশাকের প্রতি মনোযোগী বেশি। তবে মানুষ আসছে, এটাই আশার কথা। ভাইবোন কসমেটিক্সে মালিক রিমন জানান, বিক্রি ভালো। গত কয়েকদিনের চেয়ে বেড়েছে, আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।
স/এষ্

